5 Answers
ঘুম না এলে আপনার করণীয় কি হতে পারে তা একনজরে দেখে নিন এবং অনুসরন করুন,আশা করি ঘুম আসবেই।
ঘুম না আসলে করণীয় ৭টি বিষয় –
- ঘুম না আসার কারণ খুঁজে বের করুন – ঘুম না আসার পেছনে কোন বিশেষ কারণ আছে কিনা সেটা খুঁজে বের করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নানামুখী টেনসন ঘুম না আসার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে থাকে। যতক্ষণ মাথায় টেনসন থাকবে ততক্ষণ ঠিকমতো ঘুমাতে পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক। সম্ভব হলে মাথা থেকে এই টেনসন ঝেড়ে ফেলুন। নয়তো নিজে নিজে বা কারও সাহায্য নিয়ে টেনসনের মূল কারণটা সমাধান করার চেষ্টা করুন। যদি অনেক চিন্তা-ভাবনা মাথায় ঘুরতে থাকে তাহলে কোথাও সেটা লিখে ফেলুন। এতে মাথাটা একটু হলেও হালকা হবে।
- গরম পানি দিয়ে গোসল করুন – রাতে ঘুম না আসলে মৃদু গরম পানি দিয়ে গোসল করে ফেলুন। এতে শরীর অনেক হালকা মনে হবে। শরীরের কোষগুলোর মধ্যে শিথিলতা চলে আসবে। আর আশা করা যায় এতে খুব সুন্দর একটা ঘুম দিতে পারবেন আপনি।
- পাতলা কাপড় পড়ুন – ঘুমানোর সময় যতটা হালকা হয়ে ঘুমানো যায় ততোটাই ভালো। ভারী-মোটা কাপড় ত্যাগ করে হালকা ট্রাউজার, পাতলা টিশার্ট পড়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন ।
- ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকুন – ঘুম না আসলে অনেকে মোবাইলে, কম্পিউটারে সময় কাটায়। কিন্তু এতে করে ঘুম না আসাটাকে আরও দীর্ঘায়িত করে দেয়া হয়। ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে থেকেই ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। মোবাইলে অ্যালার্ম দিলেও সেই মোবাইলকে একেবারে মাথার কাছে রাখবেন না।
- সারাদিন কি করলেন ভাবুন – জেগে ওঠার পর ঘুমানোর আগ পর্যন্ত সারাদিন কোথায় কি করলেন সেটা গোড়া থেকে ভাবতে শুরু করুন। আলহামদুলিল্লাহ আমার ঘুমে কোন সমস্যা হয়না, যখন খুশি ঘুমাতে পারি। তবুও কোনদিন ঘুম না আসলে আমি এই পদ্ধতি অনুসরণ করি।
- উল্টা গুণুন – ১০০ থেকে ১ অবধি উল্টাপথে গোণা শুরু করুন। ১ পর্যন্ত আসার আগেই হয়তো আপনি ঘুমিয়ে পোড়বেন !
- ঘুমানোর জায়গা পরিষ্কার করে নিন – ঘুমানোর জায়গা যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকে ঠিকমতো তাহলে সেটা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আর ঘুমানোর খাটে এসব ময়লা টয়লা বিরক্তির কারণও হতে পারে। তাই বিছানা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেয়া উচিত।
ঘুম না এলে যা করবেন :
—বাইরে থেকে ফিরে প্রথমেই গোসল সেরে নিন। সারা দিনের ক্লান্তি এক নিমিষে চলে যাবে।
—সন্ধ্যার পরই চা-কফি খাওয়া বন্ধ করে দিন।
—ঘুমোতে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগে টিভি, কম্পিউটার বন্ধ করুন।
—পরের দিনের কাজের পরিকল্পনা আগেই করে ফেলুন, টেনশনে ঘুম নষ্ট হবে না।
—ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন।
—রাত ১০-১১টার মধ্যেই ঘুমোতে যান। এ সময় বিছানায় গেলে ভালো ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
—বিছানা আর শোবার ঘর যেন আরামদায়ক হয়। বেশি গরম বা বেশি ঠাণ্ডা যেন না হয় এবং সেখানে যেন বেশি আওয়াজ না হয়।
—নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। হাঁটা বা সাঁতার কাটা শরীরের জন্য ভালো।
—প্রিয় জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখুন, সারা দিনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করুন।
—চেষ্টা করুন দুশ্চিন্তা না করার।
—সব ধরনের মাদক থেকে দূরে থাকুন।
—বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাবেন না।
—যদি ঘুম না আসে, জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা না করে উঠে বই পড়ুন, টিভি দেখুন অথবা পছন্দের গান শুনুন।
—সুযোগ পেলেও দিনে বেশি সময় ঘুমাবেন না।
—ঘরে বেশি আলো ঢুকে যেন ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটায় তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে ভারী পর্দা ব্যবহার করুন।
—শোবার ঘরটি অযথা একগাদা জিনিস দিয়ে ভরে রাখবেন না।
—বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন অন্তত ছয় ঘণ্টা গভীর ঘুম হতে হবে। বন্ধুরা এতকিছু করার পরও যদি ঘুমের সমস্যা না যায়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
বিস্তারিত বর্ণনা দিলে ভাল হতো। ঘুম না হওয়ার জন্য 90 শতাংশ ই দায়ী মানসিক কারন। আপনার মাঝে কি কি সমস্যা আছে সেটাও যানা দরকার। সারিরিক সমস্যা থেকেও ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে। ঘুমের সমস্যার সমাধানে একজন রেজিস্টার্ড চিকিত্সকের পরামর্শ নিন ।
আপনি অনেক কিছুই করতে পারেন। কিন্তু তার আগে প্রশ্ন হলো আপনি কি করতে চান? আপনি যদি ঘুমাতে চান কিন্তু তাতে আপনি ব্যর্থ, তাহলে আপনি আপনার লাইফস্টাইলে কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতে পারেন। আপনি ঘুমের ঠিক আগে আগেই কোনো কিছু খাবেন না। চেষ্টা করবেন প্রতিদিন একই সময় বিছানায় যাবেন। নিয়মিত ব্যায়াম করার চেষ্টা রাখতে পারেন এবং দিনে অন্য কোনো সময় ঘুমাবেন না। এই ছোট্ট কিছু নিয়ম যদি মানতে পারেন তাহলে কাজে দিতে পারে।
ঘুম না আসলে জেগে থাকুন ৷ অসময়ে ঘুমানোর চেষ্টাও করবেন ৷ সময়মত ঘুম না এলেও ঘুমানোর চেষ্টা করুন ৷ আশা করি সমস্যাটির সমাধান ১ সপ্তাহে পেয়ে যাবেন ৷
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy