3 Answers
কিছু কৌশল জানা থাকলে আর প্রতিদিনকার কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে কমিয়ে ফেলতে পারবেন আপনার পেটের চর্বি। জেনে নিন ৮ টি সহজ উপায়। ব্যায়াম না করে দ্রুত ভুঁড়ি কমাবার সহজ উপায় এর থেকে আর কিছু হতেই পারে না। ১. প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম লেবুর শরবত: এক গ্লাস গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবু চিপে নিন, এতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। চিনি দেবেন না। এবার পান করুন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আর রাতে ঘুমুতে যাবার ঠিক আগে। এটি আপনার দেহের বাড়তি মেদ ও চর্বি কমাতে সব চেয়ে ভালো উপায়। ২. সাদা ভাতের বদলে লাল চালের ভাত: সাদা ভাতের বদলে বেছে নিতে পারেন লাল চালের ভাত, ব্রাউন ব্রেড, আটার রুটি। এতে আপনার দেহে ক্যালোরি অতিরিক্ত ঢুকবে না। পেটে জমা চর্বি কমে আসবে ধীরে ধীরে। ৩. চিনিযুক্ত খাবার একেবারেই না: মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার, কোল্ড ড্রিংকস এবং তেলে ভাজা স্ন্যাক্স থেকে দূরে থাকুন। কেননা এ জাতীয় খাবারগুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষত পেট ও উরুতে খুব দ্রুত চর্বি জমিয়ে ফেলে। তাই এগুলো খাওয়ার পরিবর্তে ফল খান। ৪. প্রচুর পানি পান করুন: প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করার ফলে এটা আপনার দেহের মেটাবলিজম বাড়ায় ও রক্তের ক্ষতিকর উপাদান প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। মেটাবলিজম বাড়ার ফলে দেহে চর্বি জমতে পারে না ও বাড়তি চর্বি ঝরে যায়। ৫. প্রতিদিন তিন কোয়া রসুন: প্রতিদিন সকালে উঠেই খালি পেটে ২/৩ কোয়া রসুন চিবিয়ে খেয়ে নিন, এর ঠিক পর পরই পান করুন লেবুর রস। এটি আপনার পেটের চর্বি কমাতে দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে কাজ করবে। তাছাড়া দেহের রক্ত চলাচলকে আরো বেশি সহজ করবে এটি। ৬. মশলা খান: রান্নায় অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার করা ঠিক নয়। তবে কিছু মশলা ওজন কমাতে সাহায্য করে ম্যাজিকের মতো। রান্নার ব্যবহার করুন দারুচিনি, আদা ও গোলমরিচ। এগুলো আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাবে ও পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে। ৭. প্রচুর ফল ও সবজি: প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এক বাটি ভর্তি ফল ও সবজি খাবার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর পাবে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, মিনারেল ও ভিটামিন। আর এগুলো আপনার রক্তের মেটাবলিজম বাড়িয়ে পেটের চর্বি কমিয়ে আনবে সহজেই। ৮. মাংস থেকে দূরে থাকুন: অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে বেছে নিতে পারেন কম তেলে রান্না করা চিকেন।
খাবার নিয়ন্ত্রণ করছেন, নিয়মিত হাঁটাহাঁটিও করছেন, ওজনও একটু একটু করে কমছে, কিন্তু পেটটা তো কিছুতেই কমছে না। অনেকেই এ অভিযোগ করে থাকেন। পেটের চর্বি বা মেদ দেহের অন্যান্য মেদের চেয়ে আলাদা এবং বেশি ক্ষতিকর।
শরীরের অন্য অংশের মেদ সাধারণত ত্বকের নিচে জমে থাকে। কিন্তু পেটের মেদ ত্বকের নিচে ও পাশাপাশি যকৃৎ, কিডনি ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অঙ্গের গায়ে লেগে থাকে। তাই পেটের চর্বির সঙ্গে হূদেরাগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য সমস্যার জোরালো সম্পর্ক রয়েছে।
অনেকেই পেটের চর্বি কমানোর জন্য বেলি স্ট্রোক অর্থাৎ পেটের মাংসপেশির ব্যায়াম করে থাকেন। কারও ধারণা, পেটের চর্বি সাধারণ ব্যায়ামে কমে না। এর জন্য আলাদা ব্যায়াম করতে হবে। কিন্তু আলাদা ব্যায়ামে পেটের পেশির আকৃতি সুন্দর হলেও চর্বি কমাতে খুব একটা কাজে আসে না। পেটের চর্বি কমাতে দেহের সার্বিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম এবং সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই যথেষ্ট।
