2 Answers
কোরান শরীফ পড়তে ও স্পর্শ করতেও অযু করতে হয়। পবিত্র কোরানে আছে -“যাহারা পূত-পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা(কুরঅান) স্পর্শ করো না।(সূরা ওয়াক্কিয়াহ্, আয়াত:৭৯)। তাই কুরঅান অবশ্যই পাক পবিত্র অবস্থায় পড়তে হবে।
আল কুরআনের আল্লাহ তাআলা বলেন, যাহারা পূত-পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না। (সূরা ওয়াকিয়াঃ ৫৬:৭৯)। ব্যাকরণিক দিক দিয়ে প্রথমত এই বাক্যের দ্বিবিধ অর্থ হতে পারে। আয়াতের অর্থ এই যে, সম্পূর্ণ পাক-পবিত্র লোকগণ ব্যতীত কেউ স্পর্শ করতে পারে না। এমতাবস্থায় অর্থাৎ পাক-পবিত্ৰ লোকগণ এর অর্থ ফেরেশতাগণই হতে পারে। দ্বিতীয় সম্ভাব্য আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, এটাকে এমন লোক, যারা হাদসে-আসগর ও হাদসে আকবর থেকে পবিত্র তারা ব্যতীত কেউ যেন স্পর্শ না করে। কিন্তু আয়াত থেকে এর সপক্ষে দলীল নেয়া খুব শক্তিশালী মত নয়। কিন্তু বিভিন্ন হাদীস থেকে এ মতের পক্ষে দলীল পাওয়া যায়। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন সাথে নিয়ে কাফের দেশে সফর করতে নিষেধ করেছেন; যাতে তা কাফেরদের হাতে না পড়ে। (বুখারীঃ ২৯৯০, মুসলিমঃ ১৮৬৯) অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমর ইবনে হাযমের কাছে লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, কুরআনকে যেন পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ স্পর্শ না করে। (মুয়াত্তা মালেকঃ ১/২৯৯) মুহাদ্দিসগণ আবু বকর ইবনে হাযমের কাছে লিখা চিঠিটি বিশুদ্ধ বলে মত প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া এ ব্যাপারে আলেমগণ একমত যে, অপবিত্র অবস্থায় কোনভাবেই কুরআন স্পর্শ করা যাবে না।