4 Answers

নাজাসাতে গলীজা বা শক্ত নাপাক হল, মানুষের মল মূত্র, মানুষ ওপ্রাণীর রক্ত, বীর্য, মদ, সব ধরনের পশুর পায়খানা, সব ধরনের হারাম পশুর পেশাব এবং পাখীর মধ্যে শুধু হাঁস ও মুরগির বিষ্টা।  নাজাসাতে গলীজা বা শক্ত নাপাকী সামান্য তে শরীর বা কাপড়  নাপাক  হয়।

4003 views Answered

যে সকল বস্তু শরীর থেকে বের হলে অযু নষ্ট হয় অথবা গোসল ফরয হয় ঐ সব বস্তুকে নাজাসাতে গলীজা বলা হয়। যেমন পায়খানা, প্রসাব, মনি, মজি, পুঁজ, মুখভতর্তি বমি ইত্যাদি। হায়েস-নেফাসের রক্তও নাজাসাতে গলীজা। নাজাসেতে গলীজা এক দেরহাম অপেক্ষা বেশি লাগলে শরীর অথবা কাপড় নাপাকী হয়ে যায়। হাতের তালু সোজা করে পানি নিলে যতটুকু পানি তালুতে আটকে যায়, ততটুক পানির আয়তনকে এক দেরহাম বলা হয়।

4003 views Answered

যেসব বস্তু শরীর থেকে বের হয়ে ওযু নষ্ট হয় বা গোসল করা ফরজহয়, যেমন :মলমূত্র ,পুজ, মূখ ভর্তি বমি ইত৽াদি

4003 views Answered

নাজাসাতে গলিজা বা বড় নাপাকি গুলি হচ্ছেঃ ১. শূকর। তার প্রতিটি বস্তুই নাজাসাতে গলিজা। সে জীবিত হোক অথবা মৃত। ২. মানুষের পেশাব, পায়খানা, বীর্য, প্রসাবের দ্বার দিয়ে নির্গত যে কোন তরল বস্তু, সকল পশুর বীর্য এবং ছোট ছেলেমেয়েদের পেশাব-পায়খানা। ৩. মানুষ অথবা পশুর রক্ত। ৪. বমি যে কোন বয়সের মানুষের হোক। ৫. মেয়েদের প্রসাবের দ্বার দিয়ে নির্গত রক্ত। ৬. মেয়েদের প্রসাবের দ্বার দিয়ে নির্গত কোন তরল পদার্থ। ৭. ক্ষতস্থান থেকে নির্গত পূঁজ, রস অথবা অন্য কোন তরর পদার্থ। ৮. যে সব পশুর ঝুটা নাপাক তাদের ঘাম ও লালা। ৯. যবেহ করা ব্যতীত যে সব পশু মারা গেছে তাদের গোশত, চর্বি ইত্যাদি এবং চামড়া নাজাসাতে গালিযা। অবশ্য চামড়া দাবাগাত করা হলে তা পাক। ঠিক তেমনি যার মধ্যে রক্ত চলাচল করে না যেমন শিং দাঁত ক্ষুর ইত্যাদি পাক। ১০. হারাম পশুর-জীবিত অথবা মৃত-দুধ এবং মৃত পশুর দুধ। ১১. মৃত পশুর দেহ থেকে নির্গত তরল পদার্থ। ১২. নাপাক বস্তু থেকে নির্গত নির্যাস অথবা ঐ ধরণের কোন বস্তু। ১৩. পাখী ব্যতীত সকল পশুর পেশাব পায়খানা। গরু, মহিষ, হাতি, ঘোড়া, গাধা, খচ্চর প্রভৃতির গোবর, উট ছাগল প্রভৃতির লাদ। উড়তে পারে না এমন পাখী, যেমন হাঁস-মুরগী ইত্যাদির পায়খানা। সকল হিংস্র পশুর পেশাব পায়খানা। ১৪. মদ এবং অন্যান্য তরল মাদক দ্রব্য। নাজাসাতে গলিজা এক দিরহাম পরিমাণ অপেক্ষা বেশী লাগলে শরীর অথবা কাপড় নাপাক হয়ে যায়। হাতের তালু সোজা করে পানি নিলে যতটুকু পানি তালুতে আটকে যায় পানির ততটুকু আয়তনকে এক দিরহাম ধরা হয়। নাপাকি জমাট হলে দিরহামের ওজন এবং তরল হলে দেরহামের আয়তন ধর্তব্য। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, এক দিরহাম পরিমাণ রক্তের কারণে নামাজ পুনরায় আদায় কর। (সুনানে বায়হাকী কুবরা ৩৮৯৬, জামেউল আহাদীস ১০৭৮৩) শরীয়াত উক্ত সব বস্ত্তকে নাপাক বলে প্রমাণ করেছে তার দলিল হলোঃ মানুষের পেশাব পায়খানাঃ আলিমদের ঐকমত্যে, এ দুইটি নাজাসাত বা নাপাকীর অন্তর্ভুক্ত। পায়খানা অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে মহানবীর উক্তি হলোঃ যদি তোমাদের কারও জুতার তলায় নাপাক বস্ত্ত লাগে, তাহলে মাটি তা পবিত্র করার জন্য যথেষ্ট হবে। এ হাদীস পায়খানা অপবিত্র হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আর পেশাব অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছেঃ একজন বেদুঈন এসে মসজিদের মধ্যে পেশাব করতে শুরু করল। উপস্থিত লোকদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে বাধা দিতে দাঁড়ালে, রাসূল (সাঃ) বললেন, থাম তাকে পেশাব করতে বাধা দিওনা! আনাস (রাঃ) বলেন লোকটির পেশাব করা শেষ হলে, রাসূল (সাঃ) এক বালতি পানি আনিয়ে তার পেশাবের উপর ঢেলে দিলেন। অজি মজিঃ মজি হলো সাদা আঠালো পানি যা আদর, সোহাগ বা সহবাসের চিন্তা ও ইচ্ছা করার সময় নির্গত হয়। এটা সজোরে প্রবাহিত হয় না। এর ফলে দুর্বলতা অনুভব হয় না। তা নির্গত হওয়ার কথা মানুষ খুব কমই টের পায়। নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌনাঙ্গ থেকে এটা নির্গত হয়ে থাকে। তবে নারীর যৌনাঙ্গ থেকেই এটা অধিকতর নির্গত হয়। এটা সর্বসম্মতভাবে নাপাক। এজন্যই মহানাবী (সাঃ) এটা নির্গত হওয়ার কারণে লজ্জাস্থান ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমনঃ সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, একদা এক ব্যক্তি রাসূল (সাঃ) কে মজি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তথা, সে তার লজ্জা স্থান ধৌত করবে এবং অজু করবে। অজি এক ধরণের সাদা ঘন পানি সর্বসম্মতিক্রমে নাপাক। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মনি, অজি ও মজির হুকুম হলো, মনি (বীর্য) নির্গত হলে গোসল করতে হবে। আর মজির ব্যাপারে তিনি বলেন, তা নির্গত হলে তোমার লজ্জাস্থান ধৌত কর এবং সালাতের জন্য অজু কর। হায়েযের রক্তঃ আসমা বিনতে আবূ বকর বলেন, একদিন একজন স্ত্রী লোক নাবী (সাঃ) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমাদের কারও কাপড়ে যদি হায়েযের রক্ত লেগে যায় তখন সে কি করবে? তিনি বললেনঃ রক্তের জায়গাটি ভালোভাবে রগড়াবে, তারপর পানি দিয়ে কচলিয়ে উত্তমরূপে ধুয়ে ফেলবে, অতঃপর ঐ কাপড় পরে সালাত পড়তে পারবে। যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া না জায়েয সেগুলোর গোবরঃ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ মহানাবী (সাঃ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার ইচ্ছা করলেন, অতঃপর বললেনঃ আমাকে তিনটি পাথর এনে দাও। আমি দু’টি পাথর ও একখণ্ড গাধার শুকনো গোবর পেলাম। তিনি পাথর দুইটি নিলেন এবং গোবর খণ্ড ফেলে দিয়ে বললেন, এটা অপবিত্র। কুকুরের লালা বা উচ্ছিষ্টঃ মহানাবী (সাঃ) বলেনঃ কুকুর যদি তোমাদের পাত্রে লেহন করে 'খায় বা পান করেভ তবে তা পাক করার নিয়ম এই যে, তা সাতবার পানি দ্বারা ধৌত করতে হবে, প্রথম বার মাটি দ্বারা ঘর্ষণ করতে হবে। এ হাদীস কুকুরের লালা বা উচ্ছিষ্ট নাপাক হওয়ার প্রমাণ বহন করে। শুকুরের গোশতঃ এটি আলিমগণের ঐকমত্যে তা নাপাক। কেননা এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ কুরআনে প্রকাশ্য নির্দেশ দিয়েছেনঃ বল, আমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়, তাতে আমি আহারকারীর উপর কোন হারাম পাই না, যা সে আহার করে। তবে যদি মৃত কিংবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোশত হয়-কারণ, নিশ্চয় তা অপবিত্র। (সূরা আল আনআমঃ ১৪৫) মৃত প্রাণীঃ মৃত প্রাণী হলো, স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করে এমন প্রাণী। অর্থাৎ শরীয়ত সম্মতভাবে যা যবেহকৃত নয়। এটি সর্বসম্মতিক্রমে নাপাক। নাজাসাত হলো তাহারাত এর বিপরীত শব্দ। পরিভাষায়, শরীয়ত নির্ধারিত নাপাকীর নাম নাজাসাত। মুসলমানদের জন্য এরূপ নাজাসাত থেকে পবিত্রতা অর্জন করা এবং তা শরীর বা কাপড়ে লেগে গেলে ধৌত করা ওয়াজিব।

4003 views Answered

Related Questions

Next steps