2 Answers

মিলাদঃ মিলাদ রাসুলুল্লাহ (সা.) করেছেন এর কোনো প্রমাণ নেই। তার পরবর্তী সময়ে সাহাবি বা তাবেয়িরা করেছেন এরও কোনো প্রমাণ নেই। চার ইমাম যারা মাশহুর ও প্রসিদ্ধ ওলামায়ে কেরাম ছিলেন, তারাও এটা করেছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই। মূলত এই কাজটি একেবারেই নতুন আবিষ্কৃত একটি বিষয়। তাই এটি বিদআত হওয়ার ক্ষেত্রে সামান্যতম কোনো সন্দেহ নেই বা সামান্যতম কোনো আপত্তি নেই।

নতুন ঘর উপলক্ষে দোয়ার অনুষ্ঠানঃ নতুন ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে মানুষকে খাবার খাওয়ানো বা মিষ্টি বিতরণের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায় না। তাই আলেমগণ বলেন, এটি ব্যক্তির নিয়তের উপর নির্ভরশীল। যদি এতে কেবল আনন্দ প্রকাশ ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে হয় তাহলে কোনও আপত্তি নাই। কিন্তু যদি নিয়ত থাকে মানুষের বদনজর বা হিংসা থেকে রক্ষা পাওয়া, তাহলে তা বিদআত।

ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন ঘরে দুই রাকাত শুকরানা নামায আদায় করবেন।

কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সামনে কোনো আনন্দের উপলক্ষ এলে দুই রাকাত শুকরানা নামায আদায় করতেন। যেহেতু নবনির্মিত ঘরটি আপনাদের জন্যে আনন্দের কারণ হচ্ছে, তাই আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় হিসেবে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করে নেয়া উত্তম।

তবে সুনির্দিষ্ট কোনো আয়োজন বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই অধিক পরিমাণে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা নতুন ঘরের জন্যে বারাকাতের কারণ। বিশেষ করে সূরা বাকারা ঘরে তিলাওয়াত করলে দুষ্ট শয়তান ও জিনের উপদ্রব থেকে মুক্ত থাকা যায়।

2366 views

নতুন ঘর বলতে কি নতুন থাকার ঘর নাকি সংসার শুরুর কথা বলেছেন এটি স্পষ্ট হলে ভাল হত। যদি নতুন ঘর মানে থাকার ঘর কে বুঝিয়ে থাকেন অথবা যেকোন একটিকে বুঝিয়ে থাকেন তাও কোন সমস্যা নেই। কারন আপনি আসলে একটা উপলক্ষ বোঝাতে চেয়েছেন হয়ত। 

এখন কথা হল, মিলাদ বা দোয়ার অনুষ্ঠান করা যাবে কি না। 

মিলাদ নিয়ে আমাদের আলেমদের মধ্যে দ্বিমত আছে। আর দোয়া যে কোন উপলক্ষেই  করাতে পারেন বা করতে পারেন। তবে এমন একটা অসুবিধা হয়, একজন বলেন যে করতে পারবেন আরেক জন বলবে যে করা যাবে না। এখন আপনি কোন দিকে যাবেন? আমি মনে করি আপনার এই জটিলতায় যাওয়ার ই দরকার নেই। আল্লাহ আমাদের হুজুরদের ভাল রিযিকের ব্যবস্থা এমনিই করেছেন। তাই আপনি এই দ্বিমত কাজে, মিলাদ জায়েজ নাকি না জায়েয এই জটিলতায় না ঢুকে কিছু ফকির মেসকিন, গরীব অসহায় মানুষ, দুস্থ প্রতিবেশি যারা একবেলা খাবার যোগাতে পারে না, এদের খাইয়ে দিন ঘরে এনে, আর আপনি নিজে নামাযের পর আপনার সার্বিক কল্যানের জন্য দোয়া করবেন আল্লাহর কাছে। এটি ভাল হবে।

পুনশ্চঃ ধর্মীয় আলেমদের সাথে আমার কথার দ্বিমত থাকতে পারে, আমি ধর্ম অনুযায়ী বলিনি, বাস্তবতা অনুযায়ী বলেছে। করনীয় আপনি ঠিক করবেন।

2366 views

Related Questions