আমার বয়স ১৯ বছর, যেনা পাপ এটা জেনেই আমি একটা মেয়ের সাথে যেনা করছি, কিন্তু যেনা করার পর থেকে আমার মন পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি ভালো হয়ে জেতে চাই। আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেন? 
3737 views

4 Answers

জিনার গুনাহ মাফের জন্য তওবা করতে হয়। তওবা হলো আল্লাহকে কথা দেওয়া যে আপনি ভবিষ্যতে এরকম কাজ আর কখনো করবেন না। তাহলে আল্লাহ তায়ালা জিনার গুনাহ মাফ করবেন।

3737 views

মনের থেকে তওবা করলে অবশ্যই মাফ পাবেন।যেকোনো গুনাহই মনে থেকে না করার প্রতিজ্ঞা করে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই মাফ করে দিবেন

3737 views

আল্লাহ চাইলে তিনি অবশ্যই ক্ষমা করতে পারেন। কেননা, তিনি পবিত্র কুরআনে বলেছেনঃ যারা তওবা করে, বিশ্বাস ও সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের পাপকর্মগুলিকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা ফুরকান, আয়াত নং ৭০) এখান হতে বুঝা যায় যে, বিশুদ্ধ তওবা দ্বারা পৃথিবীতে সমস্ত পাপ মোচন হতে পারে; তাতে তা যত বড়ই হোক না কেন। আর সূরা নিসার ৯৩ আয়াতে মু'মিন হত্যার শাস্তি যে জাহান্নাম বলা হয়েছে, তা ঐ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে বুঝতে হবে, যখন সে তওবা করবে না; বরং বিনা তওবায় মৃত্যু বরণ করবে। কারণ হাদীসে আছে যে, একশত লোক হত্যাকারীকেও তওবার কারণে মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। (মুসলিম) এর একটি অর্থ এই যে, মহান আল্লাহ তার অবস্থার পরিবর্তন ঘটান। ইসলাম গ্রহণের আগে সে পাপাচার করত, এখন সে সৎকর্ম করে, আগে শিরক করত এখন শুধুমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করে। আগে কাফেরদের সাথে মিলিত হয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়ত। আর এখন সে মুসলিমদের দলভুক্ত হয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইত্যাদি। এর অন্য একটি অর্থঃ তার পাপগুলো নেকী দ্বারা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। এর প্রমাণ হাদীসেও পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "আমি ঐ ব্যক্তিকে জানি যে, সর্বশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে ও সর্বশেষে জাহান্নাম হতে বের হবে। সে হবে ঐ ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে যার ছোট ছোট পাপগুলো তুলে ধরা হবে আর বড় বড় পাপগুলি একদিকে রেখে দেওয়া হবে। তাকে বলা হবে, 'তুমি অমুক অমুক দিনে অমুক অমুক পাপ করেছিলে?' সে স্বীকৃতিবাচক জবাব দেবে এবং অস্বীকার করার কোন ক্ষমতা তার থাকবে না। তাছাড়া সে এই ব্যাপারেও ভয় পাবে যে, এক্ষনি তার বড় বড় পাপগুলি তুলে ধরা হবে। এমতাবস্থায় বলা হবে, 'যাও! তোমার প্রত্যেক পাপের বদলে এক একটি নেকী।' আল্লাহর এই দয়া দেখে সে বলবে, 'এখনও তো আমি আমার অনেক আমল দেখছি না।" এই কথা বলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হেসে ফেললেন, এমনকি তার দাঁত দেখা গেল। (মুসলিম)

3737 views

যিনার গুনাহ মাফ হবে তবে কিছু শর্ত আছে। উক্ত যিনা যদি জোরপূর্বক হয়ে থাকে তাহলে আগে উক্ত নারীর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। এছাড়া উক্ত গুনাহের জন্য উলামা সম্প্রদায়ের উক্তি এই যে, প্রত্যেক পাপ থেকে তওবা করা ওয়াজিব তথা অবশ্য-কর্তব্য। তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। ১। পাপ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। ২। পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে। ৩। ঐ পাপ আগামীতে দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তওবা বিশুদ্ধ হবে না। তওবা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে এবং এ ব্যাপারে উম্মতের ঐকমত্যও বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা নূরঃ ৩১ আয়াত) অর্থাৎ তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট (পাপের জন্য) ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর। (সূরা হূদঃ ৩) তিনি আরো বলেছেন, অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর বিশুদ্ধ তওবা। (সূরা তাহরীমঃ ৮) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, কারণ আমি দিনে একশত বার তার কাছে তাওবা করি। (মুসলিমঃ ২৭০২) অর্থাৎ যিনার গুনাহ থেকে মাফ পেতে চাইলে তওবা ছাড়া আর বিকল্প কোন পথ নেই।

3737 views

Related Questions