2 Answers
সকল ইমামের ঐকমত্যে, এতিমের মাল বা সম্পদ খাওয়ার অধিকার কারো নেই। তবে, এতিমের অভিভাবক যদি দরিদ্র হন, তাহলে তিনি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পারিশ্রমিক হিসেবে ন্যায়সঙ্গত পরিমাণ ভোগ করতে পারবেন। ইসলাম তা বৈধ রেখেছে। এছাড়া, অন্য কোন কারণে তা ভোগ করার কারো বৈধ অধিকার নেই। কেননা, রাসূল (সঃ) বলেছেন - "সাতটি ধ্বংসাত্মক বস্তু হতে বেঁচে থাকো, সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলো - ইয়া রাসূলাল্লাহ! কি সেগুলো? তখন রাসূল (সঃ) বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা,..........এতিমদের মালামাল ভক্ষণ করা। (সহীহ বোখারী ও মুসলিম)।
জনাব, উক্ত হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী বুঝা গেল যে, রাসূল (সঃ) সাতটি ধ্বংসাত্মক বস্তু হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন, তন্মধ্যে এতিমদের ধন-সম্পদ ও মালামাল আত্নসাৎ করা অন্যতম।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ তোমরা ইয়াতীমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না, সুন্দর পন্থা ছাড়া। যতক্ষণ না সে পরিণত বয়সে উপনীত হয়, আর পরিমাপ ও ওযন ইনসাফের সাথে পরিপূর্ণ দেবে। আমি কাউকে তার সাধ্য ছাড়া দায়িত্ব অর্পণ করি না। আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ কর, যদিও সে আত্মীয় হয় এবং আল্লাহর ওয়াদা পূর্ণ কর। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। (সুরা – আনআমঃ ১৫২) উক্ত আয়াতে যা বলা হয়েছে – এতীম সাবালক না হওয়া পর্যন্ত ইনসাফ ভিওিক উওম পন্থায় তার সম্পদ খরচ করা যাবে। কিন্তু! সাবালক হওয়ার সংঙ্গে সংঙ্গেই তার মাল তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। অবশ্য সে যদি নির্বোধ হয় বা এমন জ্ঞান না থাকে যাতে সে তার মাল সংরক্ষণ করতে পারবে না তাহলে আগের অবস্থান মাল ব্যবহার করতে পারবে। আল্লাহ তায়ালা অন্য আয়াতে বলেনঃ আর তোমরা ইয়াতীমের সম্পদের কাছে যেয়ো না! সুন্দরতম পন্থা ছাড়া, যতক্ষণ না সে বয়সের পূর্ণতায় উপনীত হয়। আর অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (সুরা – বনী ইসরাঈলঃ ৩৪) অর্থাৎ – ইয়াতিমের মাল ভোগ করার জন্য যাওয়া যাবে না! তা সংরক্ষণের জন্য যেতে হবে। বালেগ হওয়া পর্যন্ত এটা করা যাবে। আল্লাহর হুকুম ও মানুষের পারস্পরিক প্রতিজ্ঞা সবই ওয়াদা এর অন্তর্গত। এগুলো ঠিকভাবে করতে হবে। ☞ এতীমের মাল ভক্ষণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেছেনঃ অর্থাৎ নিশ্চয় যারা পিতৃহীনদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা আসলে নিজেদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে। আর অচিরেই তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। (সূরা নিসাঃ ১০) ইয়াতিমরা সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পদ দেখাশোনা করতে গিয়ে যদি নিজের উপার্জনে বাধা সৃষ্টি হয় তাহলে অন্যের কাজ করলে যেমন একটা পারিশ্রমিক পাওয়া যেত তেমন ন্যায্যভাবে কিছু সম্পদ খাওয়া যাবে তাতে কোন গুনাহ হবে না। এ সম্পর্কে সূরা নিসার ৬ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে যে, আর ইয়াতিমদেরকে যাচাই করবে যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের যোগ্য হয়। অতঃপর তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখতে পেলে তাদের সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দাও। তারা বড় হয়ে যাবে বলে অপচয় করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে বিত্তহীন সে যেন সংযত পরিমাণে ভোগ করে। অতঃপর তোমরা যখন তাদেরকে তাদের সম্পদ ফিরিয়ে দিবে তখন সাক্ষী রেখো। আর হিসেব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy