ফার্মের মুরগীর কোন কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খাওয়া জায়েজ অনেকেই বলে ,মুরগীর বা হাঁসের চামড়া খাওয়া নাজায়েজ আবার মুরখীর পা খাওয়াও নাজায়েজ । বিস্তারিত বুঝিয়ে বলুন ?
3 Answers
প্রশ্নঃ ফার্মের মুরগীর কোন কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খাওয়া জায়েজ? অনেকেই বলে ,মুরগীর বা হাঁসের চামড়া খাওয়া নাজায়েজ আবার মুরখীর পা খাওয়াও নাজায়েজ । বিস্তারিত বুঝিয়ে বলুন । উত্তরঃ সূরা মায়েদাঃ আয়াত ৩: তোমাদের জন্য মৃত জীব, রক্ত, শুকর-মাংস, আল্লাহ ছাড়া অপরের নামে উৎসর্গর্কত পশু, কণ্ঠরোধে মারা পশু, আঘাত লেগে মরে যাওয়া পশু, পতনের ফলে মৃত পশু, শৃঙ্ঘাঘাতে মৃত পশু, এবং হিংস্র জন্তুতে খাওয়া পশু, হারাম করা হয়েছে; যা তোমরা জবেহ দ্বারা হালাল করেছ তা ছাড়া। আর যে সমস্ত পশুকে পুজার বেদীতে বলি দেওয়া হয়েছে তা এবং জুয়ার তীর দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করাও তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। এসব কাজ পাপ । আজ কাফিরেরা দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণের ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়েছে । সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না; শুধু আমাকেই ভয় কর। আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহকে সম্পূর্ণ করলাম। তবে কেহ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় আহার করতে বাধ্য হলে সেগুলি খাওয়া তাহার জন্য হারাম হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। সূরা মায়েদাঃ আয়াত:88( আটাশি): আর আল্লাহ তোমাদেরকে যা দান করেছেন তন্মধ্য হতে রুচিকর বস্তুগুলো ভক্ষণ কর, আর আল্লাহকে ভয় কর-যার প্রতি ঈমান রাখ। আমি যতদূর জানি একটি পশু এবং পাখি যা উপরোক্ত নিয়ম মেনে জবেহ করা হয়েছে তা থেকে রুচিকর বস্তুগুলো খাওয়া হালাল।হাস-মুরগীর চামড়া খাওয়া নাজায়েজ এরকম কথা আমি কখনো শুনি নাই। নিয়ম মেনে জবেহ করলেই বিষ্ঠা, মুত্র, পায়খানা হালাল নয়। তবে ফার্মের মুরগির পা যদি রুচিকর হয় খাবেন রুচিকর না হলে খাবেননা। আবার হালাল জিনিসকে হারাম মনে করা যাবে না। আমার জানার পরেও আরো জানতে পারেন।
আমার জানা মতে মুরগির পা পুস্তি খাওয়া যায়.. আর যারা বলে খাওয়া যায়েজ নাই, তাদের বলুন সঠিক দলিল দিতে.
হালাল পশু যদি আল্লাহ তা'লার নামে যবাই করা হয় তাহলে তার ৭টি অঙ্গ ছাড়া বাকী সবগুলো খাওয়া হালাল। চাই সেটা ফার্মের মুরগী হোক, অথবা সাধারণ মুরগী হোক, অথবা গরু, কিংবা ছাগল হোক।
হালাল পশুর হারাম ৭টি অঙ্গ:
১- প্রবাহিত রক্ত।
২- নর প্রাণীর পুং লিঙ্গ।
৩- মাদী প্রাণীর স্ত্রী লিঙ্গ।
৪- অন্ডকোষ।
৫- মাংসগ্রন্থি।
৬- মুত্রথলি।
৭- পিত্ত।
وَأَمَّا بَيَانُ مَا يَحْرُمُ أَكْلُهُ مِنْ أَجْزَاءِ الْحَيَوَانِ الْمَأْكُولِ فَاَلَّذِي يَحْرُمُ أَكْلُهُ مِنْهُ سَبْعَةٌ: الدَّمُ الْمَسْفُوحُ، وَالذَّكَرُ، وَالْأُنْثَيَانِ، وَالْقُبُلُ، وَالْغُدَّةُ، وَالْمَثَانَةُ، وَالْمَرَارَةُ لِقَوْلِهِ عَزَّ شَأْنُهُ {وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} [الأعراف: 157] وَهَذِهِ الْأَشْيَاءُ السَّبْعَةُ مِمَّا تَسْتَخْبِثُهُ الطِّبَاعُ السَّلِيمَةُ فَكَانَتْ مُحَرَّمَةً. (بدائع الصنائع، كتاب التضحية، باب صفة التضحية، فَصْلٌ فِي بَيَانُ مَا يَحْرُمُ أَكْلُهُ مِنْ أَجْزَاءِ الْحَيَوَانِ الْمَأْكُولِ-5/61، وكذا فى الفتاوى الهندية-5/290، وفى رد المحتار، كتاب الأضحية)
الغُدَّةُ والغُددَةُ: كُلُّ عُقْدَةٍ فِي جَسَدِ الإِنسان أَطاف بِهَا شَحْم. والغُدَدُ: الَّتِي فِي اللَّحْمِ، (لسان العرب، فصل الغين المعجمة)
والله اعلم بالصواب