বিয়ের আগে বিয়ে পরবর্তী ছেড়ে যাওয়ার কথা বললে তালাক হবে কিনা?
কেউ যদি বলে তুমি বিয়ের পর অমুক কাজ করলে আমাকে ছেড়ে দিয়ে করিও, তাহলে যাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে সে যদি বিয়ের পর সেই কাজটি করে তবে সেটি তালাক বলে গণ্য হবে কিনা ?
2611 views
1 Answers
বিয়ের আগেই তালাক দেয়া প্রকৃতপক্ষে কোন তালাক নয়। অর্থাৎ বিয়ের আগে যদি বলা হয় বিয়ের পরবর্তী তার স্ত্রীকে ছেড়ে যাওয়ার কথা তাহলে তালাক হবে না।
আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তান যে সকল জিনিসের মালিক নন সে সকল জিনিসের মানত জায়িয নয়, সে যার মালিক নয় তাকে সে মুক্তি দিতে পারে না এবং তার সাথে যার বিয়ে হয়নি তাকে সে তালাকও দিতে পারে না।
(সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৮১, হাদিসের মানঃ হাসান। সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নম্বরঃ ২০৪৭ হাদিসের মানঃ সহিহ)
আলী, মুআয ইবনে জাবাল, জাবির, ইবনু আব্বাস ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ অনুচ্ছেদের মধ্যে যে কয়টি হাদীস বর্ণিত আছে সেগুলোর মধ্যে এ হাদীসটিই সবচেয়ে উত্তম। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী মত দিয়েছেন। এই মত দিয়েছেন আলী ইবনে আবূ তালিব, ইবনে আব্বাস, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ), সাঈদ হুসাইন, শুরাইহ, জাবির ইবনু যাইদ প্রমুখ একাধিক ফিকহবিদ সাহাবী ও তাবিঈও। ইমাম শাফিঈ একই রকম কথা বলেছেন।
শতর্কতাঃ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, নির্দিষ্ট মহিলাকে বিবাহ সাপেক্ষে তালাক বললে তালাক পড়বে। ইব্রাহীম নাখঈ, শাবী (রহঃ) প্রমূখ আলিমদের সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তারা বলেছেন, যদি কোন সময় নির্দ্ধারিত করে তালাক উচ্চারণ করে আর সে সময়ের ভিতর ঐ মহিলাকে বিবাহ করে তবে তালাক পড়বে। এ হলো সুফইয়ান ছাওরী ও মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)-এর অভিমত। তারা বলেন, যদি নির্দিষ্ট কোন স্ত্রীলোকের নাম নেয় বা সময় নির্দ্ধারণ করে কিংবা বলে, অমুক স্থানের মেয়েটি বিয়ে করলে সে তালাক এবং এরপর যদি তাকে বিয়ে করে তবে তালাক হয়ে যাবে।
ইবনে মুবারক (রহঃ) এই বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, এমতাবস্থায় সে যদি বিবাহ করে তবে আমি বলিনা যে, ঐ মহিলা তার জন্য হারাম হয়ে গেল। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, এমতাবস্থায় সে যদি বিয়ে করে ফেলে তবে আমি তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করতে বলব না।
ইমাম ইসহাক (রহঃ) বলেন, ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াত অনুসারে নির্দিষ্ট মহিলার ক্ষেত্রে আমি তালাকের বিধান প্রয়োগ করার পক্ষপাতি, কিন্তু কেউ যদি বিয়ে করেই ফেলে তবে ঐ স্ত্রীলোক তার জন্য হারাম হয়ে গেছে বলে বলিনা। আর অনির্দিষ্ট মহিলার ক্ষেত্রে ইসহাক (রহঃ) আরও উদার মতামত অবলম্বন করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক থেকে উল্লেখ করা হয় যে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এক ব্যক্তি কসম করে যে, বিবাহ করবে না। করলে স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। পরে তার বিবাহ করার মত হয়। এমতাবস্থায় সে কি এই বিষয়ে যে ফকীহ বিবাহের অবকাশ রেখেছেন তাদের মত অবলম্বন করে বিবাহ করতে পারবে?
