2 Answers
পল্লিসাহিত্যের ৫টি উপাদান হচ্ছে -
- মৈমনসিংহ গীতিকা
- খনার বচন
- ছড়া
- পল্লিগান
- রূপকথা
- মৈমনসিংহ গীতিকা গান বলতে মৈমনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে বোঝায়।
- এই গানগুলো প্রাচীন কাল থেকে মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসছে।
-
১৯২৩ থেকে ১৯৩২ সালে ড.দীনেশচন্দ্র সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ করে সকলের সামনে নিয়ে আসেন।
- নেত্রকনা জেলার আইথর নামক স্থানের অধীবাসি চন্দ্রকুমার দে এসব গাঁথা সংগ্রহ করেছিলেন ।
-
মৈমনসিংহ গীতিকাতে ১০ টি গীতিকা স্থান পেয়েছে , যেমন- মহুয়া, মলুয়া এবং চন্দ্রবতীর মতো আরো কিছু গীতিকা।
- শীতিকার প্রধান বৈশিষ্ট্য পার্থিব জীবন।
- সাধারণত মৈমনসিংহ গীতিকার প্রায় গীতিকাই পালার জন্য মূখ্য বিষয় ।
- মৈমনসিংহ গিতীকায় পুরুষ চরিত্রের তুলনায় নারী চরিত্র প্রাণবন্ত
- মৈমনসিংহ গীতিকা ২৩টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে।
- ধারণা করা হয় মধ্যযুগে মৈমনসিংহ গীতিকার গীতিকাগুলি রচিত হয়েছে।
- খনার বচনের রচনাকাল সম্ভবত সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত দ্বিতীয় বিক্রমাদিত্যের রাজত্বকালে।
- অনুমাণ করা হয় ৮ থেকে ১২ শতকের মধ্যে খনার বচন রচিত হয়েছে।
- খনার বচন মূলত কৃষিভিত্তিক ছড়া।
- অনেকে মনে করেন , খনা নাম্নী জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারী , তবে এই নিয়ে মতভেদ আছে।
- অসহস্র খনার বচন যুগ যুগান্তর ধরে বাংলার জনজীবনের সাথে মিশে আছে।
- খনার বচন ৪ ভাগে বিভক্ত- (১) কৃষিকাজের প্রথা ও কুসংস্কার , (২) আবহাওয়া জ্ঞান , (৩) কৃষিকাজ ফলিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান , (৪) শস্যের যত্ন সম্পর্কিত উপদেশ।
- খনা নানা রকম প্রকৃতিক দুর্যোগের আন্দাজ করে ফসল রক্ষার জন্য অনেক বচন দিয়েছেন।
- খনার নিবাস ছিল অধুনা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসত সদর মহকুমার দেউলিয়া গ্রামে।
- খনা জীবনের নিত্যদিনের কলা ও রীতেকে সর্বস্তরে বিজ্ঞানভাবনায় নিয়ে আসেন।
- বরাহমিহির বা বররুচি-এর পুত্র মিহির তার স্বামী ছিল বলেও কিংবদন্তী আছে।
পল্লী সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটা বাংলা সাহিত্যের বিশাল অংশ জুড়ে আছে । পল্লী সাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি তার প্রবন্ধে পাঁচটি উপাদানের কথা বলেছেন,তথা
১:ছড়া ২: গান ৩: প্রবাদ-প্রবচন ৪: ডাকের কথা ৫: খনার বচন
খনার বচন ও - প্রবাদ-প্রবচন সম্পর্কে ১০ টি বাক্য আলোচনা করা হলো:
প্রবাদ- প্রবচন
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই।
ধরি মাছ না ছুঁই পানি
অভাগা যেদিকে চায় , সাগর শুকায়
আপনি বাঁচলে বাপের নাম
অর্থ অনার্থের মুল
অভাবে স্বভাব নষ্ট
অল্প বিদ্যা ভয়ংকর
অধিক সন্যাসীতে গাজন নষ্ট
আজকালের বদ্যি বুড়ি
নুন আনতে পান্তা পুরায়
খনার বচন:
ভাদরে করে করা রোপন ,সবংশে মরিল রাবন
বৈশাখের প্রথম জলে ,আশু ধান দিগুণ ফলে
আউশের ভুই বেলে, পাটের ভূই আটালে
যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য বাজার পূন্যে দেশ
আমে ধান, তেঁতুলে বান
খনা ডাকিয়া কন ,রোদে ধান ছায়ায় পান।
থেকে বলল না বয় হাল , তার দুঃখ সর্বকাল
যদি বর্ষে আগুনে ,রাজা যায় মাগনে
আগে খাবে মায়ে, তবে পাবে পোয়ে
কলা রুয়ে না কোটে পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত
সুতরাং খনার বচন ও - প্রবাদ-প্রবচন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।