3 Answers

"ডিটেকটিভ কথা শুনতে ভালো নয়, গোয়েন্দা শব্দটা আরও খারাপ, তাই নিজের খেতাব দিয়েছি সত্যান্বেষী।"

বছর খানিক আগে বই পড়ার ভূত চাপে মাথায়।কিন্তু ওই যে বললাম…আমার শখের মেয়াদ সপ্তাহখানিক……সে কয় দিনে আমি কম করে হলেও ২০ টা উপন্যাস পড়ে শেষ করেছি।তার মধ্যে গোয়েন্দা গল্প গুলো আমার বেশি পছন্দের ছিল। প্রথমে শুরু করলাম ব্যোমকেশ বক্সী দিয়ে।আজ পর্যন্ত যত গোয়েন্দা গল্প পড়েছি সব গোয়েন্দার মাঝে একটা জিনিস কমন ছিল।প্রখর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা।ব্যোমকেশ বক্সী পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে নিজেকে ব্যোমকেশ বক্সীর জায়গায় কল্পনা করে নিতাম। ভাল লাগতো।

এমন ও দিন গেছে…যেদিন কোন গোয়েন্দা গল্প পড়েছি সেদিন খুব চুপচাপ থাকতাম।শুধু চারপাশে তাকিয়ে দেখতে থাকতাম আর আশেপাশের মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকতাম।নিজেকে খুব একটা গোয়েন্দা গোয়েন্দা লাগতো।ওহ !! গোয়েন্দা না তো!! সত্যান্বেষিণী!

কোন ভাল বইয়ের বৈশিষ্ট্য হল আপনি যখন বইটা পড়বেন তখন নিজেকে ঐ বইয়ের কোন চরিত্রের সাথে তুলনা করতে পারবেন বা কোন চরিত্রের মত হতে চেষ্টা করবেন।ঠিক এমনই একটা চরিত্র ছিল ফেলুদা। ব্যোমকেশ বক্সী শেষ করার পর প্রায় ৭/৮ মাস কোন গল্প বা উপন্যাস পড়া হয়নি।আগেই বলেছিলাম আমার শখ সপ্তাহখানেক এর বেশি টেকেনা !! বহুদিন পর শুরু করলাম নতুন গোয়েন্দা গল্প পড়া। ফেলুদা।প্রদোষচন্দ্র মিত্র।বাংলা সাহিত্যের সেই বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র।অসাধারণ সাহস,প্রখর বুদ্ধি,প্রখর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আর বইপোকা স্বভাবের একজন মানুষ।ফেলুদার বর্ণনা তার খুড়তুতো ভাই তোপসে নিজেই দিয়েছে,

‘আমার বয়স চৌদ্দ আর ওর সাতাশ। ওকে কেউ কেউ বলে আধপাগলা, কেউ কেউ বলে খামখেয়ালি, আবার কেউ কেউ বলে কুঁড়ে। আমি কিন্তু জানি ওই বয়সে ফেলুদার মতো বুদ্ধি খুব কম লোকের হয় আর ওর মনের মতো কাজ পেলে ওর মতো খাটতে খুব কম লোকে পারে। তা ছাড়া ও ভালো ক্রিকেট জানে, প্রায় এক শ রকম ইনডোর গেম বা ঘরে বসে খেলা জানে, তাসের ম্যাজিক জানে, একটু একটু হিপনটিজম জানে, ডান হাত আর বাঁ হাত দুহাতেই লিখতে জানে।...ফেলুদার যেটা সবচেয়ে আশ্চর্য ক্ষমতা, সেটি হলো ও বিলেতি বই পড়ে আর নিজের বুদ্ধিতে দারুণ ডিটেকটিভের কাজ শিখে নিয়েছে। ও হলো, যাকে বলে—শখের ডিটেকটিভ।’

আমার শখ ৭ দিনের বেশি টেকেনা কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি……গোয়েন্দা গল্প পড়ার শখ আমার এখনও যায়নি।

বই পড়তে পড়তে বিভিন্ন গোয়েন্দা চরিত্রকে অনুসরণ করার চেষ্টা করতাম।তাদের মত করে ভাবার চেষ্টা করতাম।আশেপাশের যে কোন ঘটনা সাধারণ চোখে না দেখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করতাম।এমনকি এখনও করি।কখনো ব্যোমকেশ, কখনো ফেলুদা, কখনো বা মাসুদ রানা।

বুদ্ধিমান হয়েছি কি না জানিনা! আমার তো মনে হয় হইনি।তবে এতটুকু বলতে পারি এই বই পড়া আর গোয়েন্দা চরিত্রকে অনুসরণ করার শখ থেকে শিখেছি অনেক কিছু।

ধন্যবাদ।

2807 views Answered

ছোট বেলা থেকেই ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি ছিল।

যেদিন থেকে গুগল সম্পর্কে জানি, সেদিন থেকে অনেক সমস্যারই সমাধান করতে পেরেছি।

যখন যেটা মাথায় আসে, গুগল করে জেনে নিচ্ছি। ফলে আমার জ্ঞান ভান্ডার দিন দিন উন্নত হচ্ছে আর বুদ্ধির লেভেল বাড়তেছে।

2807 views Answered

আসলে নির্দিষ্ট করে বলতেই পারিনা। এমনকি আদৌ আমি বুদ্ধিমান কিনা সেটাই বুঝতে পারিনা।

তবে শখ বলতে বিজ্ঞানের তিন সাবজেক্ট ফিজিক্স, ক্যামেস্ট্রি, বায়োলজির প্রতি বিশাল আকর্ষন ছিল। এ তিনটি আমাকে যা দিয়েছে তাতে আমি বিশেষ কোন বিজ্ঞানী হতে না পারলেও এখন আর বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কারে অবাক লাগেনা। আমি সহজে কার্যনীতি বুঝতে পারি। ইলেক্ট্রনিক্স এর প্রতি বিশেষ শখ রয়েছে আমার। এগুলোর কার্যনীতি আমাকে অনেক কৌশলের রহস্য ধরতে বুদ্ধিমান করেছে বলেই মনে হয়।

আমি ডাক্টার নই, ডাক্টারি পড়ার সুযোগ পাইনি। কিন্তু মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক্স এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বই আমাকে ডাক্টারদের শিক্ষক হতে অনুপ্রেরনা দেয়। একটি কথা উল্লেখ করতে চাই তা হচ্ছে সার্জিকাল ডাক্তার আর শিক্ষক(গবেষক) এক নয়।

এছাড়া সাহিত্য বিশেষ করে বঙ্কিম এর কঠিন ভাষা আমাকে যথেষ্ঠ জ্ঞানের দিশা দিয়েছে। এখন আমি বিষয়বস্তু বিশ্লেষন করে সির্ধান্ত নিতে পারি। অন্যের ইঙ্গিত বিশ্লেষন করতে পারি। বক্তব্য থেকে না বলা কথা বুঝতে পারি। 

আমি জানিনা এগুলো আদৌ বুদ্ধিমত্তা কিনা তবে এটা জানি যে, মনের আত্মতৃপ্তি,  অন্যের অভিসন্ধিকে পরাস্ত করে এগিয়ে যেতে প্রতিটি মানুষের এই জ্ঞান থাকা বাঞ্চনীয়। 

2807 views Answered

Related Questions

Next steps