তিলে তিলে মরে যাচ্ছি?

২০১৭ সাল এলএলবি ৩য় বর্ষে পড়ছি তখন। এক প্রাইমারি ফ্রেন্ডের সাথে ১০ বছর পর দেখা ফেসবুকে। কোন এক অজানা অনুভুতিতে কেউ কাউকে প্রপোজ ছাড়াই ভালোবাসা টা হয়। ১ম দেখা হয় ২১ এ ফেব্রুয়ারি। ও আচ্ছা তার পরিচয়ই ত দেয়া হয়নি। তার নাম সমাপ্তি খান (সার্টিফিকেট নামঃ সাইদা সুলতানা) তখন সে জামালপুরে একটি কলেজে বিবিএ করতো ২য় বর্ষে ইসলামপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। তার বাড়ি ছিল জামালপুর। সমাপ্তির সাথে আমার ভালোবাসা চলছে কিন্তু আমার আল্লাহ সাক্ষি ছিল আমি ওকে কলিজা কেটে ভালোবাসতাম কিন্তু সে যদিও মুখে বলতো ভালোবাসি কিন্তু মনে কি ছিলো জানতাম না।সে আমায় বলতো একটা কিছু করো তারপর তোমার আমার সম্পর্ক দু পরিবারে জানাব। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস সে গ্রামে গিয়েছিল তার পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে। কিন্তু এসে সমাপ্তি আমার সাথে দেখা করে বলে তোমাকে কিছু কথা বলব মন শক্ত করে শুনতে হবে"।সমাপ্তি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বলল আমার মেঝ দুলাভাই আমার জন্য বিয়ের ঘর এনেছে আমি বিয়ে না করলে আমার বোনকে ডিভোর্স দিয়ে দিবে তাই আমাকে বিয়েটা করতে হবে। আমি বললাম এটা কেমন কথা? তুমি দুলাভাই কে বল যে তুমি কাউকে ভালোবাস তাহলে ত আর কিছু হবে না। সমাপ্তি: আমার দুলাভাই কে বললে আমার বাবা মায়ের মান সম্মান কই যাবে ভেবে দেখেছ? আমি: এখন মানসম্মান ভাবলে চলবে? আমাদের ভালোবাসা কি এখানেই শেষ হয়ে যাবে? সমাপ্তি: আমার কি করার? আমার কারনে কি মেঝ আপুর সংসার নষ্ট হবে? আর আমার ফ্যামিলি কি আমার খারাপ চায়? নিশ্চয় আমি সুখী হবো ফ্যামিলির কথায় বিয়ে করলে। আমি: আমার ভালোবাসা এভাবে শেষ হয়ে যাবে?( রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেঁদে কেঁদে বলছি)। সমাপ্তি: ফ্যামিলিকে কষ্ট দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। তুমি নিজেকে মানিয়ে নাও। আমাকে বিয়েটা করতেই হবে। আমি তখন পার্কে ঢুকে রাস্তায় পড়ে মুখে হাত দিয়ে কাঁদছি নির্লজ্জের মত। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আম্মু আর খালা মনিকে ফোন করে পার্কে আনলাম। সে অনেক বাধা দিচ্ছিল আম্মুর সামনে যাওয়ার ইচ্ছে নেই তাই। আমি তবুও বাধা উপেক্ষা করে কেঁদে কেঁদে আম্মুকে ফোন দিয়ে আনলাম। আম্মু আর খালামনি পার্কে এলো সমাপ্তি : আমি ফ্যামিলিকে কষ্ট দিতে পারব না। আম্মু : তুমি প্রেম করার আগে ফ্যামিলির কথা ভাবনি? আজ আমার ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে মরে যাচ্ছে। আর কিছুদিন পর তার ফাইনাল। এসময় তার এমন হলে তার জীবনটার কি হবে ভেবে দেখেছ? সমাপ্তি : আন্টি আমি চেয়েছিলাম ৪ বছর পর শাহাদাত বিসিএসের যোগ্য হবে কোন চাকরি পাবে তারপর ফ্যামিলির সামনে নিব। কিন্তু এখন কি আর করার? আম্মু : তুমি চাইলে বিকেলে তোমার আব্বুর সাথে কথা বলতে পারি। সমাপ্তি : না আন্টি শাহাদাত বেকার আব্বু আপনাদের অপমান করে বের করে দিবে। কোন কাজ হলনা। বাসায় চলে আসলাম। আম্মু বুঝায় দেখ বাবা মেয়েই ত রাজি নেই আমি কিভাবে ওর বাবার সাথে কথা বলি। মাকে জড়িয়ে ধরে কাদি, নানুকে জড়িয়ে ধরে কাদি, ছোট বোনকে জড়িয়ে কাদি। তারাও আমার সাথে কাঁদে। কারন পরিবারের একমাত্র ছেলের তখন মরার মত অবস্থা। সমাপ্তিকে ফোন দিলে ফেসবুকে নক করলে সে ব্লক করে দেয়।