2 Answers
চিংড়ি খাওয়া যায়। কারণ এগুলো পানিতে বসবাস করা প্রাণী। আর পানির শিকার (যা হিংস্র নয়) হালাল। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের জন্য সাগরের শিকার হালাল করা হয়েছে’ (মায়েদাহ ৯৬)।
সিগারেট খাওয়া হারাম।
যে সমস্ত হুজুররা সিগারেট খাওয়াকে “মাকরূহ” বলে ফতোয়া দেয় তাদের সিগারেট সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নেই। সিগারেটের ক্ষতির পরিণাম সম্পর্কে তাদের ধারনা নেই তাই তারা সিগারেট খাওয়াকে “মাকরূহ” বলে ফতোয়া দেয়। এতে দোষটা আসলে তাদের পুরোপুরি না। কেননা কুরআন ও হাদিসে সিগারেট সম্পর্কে কোন কথা বলা হয় নি।
যে সমস্ত হুজুররা সিগারেট খাওয়াকে “মাকরূহ” বলে ফতোয়া দেয় তাদের এই ফতোয়ার অন্যতম কারন ঐ সমস্ত বিদআতি হুজুররা অধিকাংশই পান(জর্দা) খোর। তারা যদি সিগারেটকে হারাম বলে ফতোয়া দেয় তবে সাধারণ মানুষ বুঝে ফেলবে এবং জিজ্ঞাস করবে- আপনি যে জর্দা দিয়ে পান খাচ্ছেন সেটাও তামাক আর আমি যে সিগারেট খাচ্ছি সেটাও তামাক, আপনি হুজুর বিধায় আপনারটা জায়েজ হলে গেল আর আমারটা হারাম হয়ে গেল।
তাই ঐ সমস্ত বিদআতি হুজুররা সিগারেট খাওয়াকে “মাকরূহ” বলে ফতোয়া দেয়। তবে বিনা জর্দাতে যদি কেউ পান খায় তবে সেটা হালাল হবে।
পান এবং সিগারেট খাওয়া এমন একটি বদ অভ্যাস যা নিজের ক্ষতির পাশাপাশি অন্যের ক্ষতি করে থাকে। সিগারেটের বর্জনকৃত ধোঁয়া অন্য মানুষের নাকে দিয়ে তাঁর ফুসফুসে প্রবেশ করে ফলে সেই লোকটির ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারো কি কোন অধিকার আছে অন্যের ক্ষতি করা? যারা পান খায় তাদের মুখের জর্দার গন্ধে অন্য মানুষের তাদের সাথে কথা বলতে কষ্ট হয়। তাদের পানের পিক অনেক সময় অন্যের জামা-কাপড় নষ্ট করে, তারা সুন্দর পরিবেশকেও পানের পিক দ্বারা নষ্ট করে। আর বিনা কারনে অন্যকে কষ্ট দেয়া ও ক্ষতি করা একটি মারাত্মক কাবিরা গোনাহ।
মহান আল্লাহ্ বলেন- "যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। (সুরা আল আহযাবঃ ৫৮)।
হাদীস থেকে প্রমাণ দিলাম...
(১) সিগারেটের গায়ে লেখা থাকে
"ধুমপান মৃত্যু ঘটায়": আল্লাহর
বাণী- "তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের
দিকে নিক্ষেপ
করো না।" [বাকারা-১৯৫] সবাই জানে
কীভাবে সিগারেট একজন
মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়।
(২) সিগারেট-জর্দ্দা নেশাজাতীয়
জিনিস : নবী (সা) বলেছেন- "
প্রত্যেক নেশার বস্তুই মাদক (খামার) আর
প্রত্যেক নেশার
জিনিসই হারাম।" [মুসলিম-২০০৩]
(৩) কেউ একসাথে ১০ টি সিগারেট
খেলে তার নেশা হতে বাধ্য :
রাসূল (সা) বলেছেন- "যা অধিক সেবন
করলে নেশার সৃষ্টি হয় তা কম
সেবন করাও হারাম।" [তিরমিযি-১৮৬৫,
আবু দাঊদ-৩৬৮১]
(৪) সিগারেট-জর্দ্দা অপবিত্র জিনিস :
আল্লাহ বলেন- "তোমাদের
জন্য পবিত্র বস্তু হালাল ও অপবিত্র বস্তু
হারাম
করা হয়েছে।" [আরাফ-১৫৭]
(৫) সিগারেট জর্দ্দায় কোন ফায়দা নেই,
এটা অপব্যায় : আল্লাহ
বলেন- "নিশ্চয়ই অপব্যায়কারী শয়তানের
ভাই।" [সূরা ইসরা-২৭]
(৬) সিগারেটের ধোঁয়ায় মানুষ চরম কষ্ট
পায় : রাসূল (সা) বলেন-
"যে ব্যক্তি আখিরাতে বিশ্বাস রাখে,
সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট
না দেয়।" [বুখারী]
(৭) সিগারেট পুষ্টিকরও নয়, ক্ষুধা নিবারণ
মূলকও নয় :
জাহান্নামীদের খাবারের প্রসঙ্গে
আল্লাহ বলেন- "এটা তাদের
পুষ্টিও যোগাবে না ক্ষুধাও নিবারণ
করবে না।" [গাশিয়াহ-৭]
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy