বীর্যপাত হবার পর, কি কারনে গোসল কে ফরজ করা হলো। কিন্তু মজি বের হলে গোসল ফরজ হয় না। জানাবেন প্লিজ?
1 Answers
প্রথমে আমরা জেনে নি বীর্য ও মযি/মনীও মযি কি?এবং এর পার্থক্য?
বীর্য ও কামরস (মনী ও মযি) এর মাঝে মৌলিক তিনটি পার্থক্য রয়েছে:
১। বীর্য সবেগে ও শক্তি দিয়ে বের হয়। পক্ষান্তরে, কামরস কোন গতি ছাড়া বের হয়। কখনও কখনও এটি বের হওয়ার সময় মানুষ টেরও পায় না।
২। বীর্য হচ্ছে- সাদা, ঘন, গাঢ় তরল। এর গন্ধ গাছের মঞ্জরী বা ময়দার খামিরের মত। পক্ষান্তরে, কামরস হচ্ছে- স্বচ্ছ, পাতলা, পিচ্ছিল তরল; এর কোন গন্ধ নেই।
৩। বীর্য বের হওয়ার পর যৌন নিস্তেজতা আসে। পক্ষান্তরে, কামরস বের হওয়ার পর এরকম কোন নিস্তেজতা আসে না।
ইমাম নববী তাঁর ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে (২/১৪১) বলেন:
“এ তিনটি বৈশিষ্ট্যের যে কোন একটি পাওয়াই বীর্য সাব্যস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট; তিনটি একত্রে পাওয়া শর্ত নয়। যদি এ তিনটি শর্তের কোনটি পাওয়া না যায় তাহলে সেটাকে বীর্য বলে হুকুম দেয়া হবে না।”
মনী/বীর্য বাহির হলে গোসল ফরজ হবে,কারণ এটা আল্লাহর নবীর আদেশ!মনীও মযি সম্পর্কে হাদিসের ভায্য কি জেনে নি!
মযি:মযি হলো সাদা আঠালো পানি যা আদর, সোহাগ বা সহবাসের চিন্তা ও ইচ্ছা করার সময় নির্গত হয়। এটা সজোরে প্রবাহিত হয় না। এর ফলে দুর্বলতা অনুভব হয় না। তা নির্গত হওয়ার কথা মানুষ খুব কমই টের পায়। নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌনাঙ্গ থেকে এটা নির্গত হয়ে থাকে। তবে নারীর যৌনাঙ্গ থেকেই এটা অধিকতর নির্গত হয়।এটা সর্বসম্মতভাবে নাপাক।এজন্যই মহানাবী (ﷺ) এটা নির্গত হওয়ার কারণে লজ্জাস্থান ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমনঃ সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, একদা এক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ) কে মযি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: « «يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأُ তথা, সে তার লজ্জা স্থান ধৌত করবে।
অন্য এক হাদিসে বীর্যও মযি সম্পর্কে একসাথে এসেছে৷
عن بن عباس قال : المني والودي والمذي أما المني فهو الذي منه الغسل وأما الودي والمذي فقال اغسل ذكرك أو مذاكيرك وتوضأ وضوءك للصلاة
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মনি, ওদি ও মযির হুকুম হলো, মনি (বীর্য) নির্গত হলে গোসল করতে হবে। আর ওদি ও মযির ব্যাপারে তিনি বলেন, তা নির্গত হলে তোমার লজ্জাস্থান ধৌত কর এবং সালাতের জন্য ওযূ কর।
সুতরাং -ইবাদতের জন্য পবিত্রতা শর্ত, আর বীর্যও মনি হলো অপবিত্র অতএব -এসব সংঘটিত হলে শরীয়ত মুতাবেক অযু এবং গোসল করতে হবে৷
যখন যা আবশ্যক৷