ইবনে মুবারক বললেন, এই বিষয়ে কার্যকর হওয়ার পূর্ব থেকে যদি এই ফকীহদের মত সত্য বলে বিশ্বাস করে থাকে তবে এখন সে তাদের মত অবলম্বন করতে পারবে। কিন্তু পূর্ব থেকে যদি কেউ এই মতে সন্তুষ্ট না থাকে বরং এই বিষয়ে নিপতিত হওয়ার পর যদি ঐ ফকিহগণের মত গ্রহণ করতে চায় তবে আমার মতে সে আর তাদের মত গ্রহণ করতে পারবে না।
আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তান যে সকল জিনিসের মালিক নন সে সকল জিনিসের মানত জায়িয নয়, সে যার মালিক নয় তাকে সে মুক্তি দিতে পারে না এবং তার সাথে যার বিয়ে হয়নি তাকে সে তালাকও দিতে পারে না।
(সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৮১, হাদিসের মানঃ হাসান। সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নম্বরঃ ২০৪৭ হাদিসের মানঃ সহিহ)
আলী, মুআয ইবনে জাবাল, জাবির, ইবনু আব্বাস ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ অনুচ্ছেদের মধ্যে যে কয়টি হাদীস বর্ণিত আছে সেগুলোর মধ্যে এ হাদীসটিই সবচেয়ে উত্তম। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী মত দিয়েছেন। এই মত দিয়েছেন আলী ইবনে আবূ তালিব, ইবনে আব্বাস, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ), সাঈদ হুসাইন, শুরাইহ, জাবির ইবনু যাইদ প্রমুখ একাধিক ফিকহবিদ সাহাবী ও তাবিঈও। ইমাম শাফিঈ একই রকম কথা বলেছেন।
শতর্কতাঃ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, নির্দিষ্ট মহিলাকে বিবাহ সাপেক্ষে তালাক বললে তালাক পড়বে। ইব্রাহীম নাখঈ, শাবী (রহঃ) প্রমূখ আলিমদের সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তারা বলেছেন, যদি কোন সময় নির্দ্ধারিত করে তালাক উচ্চারণ করে আর সে সময়ের ভিতর ঐ মহিলাকে বিবাহ করে তবে তালাক পড়বে। এ হলো সুফইয়ান ছাওরী ও মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)-এর অভিমত। তারা বলেন, যদি নির্দিষ্ট কোন স্ত্রীলোকের নাম নেয় বা সময় নির্দ্ধারণ করে কিংবা বলে, অমুক স্থানের মেয়েটি বিয়ে করলে সে তালাক এবং এরপর যদি তাকে বিয়ে করে তবে তালাক হয়ে যাবে।
ইবনে মুবারক (রহঃ) এই বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, এমতাবস্থায় সে যদি বিবাহ করে তবে আমি বলিনা যে, ঐ মহিলা তার জন্য হারাম হয়ে গেল। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, এমতাবস্থায় সে যদি বিয়ে করে ফেলে তবে আমি তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করতে বলব না।
ইমাম ইসহাক (রহঃ) বলেন, ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াত অনুসারে নির্দিষ্ট মহিলার ক্ষেত্রে আমি তালাকের বিধান প্রয়োগ করার পক্ষপাতি, কিন্তু কেউ যদি বিয়ে করেই ফেলে তবে ঐ স্ত্রীলোক তার জন্য হারাম হয়ে গেছে বলে বলিনা। আর অনির্দিষ্ট মহিলার ক্ষেত্রে ইসহাক (রহঃ) আরও উদার মতামত অবলম্বন করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক থেকে উল্লেখ করা হয় যে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এক ব্যক্তি কসম করে যে, বিবাহ করবে না। করলে স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। পরে তার বিবাহ করার মত হয়। এমতাবস্থায় সে কি এই বিষয়ে যে ফকীহ বিবাহের অবকাশ রেখেছেন তাদের মত অবলম্বন করে বিবাহ করতে পারবে?
ইবনে মুবারক বললেন, এই বিষয়ে কার্যকর হওয়ার পূর্ব থেকে যদি এই ফকীহদের মত সত্য বলে বিশ্বাস করে থাকে তবে এখন সে তাদের মত অবলম্বন করতে পারবে। কিন্তু পূর্ব থেকে যদি কেউ এই মতে সন্তুষ্ট না থাকে বরং এই বিষয়ে নিপতিত হওয়ার পর যদি ঐ ফকিহগণের মত গ্রহণ করতে চায় তবে আমার মতে সে আর তাদের মত গ্রহণ করতে পারবে না।
2611 views
Answered