2 Answers

মদপান সম্পর্কে ইসলাম কঠোর আইন প্রনয়ণ করে। মদপান ইসলামে একটি বড় গুনাহের আওতাভুক্ত। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্‌ (স) বলেছেন, "কেউ যখন মদপান করে তখন সে মু’মিন থাকে না।" (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩১৫), (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৭৭২)। যে ব্যক্তি মদপান করেছে, তাকে রাসুল (সঃ) অধিক শাস্তি দিয়েছেন। একটি হাদীস দ্বারা বোঝা যায়, "আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদপানের অপরাধে নবী (সঃ) গাছের ডাল এবং জুতা দিয়ে পিটিয়েছেন এবং আবূ বকর (রাঃ) চল্লিশটি চাবুক মেরেছেন।" (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৭৭৬)। এ সম্পর্কে আরো একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, হাদীসটি হল- "আলকামাহ্ (রহঃ) তিনি বলেন, আমরা হিম্‌স শহরে ছিলাম। ওই সময় একবার ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) সূরা ইউসুফ পড়লেন। তখন এক লোক বলে উঠল, এ সূরা এভাবে নাযিল হয়নি। (এ কথা শুনে) ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ, আমি রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সময়ে এ সূরা পড়েছি। রসূলুল্লাহ (সঃ) শুনে বলেছেন, বেশ ভাল পড়েছ। ‘আলকামাহ্ বলেন, সে তাঁর সাথে কথা বলছিল এ সময় তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পাওয়া গেল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) তখন বললেন, মদ খাও আর আল্লাহর কিতাবকে মিথ্যা বানাও। এরপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) মদপানের অপরাধে তাকে শাস্তি প্রদান করলেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস নং ২২১৯)।

2954 views

মদ্যপানকে বন্ধ করার জন্য ইসলামে দু’ধরনের শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১. ইহকালীন শাস্তি : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মদ পান করে, তাকে বেত্রাঘাত কর। যদি চতুর্থবার পান করে, তবে তাকে হত্যা কর। জাবের (রাঃ) বলেন, পরে অনুরূপ একজন ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আনা হ’লে তিনি তাকে প্রহার করেন। কিন্তু হত্যা করেননি’।[22] সায়েব বিন ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে এবং আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-এর যুগের প্রথম দিকে কোন মদ্যপায়ী এলে তাকে আমরা হাত দিয়ে, চাদর দিয়ে, জুতা দিয়ে পিটাতাম। অতঃপর ওমর (রাঃ-এর যুগের শেষ দিকে তিনি ৪০ বেত্রাঘাত করতেন। কিন্তু মদ্যপান বৃদ্ধি পেতে থাকলে তিনি ৮০ বেত্রাঘাত করেন। অন্য বর্ণনায়, লাঠি ও কাঁচা খেজুরের ডাল দ্বারা প্রহার করার কথা এসেছে। এমনকি রাসূল (ছাঃ) নিজে তার মুখে মাটি ছুঁড়ে মেরেছেন বলে উল্লিখিত হয়েছে’।[23] আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদ্যপানের শাস্তিস্বরূপ মদ্যপায়ীকে জুতা ও খেজুরের ডাল দিয়ে পিটাতেন এবং আবু বকর (রাঃ) চল্লিশ ঘা মেরেছেন।[24] উপরোক্ত হাদীছগুলো থেকে বুঝা যায়, ইসলামে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের জন্য পার্থিব শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে শাস্তির পরিমাণ নির্ণয় করা আদালতের এখতিয়ারাধীন বিষয়। আদালত মদ্যপায়ীর অপরাধের মাত্রা বুঝে শাস্তির মাত্রা কম-বেশী করতে পারেন।[25] তবে ইসলামী আদালতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হ’ল এসব আসামীকে সংশোধন করা, কোনরূপ নিষ্ঠুরতা না করা। তাকে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাবার সুযোগ দিতে হবে। এতে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে। ২. পরকালীন শাস্তি : মদ্যপানের পরকালীন শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক নেশাকর বস্ত্তই মদ এবং প্রত্যেক মাদকই হারাম। