একটু ঠাণ্ডা লাগলেই আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। জোরে কথা বলতে পারি না । বেশি কথা বলতেও সমস্যা হয়। বয়স 45। মন্টিলুকাস্ট খাই। বিক্লোমিন ইনহেলার নেই। আর কোনো সাজেশন থাকলে দয়া করে জানাবেন।

2840 views

3 Answers

অ্যাজমা প্রতিরোধের উপায় ১. অ্যালার্জিকারক বস্তু এড়িয়ে চলা। যেমনঃ ধুলো, বালি, ঘরের ঝুল, ধোঁয়া, ঝাঁঝালো গন্ধ ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা। ২. ঘর বাড়িকে ধুলাবালু মুক্ত রাখার চেষ্টা করা। এ জন্য দৈনিক অন্তত একবার ঘরের মেঝে, আসবাবপত্র, ভিজা কাপড় দিয়ে মুছতে হবে। অথবা ভ্যাকিউম ক্লিনার ব্যবহার করা। ৩. ঘরে কার্পেট না রাখা। ৪. বালিশ, তোষক, ম্যাট্রেসে তুলা ব্যবহার না করে স্পঞ্জ ব্যবহার করা। ৫. শীতকালে যথাসম্ভব গরম পানিতে ওজু- গোসল করা। ৬. ধূমপান না করা। ৭. যেসব খাবারে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা পরিহার করে চলা। ৮. ঠাণ্ডা খাবার, আইসক্রিম ইত্যাদি না খাওয়া। ৯. মানসিক চাপ, উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তাকে ইতিবাচক মনোভাবে মানিয়ে চলা। কিংবা মানসিক চাপের কারণকে এড়িয়ে চলা। ১০. পেশাগত কারণে অ্যাজমা হলে চেষ্টা করতে হবে স্থান বা পেশা পরিবর্তনের। ১১. পরিশ্রম বা খেলাধুলার কারণে শ্বাসকষ্ট বাড়লে চেষ্টা করতে হবে পরিশ্রমের কাজ পরিহার করা। ১২. সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করা। ইতিবাচক মন আপনাকে ভালো থাকতে সাহায্য করবে। ১৩. পরাগ রেণু পরিহারে সকাল-সন্ধ্যা বাগান এলাকায় বা শস্য ক্ষেতের কাছে না যাওয়া। ১৪. পরাগ রেণু এলাকা থেকে বাসায় ফিরে মাথার চুল ও কাপড় ধুয়ে ফেলা। ১৫. কুকুর-বিড়াল বাগান থেকে পরাগ রেণু বহন করতে পারে। এ জন্য নিয়মিত কুকুর- বিড়ালকে গোসল করানো প্রয়োজন।

2840 views

অ্যজমা চিকিৎসায় সম্পূর্ন নিরাময় হয় না।তবএ ঔষধ সেবনে আরামবোধ হয়।যেসব খাদ্য খেলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় সেগুলি খাবেন না।আলো বাতাস পূর্ন গৃহে বসবাস করুন।ধুমপানের অভ্যাস থাকলে ত্যগ করুন।শ্বাসকষ্টের সময় তরল খাদ্য খান।ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।

2840 views

অ্যাজমা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায় না

নিয়ন্ত্রন করা যায়ঃ

অ্যাজমা মানুষের শ্বসনতন্ত্রের একটি ব্যাধি। অ্যাজমা হলে শ্বাসক্রিয়ায় সমস্যা হয়। এটা অনেকসময় তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যার ফলে ফুসফুসে বায়ু চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। অ্যালার্জি, স্ট্রেস, বায়ু দূষণ, ঠাণ্ডা বাতাস, শ্বসন তন্ত্রের সংক্রমণ, তীব্র আবেগ, সংরক্ষিত খাদ্য ও অন্য কোন অসুখের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি কারণে অ্যাজমা হতে পারে। এছাড়াও জিনগত কারণে, স্থূলতা, দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জি এবং অত্যধিক ধূমপান অ্যাজমা সৃষ্টির জন্য দায়ী।

 

শ্বাসকষ্ট, কাশি,বুক ভারী হয়ে থাকার অনুভূতি এগুলো অ্যাজমার লক্ষণ। অ্যাজমার চিকিৎসায় ইনহেলার ও ঔষধ দেয়া হয়ে থাকে যা বেশ দামী ও দীর্ঘদিন ব্যাবহার করতে হয়। যদি আপনি ইনহেলার ও ঔষধের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে কিছু প্রাকৃতিক উপায় আছে যার মাধ্যমে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।আসুন জেনে নেই সেই উপায়গুলো খোঁজ

১। স্বাভাবিক ভাবে দম নেয়ার চেষ্টা করুন 

যখনই অ্যাজমার শ্বাসকষ্ট শুরু হবে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত হয়ে বসুন । আপনার চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিন ও কল্পনা করার চেষ্টা করুন যে আপনার ফুসফুসটি প্রসারিত হচ্ছে ও সাদা আলোতে ভরে যাচ্ছে এবং আপনার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হচ্ছে।এভাবে দুইবার করুন তারপর আপনার চোখ খুলুন। এভাবে চর্চা করলে আপনি অনেক ভালো অনুভব করবেন।

২। কফি 

কফির ক্যাফেইন রাসায়নিক ভাবে থিওফিলিন এর মত, যা অ্যাজমার একটি ভালো ঔষধ এবং এটি বায়ু চলাচলের পথকে পরিস্কার করে। তাই এক কাপ গরম কফি খেতে পারেন।

৩। আদা 

আদাতে এমন অনেক উপাদান আছে যা অ্যাজমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। আদার প্রদাহ রোধী উপাদান শ্বাসনালীর সংকোচন রোধ করে ও শ্বাস নালীর প্রদাহ কমায়। বর্তমানের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে আদায় এমন কিছু উপাদান আছে যেটা শ্বাস নালীর পেশীকে শিথিল করতে পারে যা শ্বাসকষ্টের সময় সংকুচিত হয়ে যায়।তাই শ্বাস কষ্ট কমাতে প্রতিদিন ২ কাপ আদা চা খান। আদার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

৪। হলুদ 

হলুদে প্রদাহ রোধী উপাদান আছে। প্রাথমিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, হলুদের গুঁড়া অ্যাজমা উপশম করতে পারে। ১ কাপ দুধে এক চামচ হলুদ মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন।

টিপস

- যখনই অ্যাজমার কষ্ট শুরু হবে বুকে ও পিঠে সরিষার তেল মালিশ করুন। এতে শ্বাস কষ্ট কমবে।

- গরম পানি দিয়ে গোসল করুন

- আপনার ঘর বিশেষ করে বেড রুম ধুলাবালি মুক্ত রাখুন।

- প্রতি সপ্তাহে আপনার বিছানার চাদর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

- ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করুন।

- ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড আছে এমন খাবার খান।

- আপনার এক মাসের খাদ্য তালিকা লিপিবদ্ধ করুন এবং আপনার অ্যাজমার লক্ষণ গুলো ও লিপিবদ্ধ করে রাখুন। ফুড অ্যালার্জির সাথে অ্যাজমার সম্পর্ক আছে, তাই কোন খাবারে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে আর কোনটা খেলে ভালো অনুভব করছেন সেটা নির্ণয় করে খাদ্য নির্বাচন করুন।

- ধূমপান করবেন না।

- খুব বেশি গন্ধযুক্ত খাবার ও পারফিউম বর্জন করুন।

উপরের পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করেও যদি আপনার অ্যাজমার সমস্যা ভালো না হয় তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

2840 views

Related Questions