1 Answers

জামাআতে ইমামের ফরজ নামাজ ভুল হলে করনীয় হচ্ছে শেষ বৈঠকে সাহু সিজদাহ দেওয়া। একাকি নামাজ পড়তেও এক-ই বিধান। তবে মুক্তাদি হলে ইমামের অনুসরন করবেন। সাহু সিজদাহ দিতে হয় যখন কয়েকটি বিশেষ কারণে যখন নামাজ বা সালাত ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে। ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়লে নামাজের শেষ বৈঠকে ডান পাশে সালাম ফেরানোর পর বাম পাশে সালাম না ফিরিয়ে দুইবার সিজদা করে তারপর আবার আত্তাহিয়াতু এবং দরূদ পড়ে ডানে-বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়। এই অতিরিক্ত সিজদাই সিজদায়ে সাহু। নামাজ ত্রুটিযুক্ত হওয়ার কারণ নামাজের মধ্যে যতগুলি ওয়াজিব বিষয় রয়েছে তার মধ্যে একটি অথবা একাধিকটি যদি ভুলবশতঃ ছেড়ে যায় তখন সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। সিজদায়ে সাহু দিলে এতে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। যদি সিজদায়ে সাহু না করা হয় তবে নতুন করে নামাজ পড়তে হবে। যে কারণে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়ঃ ১। নামাজের মধ্যে কোন ফরজ বা ওয়াজিব আদায়ে বিলম্ব হলে। ২। কোন ফরজ দুইবার আদায় হলে। ৩। কোন ওয়াজিব বাদ পড়লে। ৪। কোন ওয়াজিব পরিবর্তন করলে। (দুররে মোখতার) উপরিউক্ত প্রকার ভুলের কারণে সাহু সিজদাহ দেওয়া ওয়াজিব। ফরজ সালাতের মধ্যে যদি কেউ কোনো ওয়াজিব অথবা কোনো ফরজ কাজ অনিচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করে, তাহলে তার ওপর সিজদাহে সাহু আসবে। যেমন, তিনি প্রথমবার রুকু করেছেন, আবার দ্বিতীয়বারও রুকু করে ফেলেছেন অথবা তিনি প্রথমবার সিজদাহ দিয়েছেন, দ্বিতীয়বারও দিয়েছেন, আবার তৃতীয়বারও সিজদাহ দিয়ে ফেলেছেন। বেশি করে ফেলেছেন। দ্বিতীয় রাকাতে সালাম ফিরিয়ে ফেলেছেন। যদি চার রাকাত নামাজ হয়, তাহলে চতুর্থ রাকাতে সালাম ফেরাবেন। আবার দ্বিতীয় রাকাতে কেউ যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বসলেন না, তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন, ওয়াজিব তরফ করলেন না, এই কারণে তিনি সিজদাহে সাহু দেবেন। তাহলে বোঝা গেল, একটি হলো বৃদ্ধির কারণে, অন্যটি হলো ছেড়ে দেওয়ার কারণে। কোনো কারণে সালাতের ওয়াজিব ও রোকনের ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি হলে, তখন এই সন্দেহ দূর করার জন্য তিনি ইয়াকিনের ওপর নির্ভর করবেন। যেমন : সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তৃতীয় রাকাত আদায় করেছেন না, দ্বিতীয় রাকাত আদায় করেছেন। তখন তিনি দ্বিতীয় রাকাত ধরে নিয়ে তৃতীয় রাকাত নিশ্চিত করবেন এবং সাহু সিজদাহ দেবেন। যদি মুক্তাদি নিশ্চিতভাবে জেনে থাকেন যে ইমাম অতিরিক্ত এক রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছেন তবে ইমামকে সতর্ক করা তার উপর ওয়াজিব।

2692 views

Related Questions