1 Answers

ঘামে অনেকেরই নাজেহাল অবস্থা হয়৷ এমনভাবে ঘামে জামা কাপড় ভিজে যায় যে দেখলে মনে হয় যেন গোসল করেছেন৷ যার এই ঘামের অভিজ্ঞতা রয়েছে তিনিই জানেন এতে কতটা অস্বস্তি৷ শুধু যে জামা কাপড় ভিজে যায় তাই নয় তার সঙ্গে শরীর দুর্বল লাগা, লোকসমাজে ঘামের গন্ধে লজ্জায় পড়া খুবই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা৷ কিডনি মানব শরীরে ছাঁকনির কাজ করে। শরীরের যাবতীয় দূষিত পদার্থ কিডনির ছাঁকনিতে ছেঁকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়৷ কিন্তু ঘামের সঙ্গে কিডনির সম্পর্ক কী! ঘামের সঙ্গে শরীরের অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। তাই বোধহয় প্রাচীন যুগে কিডনি বিকল হলে ডায়ালাইসিস করার ব্যবস্থা না থাকায়, রোগীকে গোটা কতক কম্বল চাপা দিয়ে রাখা হতো। এর ফলে কিডনি ফেইলিওর রোগীর শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হতো। শরীরের কিছুটা বর্জ্য পদার্থ ঘামের সাহায্যে বেরিয়ে যাওয়ায় রোগী কিছুটা সুস্থ বোধ করত। তাই এ কথা বলাই বাহুল্য, শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের মধ্যে থাকা অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে ঘাম অপরিহার্য। তবে সবাই সমান ঘমেন না৷ কারও শরীরে ঘাম বেশি হয় কারো আবার ঘাম কম হয়৷ দেখে নেয়া যাক কেন ঘাম বেশি হয় : ঘাম বেশি না কম হবে তা কিছুটা নির্ভর করে বংশগতির ওপর। কিছুটা পরিবেশের ওপর। অনেকটাই শারীরিক পরিশ্রমের ওপর এবং মানসিক অবস্থা অর্থাৎ উৎকণ্ঠা, টেনশন আছে, না মানসিক ধৈর্যের অধিকারী তার ওপর। তবে কম-বেশি যাই হোক না কেন, ঘাম সবারই হয়। খাদ্যাভ্যাস, ঘাম এবং দুর্গন্ধ : অ্যাপোক্রিন ঘাম মানুষের শরীরে গন্ধ সৃষ্টি করে। বাহুমূল ও যৌনাঙ্গে এই অ্যাপোক্রিন ঘামের উৎপত্তি। বংশগত কারণে এবং কখনও যথাযথ পরিচ্ছন্নতার অভাবে কারও কারও শরীরে অত্যন্ত বাজে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এটি দূর করতে একাধিকবার গোসল ও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল লোশন ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া সুগন্ধি, ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম লাগানো যেতে পারে। ট্রাইক্লোসামযুক্ত সাবান ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যায়। খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে গায়ের গন্ধের একটা সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ঝাল মসলাযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত রসুন এবং মাংস খেলে সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতা যথাযথ না হলে ঘামে প্রচুর দুর্গন্ধ হয়। প্রতিকার হিসেবে জেন্টামাইসিন, ওসিসোমাইসিন জাতীয় লোশন দিনে দুবার লাগাতে হয়।
2632 views Answered

Related Questions

Next steps