2 Answers
হিল্লা বিবাহ যায়েজ নেই।
আদালত কোন দম্পতির বিয়ে বাতিল ঘোষণা করেন। তারপর তাদের আবার বিয়ে দেবার শর্ত হিসেবে স্ত্রীকে অন্য লোকের সাথে বিয়ে ও সহবাসে বাধ্য করেন। দ্বিতীয় স্বামী স্বেচ্ছায় তালাক দিলে তবে সে আবার আগের স্বামীকে বিয়ে করতে পারে। এটা ঘটে প্রধানত স্বামী রাগের মাথায় স্ত্রীকে একসাথে তিনবার তালাক বলে ফেলেছে বলে, তার কথা শোনার সাক্ষী কখনো থাকে, কখনো থাকে না।
এক শ্রেণীর মূর্খ ও বক ধার্মিক লোকেরা, শিক্ষিত ও ব্যক্তিত্বশালী আলেমদের কাছে না গিয়ে অল্প শিক্ষিত মোল্লাদের পরামর্শে তালাক প্রাপ্তা মহিলাকে তার আগের স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া বা হালাল করে দেয়ার জন্য হিল্লা বিয়ের আয়োজন করে এবং এটিকে ইসলামের বিধান বলে চালিয়ে দেয়। যার ফলে বিতর্কিত এবং কলুষিত হচ্ছে ইসলামের সুন্দর বিধান ও মহান আদর্শ। আর ইসলামের শত্রুরা এটাকে তাদের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে পেয়ে কুরআন ও ইসলামের কুৎসা রটনার ক্ষেত্রে তাদের কোন প্রচেষ্টার ত্রুটি রাখছে না। অথচ তারা হাদিস সম্পর্কে কোন জ্ঞানই রাখে না।
স্বামী কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ীতে ফিরেছে। এসে দেখলো এখনও রান্না শেষ হয়নি। বাস মাথায় উঠে গেল প্রচন্ড রাগ। স্ত্রীর সাথে শুরু করে দিল ঝগড়া। পেটে ক্ষুধা এবং মাথায় রাগ। এক পর্যাযে বলে ফেললো তালাক। বাস আর যাবে কোথায়? মসজিদের কাঠমোল্লা দিয়ে দিল তালাকের ফতোয়া। স্ত্রী চলে গেল বাবার বাড়ী। কিন্তু যখন স্বামীর মাথা ঠান্ডা হলো যখন নিজের ভুল বুঝতে পারলো। এবার স্ত্রীকে আনার জন্য উদগ্রীব। কিন্তু বাঁধ বসালো কাঠমোল্লা আর মাতুব্বর। স্ত্রীকে আনতে হলে হিল্লা বিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কাঠমোল্লারা একটু চিন্তা-ভাবনা করে না যে, যেখানে রাগ হলো স্বামীর, দোষ করলো স্বামী এবং অপরাধী হলো স্বামী। সেখানে স্ত্রী কেন অপরাধী হবে? স্ত্রী কেন স্বামীর পাপের বোঝা বহন করবে?
কুরআন কি বলে?
