রেফারেন্স সহকারে উত্তর চাই ।
3735 views

2 Answers

প্রাণী খাবার ব্যাপারে ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো : ০১. সমস্ত পবিত্র বস্তু হালাল। ০২. নোংরা প্রাণী হারাম। ০৩. আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূল যেগুলো নির্দিষ্ট করে হারাম করেছেন সেগুলো হারাম। যেমন- শুকর, মৃত প্রাণী ইত্যাদি।  ০৪. হিংস্র প্রাণী হারাম। ০৫. নখর দিয়ে শিকার করে এমন প্রাণী হারাম। ০৬. জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর খাদ্যবস্তু হারাম। আপনি যেসব প্রাণীর নাম উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূল সেগুলো হারাম করেননি। তবে যারা মনে করেন সেগুলো নোংরা প্রাণী, তাদের দৃষ্টিতে সেগুলো খাওয়া জায়েয নয়।  সুতরাং এগুলো আল্লাহর বিধানে হারাম নয়। ফকীহগণের ইজতেহাদে কেউ জায়েয মনে করেন এবং কেউ না জায়েয মনে করেন। যেমন: সাপ, বন বিড়াল, কাক এগুলো খাওয়া হারাম নয়, কিন্তু কিছু ফকীহ মনে করেন এগুলো নোংরা প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত, কিংবা হিংস্র প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত। তাই তাদের দৃষ্টিতে এগুলো খাওয়া জায়েয নয়।   আপনি যেসব প্রাণীর নাম উল্লেখ করলেন, সেগুলো খাওয়া এবং সেগুলোর ব্যবসা করা হারাম নয়। তবে ফকীহদের মধ্যে এগুলোর বিষয়ে ইজতিহাদি মতভেদ আছে। কিন্তু ইজতেহাদি মতভেদ দ্বারা কোনো 'মুবাহ' জিনিস খাবার হারাম হয়ে যায় না।   সূত্র: নী'আমুল কুরআন

3735 views

খাওয়া প্রসঙ্গে তো অনেক কথা চলে আসে। অনেকে মনে করে, আমরা যেটা খাই না, সেটাই বোধ হয় হারাম। আসলে হালাল-হারামের বিধান তো আমরা দিতে পারি না। কাছিম বা কচ্ছপ খাওয়া হালাল। তবে কোনো অঞ্চলে যদি কেউ না খায়, রুচিতে না কোলায় তাহলে তারা খাবে না। তবে আলেমদের মধ্যে এ মাসয়ালা নিয়ে দ্বিমত আছে। কেউ কেউ হারামও বলেছেন। হারাম যাঁরা বলেছেন, কচ্ছপের ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে, কচ্ছপের মধ্যে হিংস্রতা রয়েছে এবং এটি খবিস বা নোংরা ধরনের। যেহেতু এর মধ্যে নোংরামি আছে, তাই তাঁরা এটাকে পছন্দ করেননি। তাই একজন প্রসিদ্ধ ইমাম কচ্ছপকে খাওয়ার ব্যাপারে বলেছেন যে, ‘এটি জায়েজ নেই।’ আবার আমরা যদি হাদিসের সাধারণ বক্তব্য দেখি, সেখানে সমুদ্রের সব প্রাণীকে রাসূল (সা.) হালাল ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ সবই হালাল। সুতরাং এর মধ্যে কচ্ছপ তো পড়বেই। যেহেতু কচ্ছপ সমুদ্র বা নদীর মধ্যেই পাওয়া যায়। তাই এটা যদি কেউ খান, এতে তিনি গুনাহ করেননি, হারাম কাজ করেননি। এটি খাওয়া জায়েজ। তবে বিষয়টি রুচির সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন : গুইসাপ জাতীয় একটা প্রাণী, যেটাকে কোনো কোনো এলাকায় শাণ্ডা বলা হয়ে থাকে, রাসূল (সা.)-এর সামনে কেউ খেয়েছেন। কিন্তু রাসূল (সা.) এটি খান নাই, উনার রুচিতে আসেনি। যেহেতু কিছু কিছু বিষয় রুচির সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেহেতু যে কচ্ছপ খাচ্ছে না, তাঁকে জোর করে খাওয়ানোর কোনো দরকার নেই। এটি খেয়াল রাখতে হবে। কিন্তু কেউ খেলে সেটাকে হারাম বলতে গেলে দলিল দিতে হবে। যেহেতু এটি সহিহ বর্ণনার মধ্যে হারাম সাব্যস্ত হয়নি।

3735 views

Related Questions