2 Answers
#1000 কয়েকদিন আগে মাদারীপুরের পতিতাপল্লী উচ্ছেদ করা হয়েছে এলাকাকে পাপ কাজ থেকে উদ্ধার করতে এবং সমাজকে কলুষমুক্ত রাখতে! বেশ ক’বছর আগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজার থেকেও এভাবেই উচ্ছেদ করা হয়েছিল যৌনকর্মীদের এবং তারপরের ঘটনা আমরা সবাই জানি! এসব যৌনকর্মী ছড়িয়ে পড়েছিল রাস্তাঘাট, আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে হোটেল এবং বস্তিতেও। একটা এলাকাকে পাপমুক্ত করতে গিয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল! আমি কোনোভাবেই এই পেশার পক্ষে নই; কিন্তু সমাজের সুধীজনদের একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করি, একটা মেয়ে কতটুকু বিপদে পড়লে বা কোন অবস্থায় নিজেকে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত করে বা আদৌ তারা নিজেরা স্বেচ্ছায় এ পেশায় যুক্ত হয় কি-না? আমরা যতদিন পর্যন্ত এসব হতভাগা মেয়ের জীবিকা নির্বাহে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করতে পারব না, রাষ্ট্র এবং সমাজ না করবে, ততদিন পর্যন্ত কোনোভাবেই এ পেশাকে নির্মূল করা সম্ভব কি? যদি তা না হয় তাহলে ২-১টি পল্লী উচ্ছেদ করে এসব মেয়েকে ভাসমান করে পুরো সমাজটাই কি পতিতাপল্লী হয়ে উঠবে না?
যেসব সুধীজন এই অসাধারণ সমাজকল্যাণমূলক ভালো কাজটি করে বাহবা কুঁড়িয়েছেন তাদের কাছে আমার সবিনয়ে কিছু প্রশ্ন_
১. এখানে যেসব মেয়ে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের কতজন স্বেচ্ছায় এবং শখ করে এ কাজ করছে? নাকি ভদ্রবেশী শয়তানদের লোভ-লালসার শিকার হয়ে বাধ্য হয়েছে এই পথে আসতে?
২. এসব মেয়েকে সমাজ, সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নাম দেওয়া হয়েছে পতিতা। কিন্তু যারা এ জায়গায় বিকৃত লালসা পূরণ করতে যান, তাদের কি পতিত বলা উচিত নয়? উচ্ছেদের মত মহৎ উদ্যোগে তাদের কি চিহ্নিত করে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে?
পতিতাবৃত্তি বাংলাদেশের আইনে অবৈধ কোনো পেশা নয়। সরকারি আইন মেনে রীতিমতো রেজিস্ট্রেশন করে এ পেশায় আসতে হয় এবং পতিতাপল্লীর সব মেয়েই রেজিস্ট্রিকৃত পেশাদার এবং তাদের ভোটাধিকার রয়েছে। তাহলে কেন এবং কার স্বার্থে এই উচ্ছেদ? আমরা সব সময়ই লক্ষ করি, নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় নব্য সমাজকর্মী বা ভালো মানুষের আবির্ভাব ঘটে যারা নিজেদের ভালো জাহির করতে এসব তথাকথিত কাজগুলো করে নিজেদের জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেন। এ বিষয়টি আমরা এর আগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের সময়ও দেখেছি।
যতদূর জানি, হাইকোর্টের একটি নিষেধাজ্ঞা ছিল এই পল্লী উচ্ছেদের বিরুদ্ধে। তারপরও দিনদুপুরে সবার সামনে এই বস্তি উচ্ছেদ হয়েছে। তাহলে আইন আর প্রশাসন কি এতই দূর্বল, নাকি আইন সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টত উল্লেখ আছে_ ধর্ম-বর্ণ, পেশা বা অন্য কোনো কারণে কারও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা যাবে না বা কারও বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ; কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা এর কোনোটারই প্রয়োগের কথা এখন পর্যন্ত শুনিনি।
একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন নৌবন্দরে পতিতাপল্লী ছিল, এখনও টাঙ্গাইল, দৌলতদিয়া এবং খুলনায় বড় পতিতালয় আছে। এখানে মূলত যেসব মেয়ে এ পেশায় এসেছে তাদের বেশির ভাগই প্রতারণা এবং পাচারের শিকার হয়ে এসেছে। অনেকে আবার মায়ের উত্তরাধিকারের সূত্র ধরে এ পেশায় এসেছে বা আসছে। ২০০৫ সালে চিলড্রেন ইন দ্য হিডেন ওয়ার্ল্ডে ফিল্মটির কাজ করতে গিয়ে আমার কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছিল। মূলত এখানে যেসব মেয়ে আছে তারা কেউই স্বাধীন নয়, এরা বাড়িওয়ালি, দালাল এবং সমাজপতিদের হাতে জিম্মি। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এদের আয়ের একটা বড় অংশ বাড়িওয়ালি, দালাল আর সমাজপতিদের পকেটে যায়, এর বাইরে যা থাকে তা খুবই সামান্য এবং তা দিয়ে কোনোমতে জীবিকানির্বাহ করে তারা। আরও মজার বিষয় হচ্ছে, এরকম অনেক মা-বাবা আছেন, তারা মেয়ের পেশাকে জেনেও তার কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নিচ্ছেন; কিন্তু তাকে মেয়ের মর্যাদা দিচ্ছেন না। কারণ, সার্থের কোনো রঙ নেই।
আমরা প্রতিনিয়ত নানা অন্যায়, অসততা, চুরি, ঘুষ খাচ্ছি। দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত আছি। সমাজের উঁচুতলায় ওঠার জন্য নিজের স্ত্রী বা মেয়েকে অন্যের ভোগের শিকার করছি; কিন্তু আমরা পতিত হই না। আমাদের পার্টির জৌলুস বাড়ানোর জন্য সোসাইটি গার্ল আমাদের স্ট্যাটাস বাড়ায়। আর ওইসব আধপেটা খাওয়া ততধিক দরিদ্র, অপুষ্ট নোংরা মেয়েগুলো পেটের দায়ে অথবা বাধ্য হয়ে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় তার দেহ বিক্রি করে, তাতে আমাদের সমাজ নোংরা হয়ে যায়, যার খদ্দের আবার আমরাই!
পরিশেষে একটা গল্প বলি, যদিও এটা সত্য ঘটনা_ রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাশিয়া সরকার একটা কাজ করেছিল, সেখানকার পতিতাপল্লীতে যারা যেত তাদের সবার নাম, ছবিসহ বাসার ঠিকানা লেখা বাধ্যতামূলক ছিল এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সেসব নামের তালিকা, ঠিকানা ও ছবি প্রকাশ করা হতো জনসমক্ষে। এর কিছুদিন পর দেখা গেল, ওইসব পল্লীতে আর খদ্দের পাওয়া যাচ্ছে না। এক সময় খদ্দেরের অভাবে পল্লীর মেয়েরা এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হলো।
আমরা তথাকথিত সুধীজনরা সবসময়ই অন্যের দিকে আঙুল তুলে বেড়াই। কখনোই কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখি না। এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ব্যাধির উৎস নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই এবং ব্যাধিমুক্ত হওয়ারও কোনো ইচ্ছা নেই, তাই একটি নির্দিষ্ট জায়গার ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়।
যৌনকর্মী নিশির নেপথ্য কষ্টের গল্প
লিংকন রায় অন্তর
