নামঃমোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। বয়সঃ২৬বছর। বৈবাহিক অবস্তাঃ বিবাহিত।  ওজনঃ ৫১ কেজি। সমস্যাঃ (ডাস্ট এলার্জি) জনিত। ধুলো ময়লার সংস্পর্শে এলে ১৪/১৫ টা হাছি আসে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ৮/১০ টা হাচি আসে। সবসময় মাথার দুই পাসে চোক ও কানের মাঝামাঝি অংশে হালকা ব্যথা অনুভূতি হয়।অনেক সময় চোখ লাল হয়ে থাকে। নাকের ময়লার সাতে মাঝেমাঝে হালকা রক্ত আসে। শীত কালে সমস্যাটি বেশি হয়।  এলোপ্যথিক ঔষধ Tab.এলাট্রল খেলে সাময়িক সমাধান মিলে কিন্তু স্বায়ী সমাধান হচ্ছে না। স্বায়ী সমাধান পাব কি ভাবে।  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
#স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
2871 views

2 Answers

আপনি নিম্নক্ত বিষয়গুলি দেখতে পারেন। আশা করি ভাল ফল পাবেন।

**বায়োফ্ল্যাভনয়েড এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই শাকসবজি ও ফলমূলে তৈরি হওয়া ফেনলের যৌগ যা এলার্জির বিরুদ্ধে কাজ করে। কোয়েরসেটিন বায়োফ্ল্যাভনয়েড গ্রুপের এক বিশেষ ধরনের রাসায়নিক উপাদান যা ফলের খোসা ও গাছের ছালে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এর অন্য নাম মেলিটিন বা সফরেটিন, কোয়েরসেটিন তৈরি কমাতে সাহায্য করায় হিস্টামিন নির্গমনে বাধা দেয় যার ফলশ্রুতিতে এলার্জি দূরীভূত হয়। এছাড়াও এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে এ্যাজমা প্রতিরোধ করে ও প্রদাহ কমায়। 

উৎসঃ পেঁয়াজ, রসুন ও আপেলের খোসা, জিংগোবা, লেবু জাতীয় ফল, ব্রকলি, গ্রীন টি, চেরী ফল, লাল ও কালো আঙ্গুর, কালো জাম, সবুজ শাক-সবজি, মধু (ইউক্যালিপ্টাসের ও চায়ের ফুল থেকে প্রাপ্ত), শিম জাতীয় ফল ইত্যাদি। 
**ব্রোমেলিনঃ শরীরে প্রদাহ জনিত প্রতিক্রিয়া কমায়। তবে কোয়েরসেটিনের সাথে মিলিতভাবে অধিক কার্যকর।
উৎসঃ আনারস
এন্টিঅক্সিডেন্টঃ এগুলো মানব শরীরে ও প্রকৃতিতে বিদ্যমান রোগ প্রতিরোধের অন্যতম হাতিয়ার। শরীরে ও প্রকৃতিতে তৈরি হওয়া এন্টি-অক্সিডেন্টগুলোর মধ্যে ভিটামিন সি অন্যতম যা শক্তিশালী এলার্জি প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক উভয় গুণাগুণে ভরপুর। দিনে ৩ বার ১০০০-২০০০ মি. গ্রা. করে ভিটামিন সি গ্রহণ এলার্জি উপশমের অন্যতম উপায়।


**ভিটামিন সি এর উৎস- কাঁচা মরিচ, বাঁধাকপি, আলু, লেবু, বাতাবী লেবু, কমলা লেবু, টমেটো, আঙ্গুর, পেয়ারা, কামরাঙ্গাসহ বিভিন্ন টক জাতীয় ফলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
**ভিটামিন এ এবং জিংক- এরা উভয়েই এলার্জি উপশমে সহায়ক যা পাকস্থলীসহ অন্যান্য প্রদাহজনিত স্থানের প্রদাহ কমায়।
ভিটামিন এ এর উৎস- বাঁধাকপি, ব্রকলি, লেটুস পাতা, পালংশাক, টমেটো, মটরশুটি, গাজর, কুমড়া, মিষ্টিআলু, ধনিয়া পাতা, পীচ, কলা, পেঁপে, তরমুজ, ভুট্টা ইত্যাদি।
**জিংক এর উৎস- জিংক এর সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎস হল ওয়স্টার মাশরুম যা এখন আমাদের দেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। অন্যান্য যেসব খাদ্যে জিঙ্ক বিদ্যমান সেগুলো হল মিষ্টি কুমড়ার বীজ, শীম বীজ, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি। প্রাণিজ জিঙ্কের জন্য ভাল উৎস হল মুরগীর মাংস। এছাড়া শামুক, ঝিনুক ইত্যাদিতেও প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক পাওয়া যায়। 
**ক্যারোটিনয়েডঃ ক্যারোটিনয়েড হল উদ্ভিদের মধ্যস্থিত রঞ্জক বা রঙিন পদার্থ। এসবের মধ্যে ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন, লুটিন, লাইকোপেন, ক্রিপটোজেন্থিন এবং জিজেন্থিন আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। 

সুত্র: NTV

2871 views

অনেকেই ভাবে খাবারের এলার্জি কেবল নির্দিষ্ট খাবারেই হয়। সাধারণত ভাবা হয়, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ- এসব খাবার খেলে এলার্জি হয়। তবে এগুলো সঠিক নয়। ব্যক্তি বিশেষে নিদির্ষ্ট একটি খাবারে এলার্জির সমস্যা থাকতে পারে।এতগুলো উপাদানের ফলে সাধারণত একজন মানুষের এলার্জির সমস্যা হয় না। পেশাগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ইলিশ মাছ সরাসরি এলার্জির জন্য দায়ী নয়। তবে চিংড়ি মাছে এলার্জি হতে পারে। খোসা জাতীয় মাছ যেটাকে ইংরেজিতে শেল ফিস বলে এসবে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দুধে এলার্জি থাকে। বিশেষ করে গরুর দুধে। যখন গরুকে কোনো কারণে চিকিৎসা দিতে হয় তখন যে দুধ পাওয়া যায় সেখান থেকে এলার্জি হতে পারে। চিকিৎসা বলতে বোঝানো হচ্ছে, যদি গরুটিকে পেনিসিলন জাতীয় এন্টি বায়োটিক দিতে হয় তখন এটির প্রভাব দুধে চলে আসে। যাদের এলার্জি আছে তারা ওই দুধ খেলে তার এলার্জির সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া লাল জাতীয় সবজি খেলে এলার্জির সমস্যা হতে পারে। যেমন : গাজর, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো- এ ধরনের রঙিন সবজিতে এলার্জির সমস্যা থাকে। তাই ব্যক্তি বিশেষে কোন খাবারে এলার্জির সমস্যা হচ্ছে সেটি জানতে হবে এবং সেভাবেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবে।

2871 views

Related Questions