শিরক নিয়ে সমস্যায় পড়েছি?
1 Answers
আল্লাহ্ তাআলা জানিয়েছেন যে, তিনি তওবাকারীর ও তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারীর সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। তিনি বলেন, বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ আল্লাহ্র অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ্ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।”[সূরা যুমার, আয়াত: ৫৩]
বিশেষভাবে শির্ক থেকে তওবা করা ও সে তওবা কবুল হওয়ার প্রসঙ্গে এসেছে, আল্লাহ্ তাআলা বলেন: “এবং তারা আল্লাহ্র সাথে কোন উপাস্যকে ডাকে না। আর আল্লাহ্ যাকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর তারা ব্যভিচার করে না; যে ব্যক্তি এগুলো করবে, সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি বর্ধিতভাবে প্রদান করা হবে এবং সেখানে সে স্থায়ী হবে হীন অবস্থায়। তবে যে তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, ফলে আল্লাহ্ তার গুনাহসমূহ নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[সূরা ফ্বুরকান, আয়াত: ৬৮-৭০]
আল্লাহ্ তাআলা খ্রিস্টানদের শির্ক ও কুফরের কথা উল্লেখ করার পর তাদেরকে তওবা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন: “তারা অবশ্যই কুফরী করেছে যারা বলে, ‘আল্লাহ্ তো তিনের মধ্যে তৃতীয়। অথচ এক ইলাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই। আর তারা যা বলে তা থেকে বিরত না হলে তাদের মধ্যে যারা কুফরীর উপর অটল থাকবে তাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে। তবে কি তারা আল্লাহ্র দিকে ফিরে আসবে না ও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[সূরা মায়িদা, আয়াত: ৭৩-৭৪]
গুনাহ্ যত বড় হোক না কেন আল্লাহ্র ক্ষমা, মহানুভবতা ও অনুগ্রহ তার চেয়ে বড়।
অতএব, আপনার কর্তব্য হচ্ছে– আল্লাহ্ অভিমুখী হওয়া। কৃত কর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। পুনরায় সেসব কর্মে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়া। তবে, আপনি আল্লাহ্র অনুগ্রহ, রহমত ও তাওফিকপ্রাপ্তির সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কারণ ইসলাম পূর্বের সকল গুনাহ্ ধ্বংস করে দেয়। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমর বিন আস (রাঃ) কে বলেছিলেন: “হে আমর! তুমি কি জান না যে, ইসলাম পূর্বের সকল গুনাহ্ মাফ করে দেয়।”[সহিহ মুসলিম (১২১) ও মুসনাদে আহমাদ (১৭৮৬১)]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন: “গুনাহ্ থেকে তওবাকারী ঐ ব্যক্তির মত যার গুনাহ্ই নাই।”[সুনানে তিরমিযি, আলবানী হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন]
বান্দা যদি তওবা করে আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করেন, তাকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ্ তাআলা বলেন: “আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন ও পাপসমূহ মোচন করেন।”[সূরা শুরা, আয়াত: ২৫] তিনি আরও বলেন: “আর আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি যে তওবা করে ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তারপর সৎপথে অবিচল থাকে।”[সূরা ত্বাহা, আয়াত: ৮২] তাই বান্দার কর্তব্য হচ্ছে– আল্লাহ্র প্রতি ভাল ধারণা পোষণ করা, তওবা কবুল হওয়ার আশা রাখা। কারণ আল্লাহ্ তাআলা বলেন: ‘আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তেমন।”[সহিহ বুখারী (৭০৫৫) ও সহিহ মুসলিম (২৬৭৫)] মুসনাদে আহমাদ (১৬০৫৯) এ সহিহ সনদে এসেছে– “আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তেমন। অতএব, বান্দা আমার প্রতি যেমন ইচ্ছা তেমন ধারণা পোষণ করুক।”
সুত্রঃhttps://www.google.com/amp/s/islamqa.info/amp/bn/answers/34171