1 Answers

সহিহ মুসলিমে আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবারে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: “এটি এমন দিন যে দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমার ওপর ওহি নাযিল হয়”।

ইমাম তিরমিযি (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “প্রতি সোমবারে ও বৃহস্পতিবারে আমলনামা পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি আমি রোযা রেখেছি এমতাবস্থায় যেন আমার আমলনামা উপস্থাপন করা হয়”[তিরমিযি হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন। আলবানী ‘সহিহুত তিরমিযি’ গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘সহিহ’ আখ্যায়িত করেছেন]

পূর্বোক্ত হাদিস থেকে জানা গেল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার তাঁর জন্মদিন হওয়ার কারণে যেমন রোযা রেখেছেন তেমনি এ দিনটির মর্যাদার কারণেও রোযা রেখেছিলেন। কেননা এ দিনে আল্লাহ তাঁর ওপর ওহী নাযিল করেছেন। এ দিনে তাঁর আমলনামা আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা থাকা অবস্থায় তাঁর আমলনামা পেশ হওয়া চাইতেন। এজন্য ঐ দিনে রোযা রাখার অনেকগুলো কারণের মধ্যে ঐ দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম হওয়াটাও একটি কারণ।

সুতরাং যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মত সোমবারে রোযা রাখতে চান, এর মাধ্যমে ক্ষমার আশা করেন, আল্লাহ তার বান্দাদেরকে যে সব নেয়ামত দিয়েছেন সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করতে চান; যে নেয়ামতগুলোর মধ্যে সেরা নেয়ামত হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও তাঁর নবুয়ত এবং সেই দিনে ক্ষমাপ্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করেন— তাহলে এটি একটি ভাল আমল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে, বিশেষ কোন সপ্তাহে এ আমলটি করা অন্য সপ্তাহে না করা এবং বিশেষ কোন মাসে এ আমলটি করা অন্য মাসে না করা— এমনটি যেন না হয়। বরং ব্যক্তি তার সাধ্যানুযায়ী সবসময় এটি করবে।

আর মিলাদুন্নবী পালনের উদ্দেশ্যে বছরের বিশেষ একটি দিনে এ আমলটি করা— এটি বিদআত ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর খেলাফ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারে রোযা রেখেছেন। অথচ মিলাদুন্নবী পালনের নির্দিষ্ট এ দিনটি সোমবারেও পড়তে পারে; আবার সপ্তাহের অন্য কোন দিনও হতে পারে।

2642 views Answered

Related Questions

Next steps