2 Answers
শারীরিক উচ্চতা বয়স, বংশগত বৈশিষ্টের উপর
নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক ভাবে মানুষের উচ্চতা ২৪/২৫ বছর
পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে,
তবে ১৮/ ২০ বছর পর্যন্ত
সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়
সেক্ষেত্রে আপনার বয়স যেহেতু ২২
বছর তাই তেমন উচ্চতা বৃদ্ধির সুযোগ
নেই তবে পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করলে
ও ব্যায়াম করলে উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে
পারে।
লম্বা হওয়ার জন্য সাধারণ টিপস/ব্যায়াম
১) সুষম খাদ্য গ্রহণ করুনঃ মোটা শরীরে মানুষকে অনেকটাই খাটো দেখায়। সেক্ষত্রে আপনাকে এমন খাদ্য গ্রহণ করতে হবে যেন আপনি এই মোটা হওয়া থেকে বাচঁতে পারেন। আপনি সঠিক নিয়মে খাওয়া দাওয়া করলে আরও লম্বা হবেন, সাথে অবশ্যই ভালো বোধ করবেন।
* পর্যাপ্ত পরিমাণ চর্বিহীন প্রোটিন খাবার খান। চর্বিহীন প্রোটিন খাবার বলতে মুরগীর মাংস, মাছ, দুধ এই ধরনের খাবার খান। এগুলো আপনার পেশীর বৃদ্ধি এবং হাড়ের সঠিক বিকাশে সাহায্য করবে।
* ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান। দুধ, দই, সবুজ শাকসবজীতে আপনি ক্যালসিয়াম পাবেন।
২) ব্যায়াম করুনঃ আমার মনে হয় ব্যায়ামের বিকল্প কিছু হতে পারে না। উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন। যদি ব্যায়াম করতে খুব বেশী
আলসেমী করেন তাহলে অন্তত প্রতিদিন হাঁটুন।
৩) পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমানঃ ঘুম মানুষের মানসিক শান্তির পাশাপাশি যেমন শারীরিক শান্তি দেয়, তেমনি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে ঘটতে পারে আপনার
স্বাভাবিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত। তাই রাতে পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমান। এতে আপনার শারীরিক বৃদ্ধি ত্বরান্তিত হবে।
৪) দেহের সঠিক অঙ্গবিন্যাসঃ চলাফেরায় নিজেকে এমব ভাবে তুলে ধরুন যেন আপনাকে আরও স্মার্ট এবং লম্বা দেখায়। মেরুদন্ড সোজা রেখে হাটুন, বসুন। ঘুমানোর সময়ও ঘাড় সোজা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
৫) ঝুলে থাকা ব্যায়াম করুনঃ ঝুলে থাকা ব্যায়াম উচ্চতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মত এই ব্যায়ামটি অবশ্যই করবেন। ১০ সেকেন্ড
করে করে ঝুলে থাকুন। এভাবে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট করুন। কষ্ট হলেও কাজে দিবে।
৬) সঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া করুনঃ খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। মনে রাখবেন অসময়ে খাওয়া আপনার লম্বা হওয়ার পথেই শুধু বাঁধা দেয় না, এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই সঠিক সময় অনুযায়ী খাওয়া দাওয়া করুন। এক্ষত্রে প্রতিদিন তিনবার খাওয়া ছেড়ে দিন। লম্বা হওয়ার জন্য দিনে অন্তত পাঁচ বার খাওয়া দাওয়া করবেন। মোবাইলে এ্যালার্ম দিয়ে রাখুন।
৭) লম্বার হওয়ার জন্য ঐষুধ খাওয়া বাদ দিনঃ লম্বা হওয়ার জন্য বাজারে অনেক ধরনের ঐষুধ পাওয়া যায়, যেগুলো লম্বা হওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এমন খবর থেকে হাজার হাত দূরে থাকুন। এগুলো আপনাকে লম্বা করতেতো পারবেই না অন্যদিকে আপবনার স্বাস্থ্যের ১২ টা বাজিয়ে দিবে।
৮) বাই-সাইকেল চালানঃ শুধু মটর সাইকেল চালালেই হবে? ঐটা করলে দিনে দিনে কুঁজো হয়ে যাবেন। বাই-সাইকেল চালান। এতে আপনার লম্বা হওয়ার পথ সুগম হবে।
৯) যেগুলো লম্বা হওয়ার পথে বাধা তা থেকে দূরে থাকুনঃ প্রথমেই বলি ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। মদ্যপান বা এই জাতীয় বস্তু থেকে দূরে থাকুন। এগুলোতো আপনাকে লম্বা হতে দিবেই না, সাথে আপনাকে সামাজিক ভাবে হেয় করবে।
১০) আত্মবিশ্বাস বাড়ানঃ মনে রাখবেন যে কোন কাজের সফলতার জন্য আত্মবিশ্বাস অনেক বড় একটা ব্যাপার। অনেক ঐষুধ যেখানে কাজ করে না সেখানে শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাসই অনেক বড় কাজ করতে সক্ষম। আত্মবিশ্বাসী হোন যে, আমি লম্বা হবই। দেখবেন ফল পেতে শুরু করেছেন।
যাদের গড় উচ্চতা খুব কম প্রায়ই তারা লম্বা হতে ইচ্ছুক। একজন ব্যাক্তি নিজের উচ্চতা নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী বাড়াতে বা কমাতে পাড়ে না। ছোট উচ্চতার মানুষ, বিশেষ করে আত্মসচেতন পুরুষদের, নিজের সম্পর্কে কম আত্মবিশ্বাসী মনে হতে পারে।