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করেছে এবং তা থেকে তওবা না করে মৃত্যুবরণ করেছে, আখেরাতে সে ব্যক্তি তা পান করবে না’।[26] অর্থাৎ সে ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ ঐ ব্যক্তির জন্য ওয়াদাবদ্ধ যে ব্যক্তি নেশাকর বস্ত্ত পান করে তাকে ‘ত্বীনাতুল খাবাল’ পান করাবেন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, সেটি কি বস্ত্ত হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের দেহের ঘাম অথবা দেহ নিঃসৃত রক্তপুঁজ’।[27] মদখোরদের পরিণতি জাহান্নাম। আর সে জাহান্নামের অবস্থা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ﻟَّﺎ ﻳَﺬُﻭْﻗُﻮْﻥَ ﻓِﻴْﻬَﺎ ﺑَﺮْﺩﺍً ﻭَﻟَﺎ ﺷَﺮَﺍﺑﺎً، ﺇِﻟَّﺎ ﺣَﻤِﻴْﻤﺎً ﻭَﻏَﺴَّﺎﻗﺎً - ‘সেদিন তারা সেখানে কোনরূপ শীতলতা কিংবা কোন পানীয় পাবে না। ফুটন্ত পানি ও দেহ নিঃসৃত রক্ত ও পুঁজ ব্যতীত’ (নাবা ৭৮/২৪-২৫)। আর খাদ্য হিসাবে তারা পাবে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ও বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত যাক্কূম ফল (ওয়াকি‘আহ ৫৬/৫২) ও বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত শুকনা ‘যরীঘাস’। যা তাদেরকে পুষ্ট করবে না, ক্ষুধাও মিটাবে না’ (গাশিয়াহ ৮৮/৬-৭)। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি একবার মদ্যপান করে, আল্লাহ ৪০ দিন পর্যন্ত তার ইবাদত কবুল করবেন না। এভাবে পরপর তিন দিন যদি সে মদ পান করে ও তিনবার তওবা করে, তবুও আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। কিন্তু চতুর্থবার যদি সে মদ পান করে, তাহ’লে তার ৪০ দিনের ছালাত কবুল হয় না। উপরন্তু তার তওবা কবুল হবে না। এছাড়া পরকালে আল্লাহ তাকে ‘নাহরে খাবাল’ অর্থাৎ জাহান্নামীদের দেহ নিঃসৃত রক্ত ও পুঁজের দুর্গন্ধময় নদী হ’তে পান করাবেন’।[28] ইমরান বিন হুছাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এরশাদ করেন, এ উম্মতের মাঝে ভূমি ধ্বস, মানুষের আকৃতি বিকৃতি এবং আকাশ থেকে আল্লাহর আযাব অবতীর্ণ হবে। তখন জনৈক মুসলিম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! সেটা আবার কখন? রাসূল (ছাঃ) বললেন, যখন গায়ক-গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ্য প্রচলন ঘটবে এবং মদ্যপান বৃদ্ধি পাবে’।[29] উপরোক্ত আয়াত ও হাদীছ সমূহ থেকে বুঝা গেল যে, মদ পানকারীদের দুনিয়াতে যেমন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি মৃত্যুর পর কিয়ামতের ময়দানে এক কঠিন বিচারের সম্মুখীন হ’তে হবে এবং জাহান্নামের ভয়াবহ অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হ’তে হবে। মাদকতা প্রতিরোধের উপায় বর্তমান সমাজে মাদকতার ব্যাপক প্রসার ঘটছে। দিনে দিনে তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী সহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণীর মধ্যে মাদকাসক্তের হার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে কয়েক বছর পর দেশে সুস্থ লোক পাওয়া দুষ্কর হবে। বর্তমানে কোন কোন সেচ্ছাসেবী সংগঠন এ বিষয়ে কিছুটা এগিয়ে আসলেও সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। মাদক প্রতিরোধে সরকারকেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজনৈতিক হানাহানি নয়; বরং সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকতার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। এখানে মাদকতা প্রতিরোধে কতিপয় প্রস্তাবনা ও দিক নির্দেশনা তুলে ধরা হ’ল- মাদকদ্রব্য প্রতিরোধের উপায় প্রধানত দু’টি। যথা- (১) নৈতিক