সুদ বা রিবা কে মাফ করবে?
2 Answers
নিজের অজান্তে কোনো পাপ কাজ করলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান তিনি মাফ করে দিবেন.. তবে ব্যাংকে টাকা রাখলে সুদ আসবেই
কারো ব্যাংক একাউন্টে সুদের টাকা জমা হলে, সেক্ষেত্রে সুদের টাকাটা কী করা হবে–এব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের দু’টি মতামত পাওয়া যায়–
ক. ব্যাংক থেকে কেবল মূল টাকা উত্তোলন করবে। সুদ তুলবে না। ব্যাংকওয়ালাদের কাছেই রেখে দিবে।
এ মতের যুক্তি হল, সুদ তুলে নিলে তো সুদ হস্তগত করা হবে। সুদ হস্তগত করা গুনাহ। সুতরাং গুনাহ করে সুদ দান করার তুলনায় গুনাহয় না জড়ানোই ভাল।
খ. সুদের অংশটা সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিবদের মধ্যে অথবা জনকল্যাণমূলক কাজে দান করে দিবে। ব্যাংকে রেখে দিবে না।
এ মতের যুক্তি হল, একাউণ্টে সুদ জমা হওয়ার অর্থই হল সুদ হস্তগত হওয়া। কারণ ঐ টাকা ব্যাংকের মালিকানা থেকে বের হয়ে গেছে। একাউণ্ট হোল্ডার যা খুশি তা করতে পারে। বাস্তবে হাতে হস্তগত করা আর একাউণ্টে জমা হওয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। উভয় ক্ষেত্রেই মালিকানা স্থানান্তর হয়ে যায়। হস্তগত যেহেতু প্রমাণিত হল, এখন মাসআলা হল, মূল মালিককে তা ফিরিয়ে দিবে। কিন্তু এখানে মূল মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। কারণ, মালিক তো অগণিত লোনগ্রহীতা।
অতএব, এটি হারানো বস্তু (মালে লুকতা) এর পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উক্ত টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবকে দান করে দিতে হবে। কারণ রেখে দিলে এক সময় তা সেন্ট্রাল ব্যাংকে জমা হবে। এরপর এ টাকা কোথায় ব্যয় হবে তা অনিশ্চিত। হতে পারে খোদ ব্যাংকই তা খেয়ে ফেলবে।
অগ্রগণ্য মতামত: শেষোক্ত মতটিই অগ্রগণ্য। এটিই অধিকাংশ ফকীহের মতামত। (সূরা বাকারা ২৭৫ তাফসীরে কুরতুবী ৩/২২৫, ২৩৭ বযলুল মাজহূদ ১/৩৭ মাআরিফুস সুনান ১/৩৪ফাতওয়ায়ে উসমানী-৩/২৬৯, কিফায়াতুল মুফতী-৭/১০৫)
অনেকেই জানতে চান, মাদরাসার তালিবুল ইলমকে দান করা যাবে কিনা?
এর জবাব হল, যদি তিনি গরিব ও হাজতমন্দ হন তাহলে তাকে দেওয়া যাবে। তবে তালিবুল ইলম আল্লাহর দরবারে অনেক সম্মানিত, তাই সুদের মত ঘৃণিত মালের মাধ্যমে তার সহযোগিতার চিন্তা না করে হালাল মালের মাধ্যমে তার সহযোগিতা করা উচিত।