এটা কি ইসলামে হালাল না হারাম?
2 Answers
এ ধরণের কাজ করা হারাম। কারণ এটা প্রতারণা স্বরূপ। প্রতারণা মুনাফেকের বৈশিষ্ট্য।
লেনদেন-বেচাকেনা ইত্যাদি বিনিময়ের ক্ষেত্রে পরস্পরের ধোকা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়াকে ইসলাম হারাম করেছে। বিনিময়কৃত জিনিসের পরিচয়, বর্ণনায় ভুল প্রচারণাও ইসলামে গর্হিত কাজ। -
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিন বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো এক খাদ্যবস্তুর স্তূপের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় এর ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে এর অভ্যন্তরে সিক্ত পেলেন। তখন তিনি বললেন, হে খাদ্যের মালিক! এটি কি? জবাবে খাদ্যের মালিক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! বৃষ্টির কারণে এরূপ হয়েছে। এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
اَفَلَا جَعَلْتُهُ فَوْقَ الطَّعَامِ حَتَّي يَرَاهُ النَّاسُ مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي - অর্থাৎ তুমি ভিজা খাদ্যশস্য উপরে রাখলে না কেন? তাহলে তো ক্রেতাগণ এর অবস্থা দেখতে পেত (প্রতারিত হতো না)। যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য হবে না। (মুসলিম, মিশকাত)
আপনি ঠিকই বলেছেন আপনার বেশি দাম পছন্দ হলে ক্রেতা মাল নিবে না হয় নিবে না। তাই আপনার কাজটিকে সরাসরি হারাম কিংবা হালাল বলাটা বোধহয় ঠিক হবে না। বরং বিষয়টা সম্পূর্ণ পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। ইসলাম হচ্ছে মানবতার ধর্ম, মানব কল্যাণের ধর্ম। স্বার্থপরতা, স্বার্থান্ধতা ইসলামে নিরুৎসাহিত করে দয়া-মায়া-মমতা ও ত্যাগের মনোভাবকে উৎসাহ দিয়েছে। কোনো কিছুতে বৈধভাবে সুবিধা গ্রহণকে ইসলাম যেমন বাধাগ্রস্ত করে না তেমনি গুটি কতক ব্যক্তির সুবিধার জন্য সাধারণ জনগোষ্ঠির অসুবিধাগ্রস্ত হওয়াকেও ইসলাম বরদাশত করে না। আপনার মজুদকৃত পণ্য যদি বাজারে ঐ পণ্যের সংকট সৃষ্টি করে এবং ক্রেতা সাধারণ তার ভুক্তভোগী হয় তাহলে আপনার কাজটি সম্পূর্ণ হারাম হবে। আর সাময়িকভাবে তা বাজারে সংকট সৃষ্টি না করলে সাময়িকভাবে তা মজুত করে রাখা নাজায়েজ হবে না। স্বার্থপরের মতো বেশি লাভ না করে সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে সীমিত লাভের চিন্তা করা উচিৎ। সম্পদে বরকত দেওয়ার মালিক আল্লাহ। আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইহসান করতে চাইলে আল্লাহও আপনার প্রতি ইহসান করবেন।