বয়সঃ 44 বছর। ডায়াবেটিস আছে 7.2 । শুধু পানি লাগলে একটি দাঁত ব্যথা করে। ২ মাস ধরে। গরম পানি দিয়ে রাতে কুলি করা ও দাঁত মাঝা হয়। তখন ব্যথা করে না। রাতে দিনে হঠাৎ করে চাপায় ব্যথা শুরু হয়। চুইংগাম বা চকলেট খেলে ২ / 3 ঘণ্টায় আর ব্যথা করে না। এক্সরে করা হয়েছে কোন সমস্যা পাওয়া যায় নাই। তবে বেশ আছে দাঁতটিতে একটি পাথর কামড় লাগে। কিন্তু ক্ষত হয় নাই। তার পর থেকে এ দাঁতটিতে মাঝখানে কোন শক্ত খাবার খেতে হালকা ব্যথা অনুভূত হয়। তাই বেশির ভাগ সময় নিচের চাপার এ দাঁতটি খাবার খেতে কম ব্যবহার করি। দাঁতের ডাক্তার দুই জন দেখানো হয়েছে। সেনসোডাইন টুথ পেস্ট ও টুথ ব্রাস ব্যবহার করেছি। পেপসোডেন্ট সেনসেটিভ ব্যবহার করছি। এখন কী করণীয়?
3320 views

2 Answers

যে দুটা পেস্ট ব্যাবহার করেছেন তার যে কোন একটি ব্যাবহার করুন দুই মাস।সাথে ইনফেকশন থাকলে এন্টিবায়োটিক এবং মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট ব্যাবহার করুন এক সপ্তাহ।

3320 views

দাঁতের এই শির শির করা অবস্থাকেই বলা হয় ডেন্টাল ইরেশান বা এন্ট্রিশন, এই এন্ট্রিশন বা ইরেশান অথবা পালপাইটিস হওয়ার কারণ হচ্ছে দাঁতের উপরের সবচেয়ে শক্ত আবরণ এনামেল ক্ষয় হয়ে যায় বা ভেঙ্গে যায়। আমরা জানি একটি দাঁতের গঠন প্রক্রিয়ায় প্রথম আবরণটিই হচ্ছে এনামেল। এই এনামেল আমাদের শরীরের সবচেয়ে শক্ত অংশ অথচ এই এনামেল পর্যন্ত ক্ষয় হয়ে যায়। আজকাল এই ধরনের সমস্যার অতি দ্রুত চিকিত্সা নিশ্চিত করা যায় ১. প্রথমত: চিকিত্সা ব্যবস্থার মধ্যে প্রথমেই মাড়ি ও দাঁতের সংযোগস্থল থেকে সমস্ত পাথর বা ডেন্টাল প্লাক পরিস্কার করা প্রয়োজন। এই ধরণের কাজে সাধারণত: ডেন্টাল স্কেলিং এর মাধ্যমে করা হয় যেমন- আলট্রাসনিক স্কেলিং এর মাধ্যমে সমস্ত দাঁতের গোড়া ও মাড়ি থেকে খাদ্য কনা পরিস্কার করা। কারণ ডেন্টাল প্লাক জমা থাকলে ধীরে ধীরে দাঁত ও মাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ২. দ্বিতীয়ত: ক্ষয়ে যাওয়া অংশটুকু বা ভেঙ্গে যাওয়া অংশটুকু আজকাল খুবই আধুনিক পদ্ধতি লাইট কিউর ফিলিং দিয়ে ভর্তি করে দেয়া হয় যাতে ক্ষয়ে যাওয়া এনামেল এবং ডেন্টিন আবার পুরণ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে গ্লাস আইনোমার ফিলিং দিয়েও দাঁতটি ভর্তি করা যায় ৩. দাঁতের মাজন- দাঁতের ক্ষয় যদি কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত না হয় তবে ফিলিং বা রুট ক্যানেল চিকিত্সার প্রয়োজন হয় না। সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দাঁত ব্রাশের সঙ্গে স্ট্রনিয়াম ক্লোরাইড সংযুক্ত টুথ পেষ্ট ব্যবহার করলে ৬ মাসে দাঁতের শিরশির কমে আসতে পারে। তবে এই ধরনের পেস্ট দীর্ঘদিন ব্যবহার করা নিরাপদ না। ৪. দাঁতের ফ্রেকচার যদি একটি দাঁতের অল্প পরিমাণ অংশ ভেঙ্গে গিয়ে থাকে তবে শুধুমাত্র ভেঙ্গে যাওয়া অংশ ফেলে দিয়ে সুন্দর লাইট কিউর ফিলিং দিয়ে পুরণ করা অথবা অবস্থা বুঝে রুট ক্যানেল চিকিত্সার পর ক্রাউন পরানো হবে নিশ্চিত ব্যবস্থা। তবে এসব কিছুর আগে রোগীর সমপূর্ণ ইতিহাস যেমন নেয়া জরুরী তেমনি পরীক্ষা নীরিক্ষাও অপরিহার্য। শুধুমাত্র ওষধ দিয়ে বা টুথপেষ্ট পরিবর্তন করলেই যে রোগীর দাঁতের শিরশির কমে যাবে তেমন নয়। তাই প্রয়োজন মত তাকে যেমন মাড়ির শৈল চিকিত্সা দিয়ে মাড়িকে সুস্থ করা প্রয়োজন তেমনি ফিলিং বা রুট ক্যানেল চিকিত্সাও অপরিহার্য। অতএব সব কিছুই নির্ভর করবে সঠিক রোগ নির্ণয় এর উপর। তাই একটি দাঁত শিরশির করলে অতি দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে নতুবা একটি মুল্যবান দাঁত হারাতে হবে।

3320 views

Related Questions

Bulk sms কীঁ?
1 Answers 2872 Views