2 Answers
মৃত্যুর পর আত্মাসমূহ নির্ধারিত স্থান কোথায় হবে? আল্লামা ইবন কাইয়ুম রহ. তার কিতাব আর রূহে এ মাসআলা সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন এবং কতগুলো মতামত উল্লেখ করে একটি সঠিক মত বলে দিয়েছেন। আত্মাসমূহ বারযাখে এদের নির্দিষ্ট স্থানে পরস্পরজড়িত পরস্পরে বিরাট ব্যবধান রয়েছে বলে তিনি বলেন। তন্মধ্যে ইল্লেয়্যিনের সর্বোচ্চে ফিরিশতাগণের সাথে কতগুলো রূহ রয়েছে, এগুলো হচ্ছে নবীদের রূহ। আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তাঁদের মধ্যেও তাঁদের স্থান অনুযায়ী পরস্পরের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাত্রিতে দেখেছেন। এমনিভাবে কতগুলো রূহ রয়েছে সবুজ পাখীর পেটের মধ্যে, যে পাখী তার আপন মনে জান্নাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর তা হচ্ছে কতিপয় শহীদদের রূহ, তাও আবার সকল শহীদের রূহ নয়, কেননা তাদের মধ্যে কোনো রূহ কোনো কারণে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারছে না। যেমন, ঋণ, মাতা-পিতার অবাধ্যতা এবং গণীমতের মাল আত্মসাত করা ইত্যাদি। এ সকল কারণে কোনো কোনো শহীদ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে নি বা জান্নাতের দরজায় আটকিয়ে দেওয়া হয়েছে বা তাকে কবরেই আটকানো হয়েছে। শহীদদের মধ্যে কারো স্থান হয়েছে জান্নাতের দরজা আবার কাউকে দুটি পাখা দেওয়া হয়েছে, যা দ্বারা সে জান্নাতের মধ্যে আপন মনে উড়ে বেড়াচ্ছে। যেমন, তা ছিল জাফর ইবন আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর। জিহাদে তার দুটি হাত কাটা যাওয়ায় আল্লাহ তাকে এর বদৌলতে দুটি পাখা দিয়েছেন, যা দ্বারা তিনি ফিরিশতাদের সাথে জান্নাতে স্বাধীন ভাবে উড়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে কতগুলো লোককে পৃথিবীতেই আটকিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের রূহ উপরে (সম্মানিত স্থানে) উঠানো হয় নি। কেননা তা ছিল নীচু পার্থিব রূহ। আর নীচু পার্থিব রূহ আকাশীয় রূহের সাথে একত্রিত হবে না, যেমনভাবে পৃথিবীয় তা একত্রিত হতো না। যে আত্মা পৃথিবীয় আল্লাহকে চিনে নি, ভালোবাসে নি, তাকে স্মরণ করে নি, তাঁর নৈকট্য লাভ করে নি; বরং পৃথিবী আত্মা ছিল, সে আত্মা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও এখানেই থাকবে। যেমনিভাবে উর্ধ্বগামী আত্মা পৃথিবীয় আল্লাহর ভালোবাসায় নিমগ্ন ছিল, তাকে স্মরণ করেছে, তাঁর নৈকট্য লাভ করেছে, সে আত্মা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তার উপযোগী ঊর্ধ্বগামী আত্মার সাথে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বারযাখে এবং পূনরুত্থান দিবসে আত্মাসমূহকে জোড়ায় জোড়ায় মিলিয়ে দিবেন এবং মুমিন রূহকে পাক-পবিত্র রূহের সাথে রাখবেন, কেননা প্রত্যেক রূহ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তার আকৃতি বিশিষ্ট রূহ, ভগ্নি এবং তার মতো আমলকারীদের সাথে মিলিত হয়ে তাদের সাথেই থাকবে। কতগুলো রূহ ব্যভিচার নর-নারীদের চুলায় থাকবে, কিছু রূহ রক্তের নদীতে সাঁতার কাটবে আর পাথর গিলবে যা পূর্বে উল্লেখিত সামুরা ইবন জুন্দুব কর্তৃক স্বপ্নের হাদিসে এসেছে। এ থেকে জানা যায় যে, রূহসমূহ শরীর হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তার সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্য লাভ করার পর একই স্থানে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং কিছু ইল্লিয়্যিনের সর্বোচ্চে আবার কতগুলো নিম্ন ভূমিতে থাকে যা পৃথিবী হতে উপরে উঠতে পারে না। [আল মুফহীম ৪/৭১৯]
মৃত্যুর পরে আত্মার অবস্থানঃ এ কথা স্পষ্ট যে, রুহ বা আত্মার বিনাশ নেই। মৃত্যুর পর আত্মা পৃথিবী থেকে আলমে বারযাখে স্থানান্তরিত হয়। অর্থাৎ আত্মা কেবল দেহ ত্যাগ করে মাত্র, তার মৃত্যু হয় না। আলমে বারযাখের বিশেষ সেই অংশের নামই হলো কবর যা এক অদৃশ্য সুক্ষ্ম জগৎ। যা মানুষের জ্ঞানবুদ্ধি ও কল্পনার অতীত। মূল বিষয় হলো মৃত্যুর পর মানুষের দেহচ্যুত আত্মাকে যে স্থানে রাখা হবে সেটাই তার কবর। অর্থাৎ মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে আখিরাতের পূর্ব পর্যন্ত যে অদৃশ্য জগৎ রয়েছে, সেই জগতকেই আলমে বারযাখ বলা হয় যাকে আত্মার কবর বলা হয়। আলমে বারযাখে মানুষের আত্মাকে রাখার দুইটি স্থান রয়েছে। স্থান দুইটির নাম হলো ইল্লিয়িন আর সিজ্জীন। ইল্লিয়িন হলো মেহমানখানা, অর্থাৎ পৃথিবীতে যারা মহান আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেছে, তারাই কেবল ইল্লিয়িনে স্থান পাবে। আর যারা পৃথিবীতে মহান আল্লাহর বিধান অমান্য করেছে, নিজের খেয়াল- খুশী অনুযায়ী চলেছে, তারা স্থান পাবে সিজ্জীনে। সিজ্জীন হলো কারাগার।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy