3 Answers
১. প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম লেবুর শরবত: এক গ্লাস গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবু চিপে নিন, এতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। চিনি দেবেন না। এবার পান করুন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আর রাতে ঘুমুতে যাবার ঠিক আগে। এটি আপনার দেহের বাড়তি মেদ ও চর্বি কমাতে সব চেয়ে ভালো উপায়। ২. সাদা ভাতের বদলে লাল চালের ভাত: সাদা ভাতের বদলে বেছে নিতে পারেন লাল চালের ভাত, ব্রাউন ব্রেড, আটার রুটি। এতে আপনার দেহে ক্যালোরি অতিরিক্ত ঢুকবে না। পেটে জমা চর্বি কমে আসবে ধীরে ধীরে। ৩. চিনিযুক্ত খাবার একেবারেই না: মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার, কোল্ড ড্রিংকস এবং তেলে ভাজা স্ন্যাক্স থেকে দূরে থাকুন। কেননা এ জাতীয় খাবারগুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষত পেট ও উরুতে খুব দ্রুত চর্বি জমিয়ে ফেলে। তাই এগুলো খাওয়ার পরিবর্তে ফল খান। ৪. প্রচুর পানি পান করুন: প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করার ফলে এটা আপনার দেহের মেটাবলিজম বাড়ায় ও রক্তের ক্ষতিকর উপাদান প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। মেটাবলিজম বাড়ার ফলে দেহে চর্বি জমতে পারে না ও বাড়তি চর্বি ঝরে যায়। ৫. প্রতিদিন তিন কোয়া রসুন: প্রতিদিন সকালে উঠেই খালি পেটে ২/৩ কোয়া রসুন চিবিয়ে খেয়ে নিন, এর ঠিক পর পরই পান করুন লেবুর রস। এটি আপনার পেটের চর্বি কমাতে দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে কাজ করবে। তাছাড়া দেহের রক্ত চলাচলকে আরো বেশি সহজ করবে এটি। ৬. মশলা খান: রান্নায় অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার করা ঠিক নয়। তবে কিছু মশলা ওজন কমাতে সাহায্য করে ম্যাজিকের মতো। রান্নার ব্যবহার করুন দারুচিনি, আদা ও গোলমরিচ। এগুলো আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাবে ও পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে। ৭. প্রচুর ফল ও সবজি: প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এক বাটি ভর্তি ফল ও সবজি খাবার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর পাবে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, মিনারেল ও ভিটামিন। আর এগুলো আপনার রক্তের মেটাবলিজম বাড়িয়ে পেটের চর্বি কমিয়ে আনবে সহজেই। ৮. মাংস থেকে দূরে থাকুন: অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে বেছে নিতে পারেন কম তেলে রান্না করা চিকেন। ব্যায়াম করার সময় নেই তো কি হয়েছে, তাই বলে কী ভুঁড়ি কমবে না? মেনে চলুন ওপরের নিয়মগুলো আর ফিরে পান আপনার মেদহীন সুন্দর স্বাস্থ্য। এ সম্পর্কিত আরো কিছু টিপস্ আছে – একটু খেয়াল করুন অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি আপনাকে শুধু বিব্রতই করেনা, এটা আপনার জন্য ক্ষতিকর। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৯.৫ ইঞ্চি ও পূর্ণ বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩৫.৫ ইঞ্চির বেশি পেটের সাইজ থাকলে হার্টের রোগ ও ডাইবেটিস হতে পারে। এছাড়া্ও আপনার বিশাল পেট অনেকের কাছে আপনাকে হাসির পাত্র করে তুলে। তাই আপনি এখন থেকেই নিচের পদ্ধতিতে আপনার মেদ কমানর চেষ্টা করুন। আপনার সকাল শুরু করুণ লেবুর শরবৎ দিয়েঃ পেটের চর্বি কমানোর জন্য এটি হচ্ছে সবচাইতে উপযোগী চিকিৎসা। কিছু পরিমাণ লেবু চিপে এর রস গ্লাসে নিয়ে তাতে সামান্য পরিমান গরম পানি ও লবন মিসিয়ে সকালে পান করুণ। এভাবে প্রতিদিন চালিয়ে যান ফলে আপনর বিপাক ক্রিয়া স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং মেদ কমেতে থাকবে। সাদা চাল থেকে দূরে থাকুনঃ সাদা চাল খাবেন না। সাদা চালে প্রচুর চর্বি থাকে যা পেটে চর্বি জমাতে প্রধান ভূমিকা রাখে। বাদামী চাল, বাদামী রুটি, সবুজ সাক সবজী এসব আপনার খাদ্যা অভ্যাসে যোগ করুন। চিনিযুক্ত