সপ্তাহে চার দিন আধঘণ্টা অ্যারোবিক ব্যায়াম দেহের অন্যান্য মেদের সঙ্গে পেটের মেদকেও কমিয়ে আনবে। জগিং, ট্রেডমিল, সাইকেল চালানো ইত্যাদি হলো এ ধরনের ব্যায়াম। কেউ দ্রুত পেটের চর্বি ভাঙতে চাইলে আরেকটু বেশি ব্যায়ামের দরকার হতে পারে। ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট হালকা জগিং বা জোরে হাঁটার পর দেহে সঞ্চিত চর্বি ভাঙতে শুরু করে এবং পেশি তা ব্যবহার করে। এই সময়ের পর আরও ১০ থেকে ১৫ মিনিট জগিং করলে বা জোরে হাঁটলে প্রতিদিন একটু একটু করে জমানো চর্বি কমতে থাকবে।
এর সঙ্গে চর্বি ও তেলযুক্ত খাদ্য পরিহার করে প্রচুর পরিমাণে আঁশজাতীয় খাদ্য ও শাকসবজি গ্রহণ করতে হবে। পরিমিত আহার করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ১০ গ্রাম আঁশ খেতে হবে। মেদ কমানোর সাধারণ এসব উপায়ে দেহের অন্য অংশের মেদের সঙ্গে পেটের চর্বিও কমবে। এর জন্য আলাদা ব্যায়ামের দরকার হবে না। সূত্র: ওয়েবমেড।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে সবারই পেটের মেদ যেন বেড়ে যায়। আবার কারও অতিরিক্ত ফ্যাট খাবার খেয়েও পেটের মেদ বাড়ে। স্বাস্থ্য সম্পর্কে বর্তমানে সবাই অনেক বেশি সচেতন কিন্তু এই পেটের মেদ প্রতিরোধে ঠিক কী করা উচিৎ, এই বিষয়টি সঠিকভাবে অনেকেই জানেন না। তাই জেনে নিন ঠিক কোন ধরনের শারীরিক ব্যায়ামগুলো আপনার পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সহায়তা করে। ১. দৌড়ানো এবং হাঁটা : অনেকে বলেন হেঁটে বা দৌড়িয়ে ঠিক উপকারটুকু পাই না। কিন্তু প্রতিদিন সঠিক নিয়মে যদি হাঁটেন বা দৌড়িয়ে থাকেন তাহলে দেহের অতিরিক্ত ফ্যাট এবং ক্যালরি অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আসবে। এর জন্য আপনি নিয়ম করে দুই বেলা হাঁটুন। ইতিবাচক ফলাফল আপনি অবশ্যই পাবেন। ২. প্রশিক্ষণ : আপনি যদি আপনার পেটের অতিরিক্ত মেদ নিঃসরণ করতে চান তাহলে অবশ্যই জিমের প্রশিক্ষনের আওতায় আসতে পারেন। এখানে আপনি জিমে বা নিজস্ব কোনো জিম ইন্সট্রাক্টরের কাছে একটা প্রশিক্ষণ নিতে পাবেন। এতে করে আপনার পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমতে বাধ্য। আপনি এখানে জগিং করতে পারেন। আপনি হয়ত বিশ্বাস করতে পারবেন না যে মাত্র ৩০ মিনিট জগিংয়ে আপনার ৩০০ ক্যালরি পর্যন্ত কমে আসতে পারে। ৩. বাইসাইকেল চালানো : পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতে হৃদসংক্রান্ত ব্যায়ামের মধ্যে বাইসাইকেল চালানো একটি ভালো ফলাফল আনতে সহায়তা করে। বাইসাইকেল চালালে পায়ের পেশীগুলোতে চাপ পড়ে সাথে সাথে পেটের উপরেও অনেক বেশি চাপ পড়ে। ফলে পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে। ৩০ মিনিট সাইকেলিং করলে আনুমানিকভাবে ২৫০-৫০০ ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ৪. বুকডন : পেটের অতিরিক্ত মেদে চিন্তা না করে শুধু নিয়ম করে কিছু শারীরিক ব্যায়াম করলে তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যেমন এর জন্য আপনি প্রতিদিন নিয়ম করে বুকডন দিতে পারেন। দিনে ৪০-৫০ বার বুকডন দিলেই ২০০-৩০০ ক্যালরি নিয়স্ত্রণে আসে পাশাপাশি পেশী শক্ত হয়ে ওঠে। ৫. পায়ের ব্যায়াম : পায়ের অনেক ধরনের ব্যায়াম আছে। পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতে আপনি এর মধ্যে নৌকাসন এবং হলাসন ব্যায়াম দুটি করতে পারেন। নৌকাসনে মোটামুটিভাবে সারা শরীরটাকে নৌকার মত আসনে ওঠানো নামানো হয়ে থাকে। আর হলাসনে পা দুটোকে উপরে উঠিয়ে আস্তে আস্তে মাথার পিছনে নিয়ে যাওয়া হয়। এর ফলে পেটে চাপ পড়ে। ফলে পেটের অতিরিক্ত মেদ নিয়ন্ত্রণে আসে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy