2 Answers
অবশ্যেই আলোচনা করতে পারবেন।যদি দ্বিনি আলোচনা হয়।আর মেসেঞ্জারে কথা বলা সেটা তো সরাসরি কথা বলছেন না।কিংবা তাকে দেখছেন ও না।
প্রথমেই বলিঃ যার সাথে চিরতরে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারাম, তাকেই মাহরাম বা এগানা বলে। আর এর বিপরীত যার সাথে কোনো সময় বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন যায়েজ, তাকেই গায়রে মাহরাম বা বেগানা বলে। আপনি পরিচিত গায়েরে মাহরাম ব্যক্তির সাথে ইসলামিক আলোচনা করতে পারবেন মেসেঞ্জারে। বেগানা পুরুষের সাথে প্রয়োজনীয় ইসলামিক আলোচনা পর্দার অন্তরাল থেকে বা ফোনের বার্তার মাধ্যমে করতে পারবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ মুমিন পুরুষ আর মুমিন নারী পরস্পর পরস্পরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, নামাজ কায়েম করে, যাকাত দেয়, আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে। তাদের প্রতিই আল্লাহ করুণা প্রদর্শন করবেন। আল্লাহ তো প্রবল পরাক্রান্ত, মহা প্রজ্ঞাবান। (সূরা তাওবাঃ ৭১) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে, আর তারাই সফলকাম। (আলে-ইমরানঃ ১০৪) উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ কারীদের সফল কাম বলেছেন অর্থাৎ এই কাজটি যারাই করবে তারাই সফল হবে। আল্লাহ তায়ালা অন্য এক আয়াতে বলেছেনঃ তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে-কিতাবরা যদি ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী। (আলে ইমরানঃ ১১০) অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক লোক জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, কোন লোক সবচেয়ে বেশী ভাল? তিনি বললেনঃ সবচেয়ে ভাল লোক হল যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, সৎকাজে আদেশ দেয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখে। (মুসনাদে আহমাদঃ ৬/৪৩১) মেসেঞ্জারে বেগানা পুরুষের সাথে প্রয়োজনীয় ইসলামিক আলোচনা পর্দার অন্তরাল থেকে বা ফোনের মাধ্যমে করায় যদি গুনাহে পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে সেক্ষেত্রে তাদের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর প্রয়োজনবশত কথা বলার ক্ষেত্রেও কোমলতা পরিহার করে কথা বলতে হবে। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছেঃ হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও, যদি তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর সুতরাং পর-পুরুষের সাথে কমল কন্ঠে এমন ভাবে কথা বলো না, কারণ এতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে, সে প্রলুব্ধ হয় এবং তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলবে। (সূরা আহযাবঃ ৩২) এখানে আল্লাহ তায়ালা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীসহ সকল মুমিন নারীদেরকে কয়েকটি অবশ্য পালনীয় নির্দেশ প্রদান করছেনঃ আল্লাহ তায়ালা বলছেনঃ কোমল কন্ঠে কথা বল না! অর্থাৎ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীদেরকে সম্বোধন করে সকল মুমিন নারীদেরকে বলছেনঃ যদি পর্দার অন্তরাল থেকে পর পুরুষের সাথে কথা বলার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে কোমল কন্ঠে কথা বলবে না, যদি বল তাহলে যাদের অন্তরে কৃপ্রবৃত্তির ব্যাধি রয়েছে তারা আসক্ত হয়ে যাবে। বরং ন্যায়সঙ্গতভাবে বলবে।