5 Answers
নামাজের মধ্যে কোরআন তেলাওয়াত করা ফরয।মহান আল্লাহ কোরআনুল কারীমে বলেন- "তোমরা এই কোরআন হতেই নামাজে তিলাওয়াত করো" স্বাভাবিক অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত করা পূণ্যের কাজ। হাদীসে আছে- কোরআনের প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতের বিনিময়ে দশটি করে নেকি প্রদান করা হয়।
ইসলামী পরিভাষা অনুযায়ী, কুরআনের অলৌকিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে -এই বিশ্বাসকে ইজায বলা হয়। আল কুরআন একটি ঐশি গ্রন্থ যা কোনো মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়।
তাছাড়া, কুরআন পাঠ করা সওয়াবের কাজ। ইসলামি আইনের মূল ভিত্তি ও উৎস হল কুরআন। ইসলামি আইনবিজ্ঞানে কুরআনের অবস্থান হলো প্রচলিত আইনবিজ্ঞানে সংবিধানের অবস্থানের মতো। কুরআনে বেশিরভাগ আইনের ক্ষেত্রেই সংক্ষিপ্ত মৌলিক আলোচনা করা হয়েছে।
যেমনঃ কুরআনে নামাজ ও যাকাতের আদেশ করা হয়েছে; কিন্তু এগুলোর সময়, পরিমাণ ও নিয়ম-কানুন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কুরআনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তিকে কুরআনের যৎসামান্য অংশ হলেও আত্মস্থ করতে হয় এবং প্রত্যহ অবশ্য পালনার্হ পঞ্চোপাসনায় তাকে কুরআন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কিছু অংশ আবৃত্তি করতে হয়। তাই, ইসলাম শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কুরআন পাঠ করা।
কুরআন তিলাওয়াতের বিধান --"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে শেখায় "
কুরআন হলো আল্লাহর বাণী ।কুরআন সম্পর্কে নবী(সা:) বলেছেন,কুরআনকে আরবিতে লেখা হয়েছে কারণ আরবি এর সৌন্দর্য বাড়ায় ।
কুরআন তেলাওয়াত করার বিধান হচ্ছে মুস্তাহাব। যা তারতিলের সঙ্গে তেলাওয়াত করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর কুরআন তিলাওয়াত করুন ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে। (মুজ্জামিলঃ ৪) এখানে বলা হয়েছে যে, তারতীল সহকারে পড়তে হবে। তারতীল বলে উদ্দেশ্য হলো ধীরে ধীরে সঠিকভাবে বাক্য উচ্চারণ করা। কুরআন তেলাওয়াত ও কুরআন খতম করার অনেক তাগিদ রয়েছে। এতো তাগিদ ও এত গুরুত্বের পরেও সেটা মুস্তাহাব পর্যায়ে। এটি জরুরী ফরজ পর্যায়ে নয়; যেটা না করলে কোন মুসলমান গুনাহগার হবেন। মুস্তাহাব এমন আমল যা পালন না করলে কোনো শাস্তি পেতে হবে না। কিন্তু পালন করা ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম। মুস্তাহাব কাজ করলে সওয়াব ও আল্লাহর দরবারে পুরস্কার আছে। কোরআন বিশুদ্ধভাবে শেখা ও শেখানোকে উত্তমতার কুষ্ঠিপাথরে বিবেচনা করা হয়েছে। সাহাবী হজরত উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাব) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি যে কোরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। তাছাড়া নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হলো কোরআন তেলাওয়াত।