খাদ্য এড়িয়ে চলুনঃ আপনার যদি পেটে মেদ থাকে তবে আপনি চিনি ও অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাদ্য থেকে দূরে থাকুন। অতিরক্ত তেল সমৃদ্ধ খাদ্য থেকেও দূরে থাকুন। এসব খাবার আপনার আবডমেন ও উরুতে চর্বি জমাতে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুনঃ আপনি যদি আপনার পেটের চর্বি কমাতে চান, তাহলে যথেষ্ট পরিমান পানি পান করুন। প্রচুর পরিমান পানি পান আপনার শরীরের মেটাবলিসমকে ঠিক রাখে এবং শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় ও বিষাক্ত জিনিস বের করে দেয়। কাঁচা রসুন খানঃ প্রতিদিন সকালে দুই বা তিনটি করে কাঁচা রসুনের কোয়া দাতে চিবিয়ে খান। এর পরে এক গ্লাস লেবুর রস পান করুন। এর ফলে আপনার পেটের চর্বি দীগুণ হারে কমতে শুরু করবে এবং আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক ও সুন্দর করবে। চর্বি যুক্ত খাবার পরিহার করুনঃ যতটা সম্ভব চর্বি যুক্ত বা আমিষ জাতীয় খাবার পরিহার করুন। এর ফলে আপনার শরীরে অযাচিত বেড়ে যাওয়া মেদ কমবে।
মেদ কমানোর জন্য করনিয়
টক দই
যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের পেট কিছুটা ফুলে থাকে। প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ফলে এর প্রোবায়োটিকস উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। দইয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ব্যাক্টেরিয়া হজমে সাহায্য করে। তাছাড়া টক দেই কোমর ও পেটের মেদ কমাতেও সাহায্য করে। তাই সুন্দর পেটের জন্য প্রতিদিন টক দেই খাওয়া বেশ উপকারী।
শস্যজাতীয় খাবার
পরিশোধিত শস্যজাতীয় খাবার খাওয়ার বদলে অপরিশোধিত শস্য থেকে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে যারা অপরিশোধিত শস্যের তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে যে কোনো পেটের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা কম।
কাঠবাদাম
ক্যালরি রোধ করতে সাহায্য করে কাঠবাদাম। গবেষণায় দেখা গেছে, কোষে মেদ শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করে কাঠবাদাম।
শসা
শরীরের মেদ কমাতে শসার কার্যকারীতা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। শসায় আছে ক্যাফেইক অ্যাসিড যা শরীরে পানি জমা বা গ্যাসের কারণে হওয়া ফাঁপাভাব কমাতে সাহায্য করে। তাই পেট কমাতে এই সবজি বেশ কার্যকর।
সবুজ শাকসবজি
মাংসপেশির গঠনে জরুরি উপাদান ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজিতে। শক্তি জোগাতেও ভালো কাজ করে। তাছাড়া সবজিতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে যা ওজন কমাতে এবং পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।
স্যামন মাছ
স্বাস্থ্য গুণে ভরপুর স্যামন মাছে রয়েছে কিছু উপকারী প্রোটিন যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে। ফলে কিছুক্ষণ পরেই ক্ষুদা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাছাড়া এর উপাদান পেটের ফোলাভাব কমাতেও সাহায্য করে। শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করবে স্যামন মাছ।
কলা
পেট ও কোমরের কাছে জমে থাকা বাড়তি পানি কমিয়ে পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে কলা। পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামের অসামঞ্জস্যতার কারণে শরীরের মাঝামাঝি অংশে বাড়তি পানি জমে থাকে। সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরের কোষে অতিরিক্ত তরল ধরে রাখে। আর এই সমস্যা কমাতে পটাশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হয়। যা এই ফল থেকে পাওয়া যায়।
পানি
নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, শরীরের নানান ধরনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্রচুর পানি পানের ফলে হজম প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। অপর্যাপ্ত পানি পানের ফলে পেটে ফাঁপা এক ধরনের অনুভূতি হয়। প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি প্রচুর রসালো ফল ও সবজিও খাওয়া উচিত।
