কোনো অসহায় হিন্দু যদি ভিক্ষা বা সাহায্য চায় অথবা অনেক হিন্দুর বাবা মারা গেলে তারা টাকা তুলে।  উল্লেখিত ক্ষেত্রে তাদেরকে দান বা টাকা প্রদান করার শরিয়ত অনুযায়ী বিধান জানালে উপকৃত হতাম।   
2617 views

1 Answers

নিশ্চয় করা যাবে!এ বিষয়ে কোরানে এসেছে  (সুরা বাকারার ২৭২ নং) আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সঠিক পথ দানের বিষয়টি একান্ত তাঁর ইচ্ছাধীন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর দান-সাদকা প্রত্যেকের নিজেদের কল্যাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টিতেই আসে। আর প্রতিদান প্রদানেও আল্লাহ কারো প্রতি জুলুম করবেন না বলেও আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে।

আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা আপনার বিরোধিতা করে তাদেরকে দান-সাদকা বন্ধ করে তাদেরকে ইসলামে প্রবেশের ব্যবস্থা করা আপনার দায়িত্ব নয়; বরং আপনার দায়িত্ব হলো তাদের কাছে ইসলামের বাণী পৌছে দেয়া।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা যাকে তাওফিক দান করবেন সে হেদায়তে তথা সঠিক পথ লাভ করবে আর যাকে তাওফিক দেয়া হবে না সে বঞ্চিত হবে।

এ আয়াতের শানে নুজুলে ইমাম রাজি একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন-

হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কন্যা হজরত আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা মা নাতিলা এবংতাঁর মা-সহ হজরত আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। তারা উভয়েই তখন মুশরেক ছিল।

তখন হজরত আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আমি এ বিষয়ে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুমতি গ্রহণ না করে আপনাদের কোনো কিছু দান-সাদকা করতে পারবো না।

এরপর তিনি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে মুশরেক আত্মীয়দেরকে দান করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে এ আয়াত নাজিল হয়।

তখন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে দান-সাদকা করার অনুমতি দান করেন। (তাফসিরে মাজহারি)

কোনো কোনো তাফসিরকার বলেন, ‘অর্থ-সম্পদের লোভে যেন কেউ মুসলমান না হয় সে জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমান ব্যতিত অন্য কোনো ব্যক্তিকে দান-সাদকা করতে নিষেধ করেছিলেন। তখন এ আয়াত নাজিল হয়। আর তাতে ঘোষণা করা হয়, মুসলমান-অমুসলমান সবাইকে দিান-সাদকা করা যায়। (তাফসিরে কবির)

পড়ুন- সুরা বাকারার ২৭১ নং আয়াত


আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের উদার নীতি নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়নের পাশাপাশি এর প্রচার-প্রসারে দাওয়াতি কাজ ও দান-সাদকা অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

2617 views

Related Questions