এভাবে ২দিন কেটে যায়। আমি কোন উপায় না পেয়ে সমাপ্তির মাকে ফোন দিই। আমাদের ভালোবাসার কথা বুঝাই। কিন্তু তিনি বলেন ওই ছেলের বাড়ি জামালপুর সেখানে তার দোকান, ভাড়াটিয়া, জমিজামা আছে। আমার খালামনিও তার আম্মুর সাথে কথা বলে। খালামনি সমাপ্তির সাথেও কথা বলে। খালামনি: তোমাকে আমরা পড়াব খরচ দিব। দুজন টিউশন করেও চলতে পারবে। থাকার জায়গা নিয়ে ত আর টেনশন করতে হবে না। শাহাদাত তোমার জন্য সুইসাইড করতে যাচ্ছে। সমাপ্তি: দেখুন আন্টি ২২ বছর ফ্যামিলি আমাকে পালছে। তাদের কিভাবে কষ্ট দিই। তারপর তার বড় ভাই ফোন করে যা নয় তাই বলে চিৎকার করে, বড় ভাই : আমি আজ ৩ বছর মাস্টার্স পাস করে চাকরি পাই না। তুমি কি করে চাকরি পাবা হ্যা? কি করে আমার বোনকে খাওয়াবে? একটা মেয়ে প্রাইমারি টিচার হলেও বিসিএস ক্যাডারকে বিয়ের যোগ্যতা রাখে আর তুমি কি করবে হ্যা। ( খুবই জোড়ালো কন্ঠে) এবার আমার খালামনি ফোনটা নিছে। তবুও সে সুন্দর করে ব্যবহার করছে না অথচ সে নাকি একজন কুরআনের ক্বারি। এরপর অক্টোবরের ৫ তারিখ তার বিয়ে হয়ে যায়। আমি কাঁদতে কাঁদতে অনেক ডিপ্রেস হয়ে যাই।বুকে খুব ব্যথা+ মাথায় অনেক প্রব্লেম + সুস্থ ভাবে হাটাচলা করতে পারি না। সমাপ্তি আমার একফ্রেন্ডকে ফোন দিয়ে বলে সমাপ্তি : শাহাদাত কে নিষেধ কইরো আমাদের গোপন ছবি গুলো কাউকে না দেখায়। আমার হাজবেন্ড এসব দেখলে আমায় ডিভোর্স দিয়ে দিবে। আমার ফ্রেন্ড : তুমি চলে যাওয়ার পর শাহাদাতের জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেছে। মেডিক্যাল, ডাক্তার, এক্সরে করতে করতে শেষ। সোজা হয়ে দাড়াতেও পারে না সে। সমাপ্তি : আমি এসব শুনতে চাইছি না শুধু নিষেধ করো যাতে শাহাদাত আমার ক্ষতি না করে। আমার ফ্রেন্ড: তোমার স্বামী ডিভোর্স দিলে শাহাদাতের কাছে চলে এসো সে ত তোমাকে ফিরাবে না। সমাপ্তি: ওই অভদ্র ছেলের কাছে আমি জীবনেও যাব না মরে গেলেও না। আমার ফাইনাল সেমিস্টার খারাপ হয়েছে। এখন ইম্প্রুভ দিয়ে সেমিস্টার গুলো করছি। আমার সারাটা রাত দিন যায় চোখের জলে। আম্মুও পর্যন্ত আমার জন্য কাঁদে। আম্মু কেঁদে কেদে বলেছিল " দেখ বাবা বুড়া বয়সে তুই ছাড়া দেখার কেউ নেই এভাবে জীবন নষ্ট করিস না"। একদিকে আমি তিলে তিলে ধ্বংস হচ্ছি আর অন্যদিকে সে আমাকে ভুলে স্বামী নিয়ে সুখের সংসার করছে। অথচ সে আমায় একদিন কথা দিয়েছিল, আমার ছাড়া আর কারোরই হবে না। অনেক টাকা খরচ হচ্ছে ডাক্তার, এক্সরে, মেডিকাল ইত্যাদি। কিন্তু কি করব বুঝি না। আত্মহত্যা পাপ বলে পারি না মরে যেতেও।
2828 views

2 Answers

ভাই আপনার অবস্থা খুবই শোচনীয়। আপনি মনে মনে চিন্তা করেন যখন আপনার প্রেমীকা হাগে তখন তাকে দেখতে কেমন লাগে? সে আবার জোরে জোরে পাদেও। উহুউ কি একটা অবস্থা, এই হাগুরা মেয়ের জন্য কেন জীবন্টা নষ্ট করতাছেন? আপনি একটা ব্রেক নিয়ে বান্দরবন থেকে ঘুরে আসেন। প্রকৃতি কে আগলে নিন। আপনিই আপনার বাবা মায়ের ভরসা। আর যখনেই প্রাক্তন প্রেমিকার কথা মনে আসবে তখনেই ভাববেন একটা নোংরা পায়খানায় সে হাগতেছে(হাই কমোটের কথা ভাবলে তেমন কাজ হয় না) আবার পাদ ও দিচ্ছে। ওয়াক

2828 views Answered

ব্রাদার, সে আপনাকে ভালোই বাসেনি, তাহলে আপনি কেন ভালোবাসা হারানোর মতো কষ্ট পাচ্ছেন। এটার তো কোনো মানেই হয়না। যদি এমন হতো যে সেও আপনাকে ভালোবাসে কিন্তু বিপদে পরে বিচ্ছিন্ন হয়েছে তাহলে ভালোবাসা হারানোর কস্ট পেতেন। এখন আপনার কষ্ট প্রতারিত হওয়ার এই কষ্ট টা ভিন্ন জাস্ট কয়েকটা দিন যেতে দিন আপনার মন আপনাকে বলেদিবে কি করতে হবে আপনার। সে যেহেতু সমাপ্তি আপনার আপনার জীবনটাও সমাপ্ত করতে চেয়েছে। কিন্তু আপনি তা হবেন কেনো। ভালোবাসার জন্য জীবন দেওয়া যায় আর সেটা আলাদা কথা।  কিন্তু সে আপনাকে ভালোবাসেনি মনে মনে এটা  অনবরত বলতে থাকুন ফানি হলেও কাজ হবে বিশ্বাস না হলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।  যে আপনার মা এর সাথে এভাবে কথা বলতে পারে তার প্রতি আপনার রাগ হলো না??????

 সমাধান নিজের ভেতরেই আছে , একটুও অপেক্ষা করুন।  অযথা মানুষের নানান কথা শুনে আরো মন খারাপ হতেও পারে। সে আপনার শত্রু এটা মাথায় রাখেন। তার দুলাভাই এর অমন কোনও প্রোপোজাল ছিলই না সে লোভ এ পড়েছে।  রাগ সৃষ্টি করুন তার ওপর সমস্ত pic ম্যাসেজ ডিলিট করেদিন।  

2828 views Answered

Related Questions

Next steps