কাঠমোল্লারা না বুঝলেও আল্লাহ পাক ঠিকই বোঝেন। তাই মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন-
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى
অর্থাৎ “একে অপরের কৃতকর্মের জন্য দায়ী হইবে না” (সূরা নজম ৩৮)।
এ কথা সবাই স্বীকার করবেন যে, অপরাধ হোক বা না-হোক, সেটা করেছে স্বামী। অথচ হঠাৎ তালাক দিলে নিরপরাধ স্ত্রীর জীবন ধ্বংস হয়ে যায়। সে হারায় তার স্বামী-সংসার ও সন্তান। কিন্তু একজনের অপরাধে অন্যের শাস্তি হওয়া চরম অন্যায়। সে জন্যই কুরআন কি চমৎকার বলেছে –
وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থাৎ “তাহাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে না” (সূরা বাকারা-১৪১)। অর্থাৎ স্বামীর অপকর্মের জন্য স্ত্রীকে শাস্তি দেয়া যায় না। তাই তাৎক্ষণিক-তালাক এবং তাৎক্ষণিক-দ্বিতীয় বিয়ে (হিল্লা বিয়ে) সম্পূর্ণ কুরআন বিরোধী। কুরআন মোতাবেক কোন নারীকে বিয়েতে বাধ্য করার অধিকার কারো নেই। সেই সময়ে নারীকে এ অসাধারণ অধিকার দিয়েছে কুরআন। হিল্লা বিবাহ স্ত্রীকে দিয়ে জোরপূর্বক এক ধরণের বেশ্যাবৃত্তি, যা সম্পূর্ণ হারাম। এই হারাম কাজে যারা জড়িত থাকবে হোক সে মসজিদের ইমাম, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।
না ভাই, সম্পুর্ণ হারাম।।কিছু মুর্খ মানুষ যারারা হাদীস বুঝে না তারা অপব্যাখ্যা দিয়ে এটা করে। নবীজি যে হিল্লা করে তাকে ভাড়া করা পাঠা বলেছেন, তাদের উপর অভিশাপ দিয়েছেন বুখারী শরীফ ৭ম খন্ড হাদীস নং ৪১৭৩;):
মাকুল(রা) এর বোনকে এক ছেলে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়।।তিনি বিয়েদেন। কিন্তু তারপর কোন এক কারনে সে ছেলে তাঁর বোনকে তিন তালাক দিয়ে আলাদা করে রাখেন। ইদ্দত পালন কারা পর সে আবার যখন মাকুল(রা), এর বোনকে পুনরায় নিতে চায় তখন মাকুল(রা) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে বলেন যে তিনি দিবেন না। তখনই আল্লা সৃরা বাকারায়,
"অতঃপর তারা যদি পুনরায়(তিন তালাকের পর) শরীয়া অনুযায়ী বিবহপূর্বক মিলিত হওয়ার ইচ্ছা রাখেখে তবে তাতে বাধা প্রদান করো না।"।
আবার হাদীসে আছে এক সাহাবী বলেন, মদীনা মুনাওয়ারায় উমর(রা) বয়ান দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেন, যদি আমার কাছে কেউ হিলালা বিবাহের কথা বা বিচান বা এমন কিছু নিয়ে আসে তবে হিল্লাকারী ও যে দিয়েছে তাদের দুজনকেই পাথর নিক্ক্ষেপ করে মেরে ফেলতাম।।"
অনেক মারুষ সুরা বাকারার ২৩০ নাম্বার আয়াতকে অপব্যখ্যা দেয়, কিন্তু হাদীস শরীফে আছে এ আয়াতের ব্যখ্য, একদা আয়েশা( রা) নবীজিকে উক্ত আয়াতের ব্যখ্যা দিতে গিয়েয়ে বলেন, যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে একবার তালাক দেয় তখন সে তার স্ত্রীকে নিতে পারবে, দ্বিতীয়বার দিলে তকও পারবে, কিন্তু তৃতীয়বার সে পারবে না। কারন সেক্ষেত্রে তাদের বিয়ে ভেঙ্গে গেছে, যদি তাররা পুনরায় একত্র হতে চায় তবে আবার বিয়ে করে নিতে হবে শরীয় অনুযায়ী। যদি মেয়েটি তালাকের পর ভাবে যে না আমি তাকে না অন্য কাউকে বিয়ে করবো তবে সে করতে পারবে কিন্তু তার কাছে থাকা অবস্থায় সে যদি ভাবে যে, আমি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাবো তখন যতক্ষন তা তাদের মধ্যে সহবাস হচ্ছে ততক্ষন আসতে পারবে না। হলে তারপর আসে পারবে।।আর এটাকে মুর্খরা ঘুরিয়ে কি অদ্ভুত নিয়ম বের করেছে! নবীজি না করেছেন, আলালাহ না করেছেন তবে তারা কি আল্লাহ, নবীর চেয়ে বেশী বুঝেন? (নাউজুবিল্ণাহ)