সুত্র
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
পেটে মেদ জমা একটি অস্বস্তিকর জিনিস। আজকাল প্রায় সবাইই এই সমস্যায় ভুগছেন। অতিরিক্ত তেল-চর্বি, ফাস্ট ফুড, ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়াই এই সমস্যার জন্য দায়ি। তবে খাবার খাওয়ার পর ব্যায়াম না করা এবং পরিশ্রম না করার ফলে শরীরের মেদ অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়। বর্তমানে অনেকই শরীরের মেদ নিয়ে বেশ চিন্তিত। তাই মেদ কমানোর জন্য তারা ছোটেন জিমে, কেউ বা আবার বাড়িতে বসেই চালিয়ে যান নানান চেষ্টা। কিন্তু তাতে মেদ কতটাই বা কমে? ব্যায়াম এর পাশাপাশি খাওয়া দাওয়ায় সচেতন না হলে শরীরের মেদ কমানো সম্ভব না। আসুন জেনে নেই শরীরের বাড়তি মেদ কমানোর কিছু সহজ উপায়- ১. প্রতিদিন সকালটা শুরু করুন লেবুর সরবত দিয়ে। এটা হলো পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী ১টি পদ্ধতি। ১টি গ্লাসে হালকা গরম পানি নিয়ে তাতে লেবু চিপে সরবত করে নিন। সাথে একটু লবণ মিশিয়ে নিবেন। ইচ্ছে হলে একটু মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু চিনি মিশাবেন না। প্রতিদিন সকাল বেলা এই সরবতটি পান করুন। এই সরবত আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বাড়ায় এবং পেটের মেদ কমায়। ২. চিনি জাতীয় খাবার থেকে দূরেই থাকুন একটু। অর্থাৎ চিনিকে না বলুন এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন মিষ্টি, চকলেট, আইসক্রিম, ফিরনী, সেমাই ইত্যাদি থেকে কিছুদিন এর জন্য বিদায় নিয়ে নিন। ৩. উচ্চ তেল যুক্ত খাবার এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস গুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর্বি জমিয়ে রাখে। যেমন আমাদের পেট কিংবা উরু। সুতরাং বুঝেই ফেলেছেন যে এই খাবার গুলো তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিতে হবে। ৪. প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন যদি আপনি আপনার পেটের মেদ কাটিয়ে উঠতে চান তবে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান আপনার শরীরের বিপাকের হার বাড়ানোর পাশাপাশি আপনার শরীরের বিষাক্ত উপাদান গুলোকে দূর করে দিবে। তাই পানিকে প্রাকৃতিক ক্লিঞ্জার বলা হয়। ৫. কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকাল বেলা চুষে খান এবং তার পরে লেবুর সরবতটি খান। এই চিকিৎসাটি আপনার ওজন কমানোর জন্য সাহায্য করবে এবং শরীরের রক্ত প্রবাহ সহজ করবে। ৬. যতদিন পেটের মেদ না কমবে ততদিন নন-ভেজ খাদ্য অর্থাৎ মাংস, মাছ, দিম, দুধ বাদ দিতে হবে। তবে মাছের টুকরোর চামড়া ফেলে খাওয়া যেতেই পারে। কিন্তু তুলনামূলক কম খাওয়া উচিত। ৭. সাদা ভাত কম খান অথবা কিছুদিনের জন্য ছেড়ে দিন সাদা চালের ভাত খাওয়া। সাদা চালের ভাতের বদলে বিভিন্ন গম জাতীয় শস্য যুক্ত করে নিন আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়। তাছাড়া লাল চালের ভাত, গমের রুটি , ওটস, অন্যান্য শস্য যুক্ত করে নিতে পারেন। ৮. খাদ্য তালিকাটি ফল আর সবজি দিয়ে পরিপূর্ণ করে নিন। প্রতিদিন সকাল এবং বিকাল এই দুই সময় ফল ও সবজি খান। তবে এক্ষেত্রে পানি জাতীয় ফল বাছাই করুন। এই অভ্যাসটি আপনার দেহে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজলবণ এর ঘাটতি পূরণ করবে। ৯. ঝাল খাবার খান। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবেন না। ঝাল খাবেন কিন্তু ঝাল গুলো আসবে দারচিনি, আদা, গোলমরিচ এবং কাঁচামরিচ থেকে। এগুলো রান্নায় ব্যবহার করুন। এই মশলা গুলো স্বাস্থ্যকর। এগুলো শরীরের ইনসুলিন সরবরাহ বাড়ায় এবং রক্তের সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে। তাই এগুলো ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও বেশ উপকারী। ১০. সবকিছুর পরেও মেদ কমাতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy