সব সময় হাত পা জ্বালা পোড়া করে ।বিশেষ করে যদি একটু সময় ধরে পানির কাজ করা হয় তবে জ্বালা পোড়া আরো বেড়ে যায় ।এর কারণ ও প্রতিকার কি?
3535 views

2 Answers

অনেকগুলি কারনে আমাদের শরীরে বিশেষ করে হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালা পোড়া অনুভূত হতে পারে। যেমন (১) স্নায়ু জনিত কারণ: আক্রান্ত অংশের স্নায়ুর উপর চাপ লেগে থাকলে, (২) হরমোন জনিত কারণে: বিভিন্ন ধরনের হরমোন আমাদের শরীরের নিয়ন্ত্রন করে থাকে বিশেষ করে মহিলাদের মেনোপোজ পরবর্তী সময়ে শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটে তখন এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। (৩) ডায়বেটিস জনিত কারণে: যারা দীর্ঘদিন যাবত ডায়বেটিস রোগে ভূগছেন বা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে না এই সব রোগীদের পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি বা ডায়বেটিক নিউরোপ্যাথি দেখা যায়। (৪) ভিটামিন বা মিনারেলের অভাবে: কিছু কিছু ভিটামিন বা মিনারেলের অভাবে এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। যেমন থায়ামিন, পাইরিডক্সিন, সাইনোকোবালসিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি, ইত্যাদির অভাবে অনেকক্ষেত্রে হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালা পোড়া অনুভূব করতে পারে । করণীয়: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করা, এক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস জেনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা - নিরীক্ষা করার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। লেখক: বাত, ব্যাথা, পারালাইসিস ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, চেয়ারম্যান ও চীফ কনসালটেন্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা

3535 views

প্রতিকার -- ১। গোসলের পানি যেনো কিছুতেই গরম না হয়। গরম পানি আপনার শরীর থেকে প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে দিতে পারে ফলে আপনার স্কিন ড্রাই হয়ে যেতে পারে এবং জ্বালাপোড়া হতে পারে। ২।দীর্ঘ সময় গোসল না করে স্বল্প সময় গোসল করেন, বেশি সময় গোসল করলেও ত্বক ড্রাই হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থকে। ফলে জ্বলন আরও বেড়ে যেতে পারে। ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করুণ: জ্বলন এবং চুলকানি প্রশমিত করতে ওয়েল বেজ লোশন লাগাতে পারেন, এতে করে আপনার ত্বক সফট হবে ও এতে স্কিনের সেলস গুলোকে রক্ষা করবে। বর্তমানে ওষুধের দোকান গুলোতে এমন অনেক লোশন পাওয়া যায়। এতে করে আপনার হাত ও পায়ের তলার জ্বলন ও চুলকানি প্রশমিত হতে পারে। ​ প্রচুর পানি পান করুণ: শরীরে পানি শূন্যতা হতেও জ্বলন হতে পায়ে। সাধারণত যারা পানি কম পান করেন তাদের উচিত বেশি পরিমাণে পানি পান করা এবং মিনারেল জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া। এতে করে হাত-পা ও শরীর জ্বালা-পোড়া অনেক অংশে কমে যাবে। টক ফল খান: প্রতিদিন অল্প পরিমাণে হলেও যে কোনো টক ফল পানি মিশিয়ে ১ ঘণ্টা পরপর খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রথমে শরীরকে অ্যাসিডমুক্ত রাখুন। এটি খালি পেটে খাওয়ার অভ্যাস করুন। চাইলে হালকা খাবার খেতে পারেন। প্রতিদিন ৫০ গ্রাম আঙুর খেলেও জ্বালা কমকে। এছাড়া পায়ের ফাটা ভাব কমলেও হাতের কোমল ভাব বজায় থাকবে। মেহেদি ও তেলাকুজ পাতা: টাটকা মেহেদি পাতার রস হাত ও পায়ের তালুতে লাগালে জ্বালা-পোড়া কমে যায়। তাছাড়া তেলাকুজের পাতা পানিতে চটকে তাতে হাত পা ভিজিয়ে রাখলেও জ্বলন কমে যায়। মানসিক চাপ কমান:অনেক সময় মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকেও হাত পায়ে জ্বালা পোড়া হতে পারে। দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমান। প্রয়োজনে চিকিৎসা নিন। নিউরোপ্যাথি আছে প্রমাণিত হলে স্নায়ুর যন্ত্রণা লাঘব করে এমন কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, চিকিৎসকের পরামর্শে সেগুলো নিয়মিত খেতে পারেন৷ সূত্র: উইকিহাও।

3535 views

Related Questions