বাংলা অভিধানে লালবাতির এলাকা নামে বিশেষ একটা জায়গা আছে। মানুষ টাকার বিনিময়ে জৈবিক চাহিদা মেটাতে যায় সেখানে।আর কেউপেট বাঁচাতে নামে সেই কাজে।যাকে খাটি বাংলায় পতিতালয় বলে। নিশি (মানুষের দেয়া নাম) মেয়েটি কদিন হল অসুখ থেকে উঠেছে। কাজে যেতে পারছে না।কাজের জন্য রাতে বের হতে হয়। বৈরী আবহাওয়া,খদ্দের পাওয়া যায়না।অসুখের জন্য কিছু টাকাঋণ ও করতে হয়েছে তাকে মালার কাছ থেকে।মালা তার বান্ধবী সেও একই কাজ করে। যেভাবেই হোক ঋণের টাকা আগে শোধ করতে হবে।এ পথে এসেছে আজ প্রায় দুই বছর। মামা নিয়ে এসেছে দেশ থেকে ঢাকা শহরে। সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করেও কাজে বের হয় সন্ধা। রাত হলেও সেজে বের হতে হয় না হলে খদ্দেরের চোখে লাগে না। ভালো সাজ দিতে পারলে রেট টাও বেশি।দালাল পুলিশ নিয়ে যায় কাজের অর্ধেকের বেশি টাকা। পথে পথে ঘুরতে হয়,বিশেষ কিছু জায়গা আছে কাস্টমাররা আসে।বৃষ্টি তাই আজ মানুষ কম।তবুও যাদের অনেক ক্ষিধা ঠিকই আসবে,নিশি ও পেট বাঁচাতে হবে অন্য উপায় নেই। কয়েকজনের সাথে কথা বলছে, কিন্তু ধর দামে মিলছে না। রাত প্রায় অনেক হয়ে গেছে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিও বাড়ছে।রাস্তা পাড় হবে,ঐপাশ টাই কিছু লোক দেখা যাচ্ছে।রাস্তাটা পাড় হওয়াও অনেক কঠিন। লোক গুলি চলে যাচ্ছে তাই দ্রুত যেতে হবে দুদিক না দেখেই দৌড় দিল নিশি কিন্তু রাস্তাটা আর পাড় হতে পারলো না, একটি প্রাইভেট কার চাপা দেয় নিশি কে।
আশপাশের লোকজন জড় হয় সেখানে,লালবাতি এলাকায় খবর পৌছে যায় নিশি এক্সিডেন্ট করেছে।পুলিশ আসে,পুলিশ দেখে মানুষ জন সরে পড়ে। তখনো দেহে প্রান ছিল নিশির।পুলিশ হাসপাতালেয় কথা বলে নিয়ে যায় নিশি। রাত গড়িয়ে সকাল হয়,বৃষ্টির ভাব টা আজ কেটেগেছে। ঝকঝকে রোদ। সেই চির চেনা রাস্তা,বড় বড় গাড়ি শতশত মানুষ। রাতে এখানে কিছুহয়েছিল বুঝারই উপায় নেই।কয়েকটা মানুষ কয়েকটা হাসপাতালে নিশির খোঁজ করেছিল কিন্তু নিশি নামের কোন রোগী এখানে ভর্তি হয় নি।থানায় ও গিয়েছিল,তারাও কিছু জানে না।
একটি নিশি রাতের অন্ধকারে গায়েব হয়ে গেল,এভাবে হয়তো প্রতিদিন নতুন করে গায়েব হয়ে অন্য কোন নিশি জীবন।কিছু মানুষ চিরকালই অন্ধকারে থেকে যায়।।
পরিশেষে বলতে চাই,জীবন বড়ই কঠিন যা একজন মানুষকে সব কিছু করতেই বাধ্য করে।এর জন্য আমরাই দায়ী।আমরা নিজেদের মত চলতে থাকবো এবং আশপাশ দিয়ে দু-একজন গায়েব হয়ে যাবে আর আমরা টেরও পাবো না।
একটা মেয়ে প্রতিতা হওয়ার পিছনে কম বেশি অনেক কারণ থাকে । আবার কেউ কেউ শখের বসে হয় । তবে বেশির ভাগ মেয়ের পতিতা হওয়ার পিছনে কারণ থাকে । কেও নিজে ইচ্ছাই প্রতিতা হয়না । হয়তো বা সময়ের সাথে পরিস্থিতির শিকার। কোন মেয়ে নিজের সখে নিজের দেহ বিলিয়ে বেড়ায় না । আমি এটাই মনে করি কোন মেয়েই পতিতা হয়ে জন্মায় না । আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক সমস্যা , পক্ষপাতদুষ্ট সামাজিক নিয়ম, পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাব ইত্যাদি পরিস্থিতির স্বীকার হয়েই একটা মেয়ে বেছে নিতে বাধ্য হয় এই ঘৃণিত পতিতার জীবন । এটা কোন মেয়েরই কাম্য জীবন নয় । একটা মেয়ের পতিতা হয়ে উঠার পেছনের কাহিনী যাই হোক এটা ঠিক যে কোন মেয়েই স্বেচ্ছায় পতিতার জীবন বেছে নেয়না । কিন্তু প্রায় সব সময়ই যে বা যারা এই মেয়েটিকে অন্ধকার পতিতার জীবনে ঠেলে দিচ্ছে তারা রহস্যময় ভাবে থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে ।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy