1 Answers

#9 বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ ফেরত পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে পুরো ঘটনায় এফবিআই এর সহযোগিতার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুজন কর্মকর্তা ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গিয়ে আলাপ করে এসেছেন। অন্যদিকে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের একটি দল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছে, চীনের হ্যাকাররা শুধু টাকাই নিয়ে যায়নি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব তথ্য এখন তাদের হাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সব গোপন নথি ও সম্পদের পরিমাণ, কোথায় কি অবস্থায় রয়েছে, নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও বন্ডের বিনিয়োগ কোন দেশে এবং কোথায় রয়েছে সব তথ্য এখন তাদের হাতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেটওয়ার্কে ঢুকে বিশেষ ধরনের স্কিমিং ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গোপনীয় সব তথ্য ক্লোনও করে তারা। এমন পরিস্থিতিতে হ্যাকাররা আবারো কোনো অঘটন ঘটাতে পারে-এমন আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বৈদেশিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির পাশাপাশি ম্যানুয়াল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এজন্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে আলাদাভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছড়া সব ধরনের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ কাজে সহায়তা করেছেন পরামর্শক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বিশ্বব্যাংকের সাবেক আইটি প্রধান রাকেশ আস্তানা ও তার দল।

হ্যাকাররা যাতে পুনরায় সিস্টেমে ঢুকতে না পারে সেজন্য পরামর্শক দলের সরবরাহ করা সিকিউরিটি সফটওয়্যার নতুনভাবে সব কম্পিউটারে আপলোডের কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা।

এটাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হ্যাকিংয়ের ঘটনা বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

9947 views

Related Questions