ও ধর্মীয় (২) রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক। নৈতিক ও ধর্মীয় উপায়ে মাদকতা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা : বাংলাদেশে শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের বসবাস। এখানে ধর্মীয় অনুভূতি ও চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে মাদকতা নির্মূল করা সম্ভব। ইসলামী দল, সংস্থার দায়িত্বশীল, মসজিদের ইমাম ও খতীব, ইসলামী জালসা ও সেমিনারে আলোচকদের মাধ্যমে মাদকের দুনিয়াবী ক্ষতি ও পরিণতি এবং পরকালে এর শাস্তি ও ফলাফলের বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে বেশী ভূমিকা পালন করতে হবে। এর জন্য জাতীয় বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে ধর্মীয় অনুভূতি সৃষ্টি এবং বিশ্বাস ও আমলের সংশোধনের মাধ্যমে যে পরিবর্তন আনা যায়, সেটাই হ’ল সর্বোৎকৃষ্ট ও স্থায়ী সংশোধন। মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে : আজকাল রেডিও, টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকাতে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। বরং যারা মাদক সেবন, মাদক পাচার ও ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের তালিকা ও চিত্র তুলে ধরা এবং তাদের থেকে সাধারণ মানুষকে সাবধান করা যরূরী। এছাড়া পিতা-মাতা ও মুরুববীরা ছেলে-মেয়েদের কাছে মাদকতার অপকারিতা তুলে ধরতে পারেন। কোন ছেলে এই ভয়াল নেশায় জড়িয়ে পড়লে সমাজের সচেতন সকলের এগিয়ে যাওয়া উচিত এবং তাকে ঐ নেশা থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করাও কর্তব্য। রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক প্রতিরোধ : কোন দেশের প্রশাসন যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহ’লে প্রশাসনের সামনে অপরাধ কর্মকান্ড হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ অপরাধীরা যখন দেখবে যে, অপরাধ করলে এর কোন প্রতিকার বা শাস্তি হয় না। অথবা বড় জোর থানা পর্যন্ত গেলে কারো ফোনের মাধ্যমে ছাড়া পাওয়া যায়। অথবা কোর্টে গেলে সহজে যামিনে বের হওয়া যায় ও কিছুদিন পর খালাসও পাওয়া যায়। তখন তারা আরো বেপরোয়া হবে। এজন্য মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকতা বন্ধে আমাদের কতিপয় প্রস্তাবনা।- ১. মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও সরবরাহের লাইসেন্স বন্ধ করতে হবে। ২. পুলিশ প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ৩. মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে পৃথক অধিদফতর গঠন করে সংশ্লিষ্টদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ৪. এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত মন্ত্রী, এমপি, আমলা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ও রাজনৈতিক নেতাদের পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। পক্ষান্তরে সৎ ও ন্যায়পরায়ণদেরকে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করতে হবে। ৫. মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও মাদকের সাথে জড়িতদের প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এজন্য কঠোর আইন যেমন মৃত্যুদন্ডের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেরূপ চীন, ইরান, সঊদী আরব প্রভৃতি দেশে এর জন্য কঠোর আইন রয়েছে। বিশেষ করে মাদক চোরাচালানদেরকে এ আইনের আওতায় অবশ্যই আনতে হবে। ৬. সমাজে সাধারণ মাদকাসক্তদেরকে ইসলামী আইনের আওতায় এনে কঠোর ও প্রকাশ্যে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সাথে সাথে সংশোধনেরও ভাল ব্যবস্থা করতে হবে। ৭. টেলিভিশন, সিনেমা, পত্র-পত্রিকায় এবং স্যাটেলাইটে মাদকতার দৃশ্য, অশ্লীল ছবি সহ সকল অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এর বিপরীতে মাদকাসক্তি থেকে নিরাময়ের উপায় এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলো বেশী বেশী তুলে ধরতে হবে। ৮. দেশের সীমান্তসহ মাদক প্রবেশের যতগুলো রুট রয়েছে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ৯. মাদকদ্রব্য নির্মূলের জন্য মাদক নিবারক আইন যরূরী ভিত্তিতে পাস করতে হবে। ১০. বাংলাদেশে সর্বত্র ধূমপান নিষিদ্ধের আইন পাস করতে হবে। ভুটান, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সহ অনেক রাষ্ট্রে ধূমপান নিষিদ্ধ। একই সাথে তামাক উৎপাদন, বিপণন, আমদানী-রপ্তানী, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ এবং এর বিজ্ঞাপন প্রদানসহ সব প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। ১১. সামাজিকভাবে মাদকতার ভয়াবহতাকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সম্মিলিত প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে পারলে এ সামাজিক ক্যান্সার নিমিষে দূর করা সম্ভব। এই কমিটি দল, মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমন্বয়ে হ’তে পারে। এদের কাজ হবে সমাজ ও গ্রামের মাদকাসক্তদেরকে বুঝানো। সামাজিক চাপ সৃষ্টি ও ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত করা। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা দেয়া এবং পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ১২. মাদকতা নির্মুলের লক্ষ্যে দেশের সেনাবাহিনীর উপর দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। পরিশেষে বলব, মাদকতা একটি জাতিকে সহজেই নির্মূল করতে পারে। যেমন হাদীছে এসেছে, ওছমান গনী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাক। কেননা এটি হ’ল সকল নিকৃষ্ট কর্মের উৎস’। মনে রেখো, তোমাদের পূর্বেকার জনৈক ব্যক্তি সর্বদা ইবাদতে রত থাকত এবং লোকালয় থেকে দূরে থাকত। একদা এক পতিতা মেয়ে তাকে প্রলুব্ধ করল এবং তাঁর কাছে তার দাসীকে পাঠিয়ে দিল। সে গিয়ে বলল যে, আমরা আপনাকে আহবান করছি একটি ব্যাপারে সাক্ষী থাকার জন্য। তখন সাধু লোকটি দাসীটির সাথে দেখা করল। যখনই সে কোন দরজা অতিক্রম করত তখনই তা পিছন থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়া হ’ত। এভাবে অবশেষে এক সুন্দরী মহিলার কাছে তাকে নিয়ে যাওয়া হ’ল। যার কাছে একটি বালক ও এক পাত্র মদ ছিল। তখন ঐ মহিলাটি তাকে বলল, আমি আপনাকে সাক্ষী করার জন্য ডাকিনি। বরং ডেকেছি আমার সাথে যেনা করার জন্য। অথবা এই বালকটিকে হত্যা করবেন কিংবা এই এক পেয়ালা মদ পান করবেন। লোকটি তখন মদ পান করল। অতঃপর বলল, আরও দাও। অতঃপর সে মাতাল হয়ে গেল। ফলে সে উক্ত নারীর সাথে যেনা করল এবং ঐ বালকটিকেও হত্যা করল। অতএব তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাক। কেননা মদ ও ঈমান কখনও একত্রে থাকতে পারে না। বরং একটি অপরটিকে বের করে দেয়’।[30] অতএব আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাদকতা থেকে বেঁচে থাকার এবং এগুলো প্রতিরোধ করার তাওফীক দান করুন- আমীন! [22]. তিরমিযী হা/১৪৪৪; নাসাঈ, মিশকাত হা/৩৬১৭। [23]. আবু দাঊদ হা/৪৪৮৭; মিশকাত হা/৩৬২০। [24]. বুখারী হা/৬৭৭৩; মুসলিম হা/১৭৫৬। [25]. মাসিক আত-তাহরীক, ১৫তম বর্ষ, ১২তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১২, পৃঃ ১০। [26]. মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৩৮। [27]. মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৩৯। [28]. তিরমিযী, মিশকাত হা/৩৬৪৩-৪৪। [29]. তিরমিযী হা/২২১২। [30]. নাসাঈ হা/৫৬৬৬; বায়হাক্বী হা/২৮৭-২৮৮।

2954 views

Related Questions