2853 views

3 Answers

হ্যালুসিনেশন আসলে কোনো রোগ নয়, এটি অন্য রোগের উপসর্গ। এটি সাধারণত মানসিক রোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তবে কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থেকেও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। তাই কেবল হ্যালুসিনেশন দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সাধরণত যেসব কারণে হ্যালুসিনেশন ঘটতে পারে— #সিজোফ্রেনিয়া, সিভিয়ার মুড ডিসঅর্ডার, ডিল্যুশনাল ডিসঅর্ডারে রোগীর প্রায়ই হ্যালুসিনেশন হতে পারে। #মস্তিস্কের সমস্যায় হ্যালুসিনেশন হতে পারে। #শরীরে লবণের তারতম্যের জন্যেও স্বল্পমেয়াদের হ্যালুসিনেশন দেখা দিতে পারে। #প্রচণ্ড জ্বর হলে, বিশেষ করে শিশুদের হ্যালুসিনেশন হয়। # মৃগীরোগ, বিষণ্নতা, হিস্টিরিয়া এমনকি ব্রেন টিউমারের বেলাতেও হ্যালুসিনেশন ঘটতে পারে। # স্নায়ুতেন্ত্রর রোগে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। #ইন্দ্রিয়ের সমস্যায় হ্যালুসিনেশন ঘটতে পারে। #লিভার বা কিডনির সমস্যা, ব্রেইন ক্যান্সার প্রভৃতি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে। #মাত্রারিক্ত ড্রাগস বা অ্যালকোহল সেবনের কারণেও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। 

2853 views

বিভিন্ন কারণে 'হ্যালুসিনেশন' হয়ে থাকে , আমরা একেক জন একেক ভববে নেই কেউ নেয় মজার বিষয় ,কেউ নেয় রহস্যময় কাহিনী হিসেবে। আবার কেউ ক্ষমতা প্রাপ্তির সাথে হ্যালুসিনেশন কে তুলনা করেন। হ্যালুসিনেশন হচ্ছে একটি প্যথরজিক্যাট কন্ডিশান। এটি একটি অস্বাভাবিক অনুভূতি । অনুভূতি হিসেবে সাধারণ ও সত্যের মতো হলেও এর কার্যকারণ এবং উপস্থিতি সব ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক ও অসংগতিপূর্ণ এবং যা মোটেও সুখকর নয়।শরীরের বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে আমরা যে যে অনুভূতি অনুভব করে থাকি (যেমন- স্পর্শ, গন্ধ, স্বাদ, দেখা ও শোনা); যেসবকে আমরা সত্য বলে জানি, দেখি এবং বুঝি হ্যালুসিনেশনের অনুভূতি ঠিক তেমনই। অবিকল সত্য কিন্তু সেখানে বাস্তব সত্য কোনো স্টিমুলেশন বা সত্য কোনো বস্তু বা বিষয়ের অবস্থান থাকে না। হ্যালুসিনেশন কোনো কল্পনা নয়। ইচ্ছা করলেই কেউ একজন সেই অনুভূতিগুলোকে নিজের মতো করে অনুভব করতে পারে না। এমনকি ইচ্ছামতো সেই অনুভূতিকে সরিয়ে দিতে বা তা থেকে সরে আসতেও পারে না। পুরো ব্যাপারটিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ, প্রভাব বা হাত থাকে না।এখানে আরেকটি ব্যাপার হলো আাক্রান্ত ব্যক্তি পুরো বিষয়টি সত্য বলে মনে করে । যেমন- কোনো একজন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি হয়তো দেখছে- তার চারদিকে একজন লোক ঘোরাফেরা করছে, তার সঙ্গে কথা বলছে, তাকে স্পর্শ করছে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো লোকের অস্তিত্বই নেই। অন্যরা অবশ্য সেই ব্যক্তিটিকে দেখবে না বা লোকটির কথা শুনবে না।কারণ বাস্তবে 'ঘোরাফেরা করা' ব্যক্তিটির অস্তিত্বই নেই। এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিটিকে পৃথিবীর সব মানুষ এসেও যদি বোঝানোর চেষ্টা করে, কাজ হবে না। এমনও হতে পারে, আক্রান্ত ব্যক্তিটি এক-দুই কিংবা বহু মানুষের কথা শুনতে পায়। হতে পারে সে এখানে বসে আমেরিকায় কারো কথা শুনতে পায়। কেউ কেউ এসব ঘটনাকে অলৌকিক ক্ষমতা হিসেবে দেখে থাকে। কানে আসা এসব কথা অবশ্যই ঐশ্বরিক কোনো শক্তিও নয়।

2853 views

হ্যালুসিনেশনের কারণ যদিও হ্যালুসিনেশনের কারণ সম্বন্ধে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। তবে কিছু কিছু ব্যাপার হ্যালুসিনেশনের প্রভাব বৃদ্ধি করতে পারে। সাইকোসিসঃ এটি একটি মানসিক ডিজঅর্ডার, যেখানে মানুষ তার চিন্তায় এতটাই গভীরভাবে ঢুকে যায় যে তার বাস্তবতার ধারণা হারিয়ে যেতে থাকে। পরিবারে/বংশে সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি থাকলে হ্যালুসিনেশন দেখা দেয়ার আশংকা থাকে। ডিমেনশিয়াঃ ডিমেনশিয়া স্মৃতিশক্তি, চিন্তা, ভাষা, বিচারবিবেচনা এবং আচার ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি করে। মদ্যপান ছেড়ে দেয়ায় সময় অনেকে হ্যালুসিনেশন দেখতে পারে। গর্ভে থাকার সময় (বিশেষত গর্ভধারণের প্রথম ২৭ সপ্তাহের মধ্যে) শিশুদের ভাইরাস ও বিষাক্ত দ্রব্যের সংস্পর্শে আসা বা অপুষ্টিতে ভোগা। ইনফ্লামেশন বা অটোইমিউন ডিজিজের কারণে ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যাওয়া। পিতা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য বেশি হওয়া। কৈশোরে বা যৌবনে এমন নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করা যেগুলির কারণে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। ক্যাফেইন বেশি আছে এমন খাবার গ্রহণ করা।

2853 views

Related Questions