চেহারা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য আকর্ষণীয় করে তুলে ধরতে আছে নানা রকম ব্যবস্থা, নানান রকম সাজ সজ্জার বাহার। কিন্তু সমস্যায় পড়তে হয় যখন আপনার উচ্চতাটা মনের মতো না হয় তাই না? নারী বা পুরুষভেদে কম উচ্চতার মানুষেরা উঁচু জুতা বা স্যান্ডাল পরে উচ্চতা বৃদ্ধি করতে পারলেও সেটা হয় সাময়িক। আর আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে যেহেতু পরিবেশ ও বংশগত কারণে উচ্চতা খুব একটা বেশি হয় না তাই লম্বা হওয়া নিয়ে কমবেশি সকলের মাঝেই থেকে যায় কিছুটা আক্ষেপ। সাধারণত বলা হয়ে থাকে ২৫ এর পরে শারীরিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। এসকল বিষয় মূলত দায়ী আপনার উচ্চতা কত হবে তার জন্য। তবে কিছু অভ্যাস ত্যাগ ও গ্রহন করে সেই সাথে নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে বাড়িয়ে নিতে পারেন আপনার উচ্চতা। আসুন জেনে নেই কিভাবে বাড়াতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত উচ্চতা:
# আশ্বগন্ধা (Ashwagandha) গ্রহণ করুণ:
আয়ুর্বেদ মতে, আশ্বগন্ধা (বৈজ্ঞানিক নাম: Withania somnifera) এছাড়াও ভারতীয় ginseng হিসাবে পরিচিত যা উচ্চতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আশ্বগন্ধায় বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে যেযা হাড়ের কঙ্কাল এর ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ফলে শরীরের হাড় প্রসারিত হয়। এর ফলে আপনার উচ্চতাও বৃদ্ধি পাবে। যে কোনো ভেষজ দোকানে আপনি এটা খুজে পেতে পারেন।
সেবন পদ্ধতি:
১। প্রতিদিন ২ টেবিল চামচ করে আশ্বগন্ধার গুড়া গরম পানি অথবা গরুর দুধের সাথে মিলিয়ে পান করুণ।
২। স্বাদ অনুযায়ী চিনি বা গুড় যোগ করুন এবং ভালোভাবে মিশ্রিত করুণ।
৩। আপনার উচ্চতা বৃদ্ধি জন্য প্রথম অন্তত ৪৫ দিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রতি রাতে পান করুণ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওষুধ সেবনের সময় ফাস্ট ফুড সম্পূর্ণরূপে এড়াতে হবে।
# দুধ পান করুণ
দুধ পান আপনাকে লম্বা হওয়ার জন্য অনেক সাহায্য করবে কারণ ক্যালসিয়াম আপনার শরীররের হাড় এর বৃদ্ধি ঘটায়, আরেকটা বেপার যা আমাদের দেশে নেই সেটা হল আমেরিকায় তাদের গরু মধ্যে বিভিন্ন হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় যার মাধ্যমে - হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি হয়, এবং সেই প্রকিয়াজাতকরন দুধ হয় সাধারণ দুধ এর বিকল্প।
# নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ
উচ্চতা বাড়ানোর অন্যতম ভাল উপায় হল নিয়মিত ব্যায়াম করা। ব্যায়াম বা খেলাধূলা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রথমে শুরু করতে পারেন বেশ কিছু স্ত্রেচিং দ্বারা। ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়িয়ে নিন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের বিভিন্ন জোড়াগুলোতে ভাল প্রভাব পড়ে ফলে উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
# শ্বাসপ্রশ্বাসের চর্চা করুন:
স্বাভাবিক নয়, শ্বাস নিন গভীরভাবে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, গভীরভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহন ও বর্জন করলে তা শারীরিক নানা জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে অনেকাংশেই। যেহেতু সব সময় গভীরভাবে শ্বাস নেয়া সম্ভব নয় তাই দিনের যেকোনো একটি সময় নির্বাচন করে গভীরভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার ব্যায়াম করুন। চাইলে মেডিটেশন করতে পারেন কারণ মেডিটেশনও একই ফল দেয়।
# পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান (proper sleep):
আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি বা বিশ্রাম নিই তখন শরীরের টিস্যু পুনরুৎপাদন হয় এবং আকার বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় জানা গেছে হিউম্যান গ্রোথ হরমোন (HGH) আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক ভাবে উৎপন্ন হয় তখনই যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি। তাই উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম (proper sleep) অপরিহার্য। কৈশোর থেকেই দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
# বদভ্যাস ত্যাগ করুন:
শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এমন বদভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করুন। মাত্রাতিরিক্ত চা বা কফি কোনটাই খাবেন না। এগুলো শরীরের উপরে বাজে প্রভাব ফেলে যা পরবর্তীতে আপনার উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তাও ত্যাগ করতে হবে। বোতলজাত জুস ও কোমলপানীয়ও আপনার শরীরের একইভাবে ক্ষতি সাধন করে। তাই এগুলোও ত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়। এসবের বদলে খেতে পারেন গ্রিন টি বা তাজা ফলের জুস। এতে পাবেন আপনার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি । ফলে বেড়ে যেতে পারে আপনার উচ্চতা।
সূত্র: টপটেন