জানি এটা ভুল কিন্ত......!?
3 Answers
কোনো কারুনে আশা সেষ হলে বা কোনো কারুনে আপনার যে কারণে চান্স পাইলেন না ভাগ্য নেই তার কারণে আপনি নামাজ ছাড়বেন কেন আর আপনি নামাজ পড়বেন আপনার আশা পুরণ না হওয়া কারণ কিন্তু আল্লাহ কোনো হাত নেই যা হবার হয়েছে আল্লাহ সবারী ভাল চান আর যা হয় তা ভালর জন্য হয় আপনি আগের মত ইসলামের আদশ মেনে চলার চেষ্টা করুন আল্লাহ আপনাকে পরিখা ও করতে পারেন তায় বলে আপনি আল্লাহ কথা বুলে জানবেন না কখনো না আপনার আশা পুরণ ও এক দিন হতে পারে আপনি আল্লাহ কে মনে প্রণে বিশ্বাস করুন দোয়া করুন যেন শয়তানে কুকর্ম থেকে বাঁচতে পারেন
আপনি বলেছেন "আমি অনেক পরিশ্রম করেছিলাম কিন্ত ভাগ্য আমার সাথে ছিল না" একথা একেবারেই ভিত্তিহীন। কেননা, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন "তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ যথেষ্ট।" (সুরা নিসা, আয়াত নং ৭৯)৷ কল্যাণ, অকল্যান সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে রপ্ত হয়। কিন্তু বান্দার কর্মফলের মাধ্যমেই মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর কল্যান/অকল্যান বর্ষণ করেন। আর আপনি আগে থেকেই নামাজের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। এমনকি, আপনি নামাজের মাধ্যমে আপনার নিজের কথাগুলো আল্লাহর কাছে ব্যক্ত করতেন। হ্যাঁ, এটা ঠিক। কিন্তু আপনি আপনার মনের স্বপ্ন পূরণের জন্য নামাজ পড়বেন কেন? নামাজ পড়তে হবে একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য হাছিলের উদ্দেশ্যে। তাছাড়াও, এটা আবশ্যক। আপনি সবসময় পারলৌকিক জীবন নিয়ে চিন্তা করুন, আর নিয়মিত নামাজ আদায় করুন, এটিই আপনাকে একমাত্র খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে। কেননা, পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, "নিশ্চয় নামাজ সকল খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।" (সুরা আনকাবুত, আয়াত নং ৪৫)। আর আপনি এমনভাবে নামাজ পড়ুন, যেন আপনার মনে হয়, এটাই আপনার জীবনের শেষ নামাজ,। তাহলে নামাজের প্রতি আপনার দৃষ্টি ও মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে৷ মোটকথা হল- আপনি সবসময় ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক জীবন গড়ার চেষ্টা করুন, নিজের মনের সাথে সবসময় জিহাদ করুন, আর এটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।
আপনার প্রশ্নে দুটি বিষয় লক্ষ্য করলাম তার একটি হল, আপনার দোয়া কবুল হয়নি। আরেকটি হল, আপনার অবস্থার পরিবর্তন। প্রথম বিষয়ে বলবো যে, দোয়া বিষয়ে যেহেতু কুরআনে কবুলের ওয়াদা করা হয়েছে, সেহেতু দোয়ার শর্ত সমূহ পূরণ করে দোয়া করলে আল্লাহ পাক অবশ্যই দোয়া কবুল করবেন।তাই এখন দোয়া কবুলের শর্তাবলী উল্লেখ করছি। লক্ষ্য করুন এ বিষয়গুলি দোয়া করার সময় ছিল কিনা। 1. দোয়া শুধু আল্লাহ তায়ালার কাছে করা অন্য কারো কাছে না চাওয়া। আল্লাহ পাক বলেন: আর আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (তখন আপনি বলে দিন) নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী। দোয়াকারী যখন আমাকে ডাকে তখন আমি ডাকে সাড়া দিই।”[সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬] 2. দোয়ার ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া না করা। তাড়াহুড়া করা দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে বড় বাধা। হাদিসে এসেছে, “তোমাদের কারো দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তাড়াহুড়া করে বলে যে: ‘আমি দোয়া করেছি; কিন্তু, আমার দোয়া কবুল হয়নি”[সহিহ বুখারী (৬৩৪০) 3.কোন গোনাহের কাজের দোয়া না করা।এ সম্পর্কে সহীহ ইবনে হিব্বানে 881 নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,বান্দার দোয়া কবুল হতেই থাকে যতক্ষণ না সে কোন গোনাহের বা আত্মীয় ছিন্নতা এবং দোয়া কবুলে তাড়াহুড়া করে। জিজ্ঞেস করা হল দোয়ার মধ্যে তাড়াহুড়া কিভাবে হয়? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এভাবে বলা যে, আমি দোয়া করেছি কিন্তু কবুল হয়নি।পরে আফসোস করে দোয়া করা ছেড়ে দেয়। 4. আল্লাহ্র প্রতি ভাল ধারণা নিয়ে দোয়া করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তেমন।”[সহিহ বুখারী (৭৪০৫) আবু হুরায়রা (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে, “তোমরা দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস (একীন) নিয়ে আল্লাহ্র কাছে দোয়া কর।”[সুনানে তিরমিযি,] 5. দোয়াতে মনোযোগ থাকা। দোয়াকালে দোয়াকারীর মনোযোগ থাকবে এবং যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে তাঁর মহত্ত্ব ও বড়ত্ব অন্তরে জাগ্রত রাখবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহ্ কোন উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।”[সুনানে তিরমিযি (৩৪৭৯), 6. খাদ্য পবিত্র (হালাল) হওয়া। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, “আল্লাহ্ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন”[সূরা মায়েদা, আয়াত: ২৭] এ কারণে যে ব্যক্তির পানাহার ও পরিধেয় হারাম সে ব্যক্তির দোয়া কবুল হওয়াকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদূরপরাহত বিবেচনা করেছেন। হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি দীর্ঘ সফর করেছেন, মাথার চুল উস্কুখুস্ক হয়ে আছে; তিনি আসমানের দিকে হাত তুলে বলেন: ইয়া রব্ব, ইয়া রব্ব! কিন্তু, তার খাবার-খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরিধেয় হারাম, সে হারাম খেয়ে পরিপুষ্ট হয়েছে তাহলে এমন ব্যক্তির দোয়া কিভাবে কবুল হবে?[সহিহ মুসলিম, (১০১৫)] 7. দোয়ার ক্ষেত্রে কোন সীমালঙ্ঘন না করা। কেননা আল্লাহ্ তাআলা দোয়ার মধ্যে সীমালঙ্ঘন করাটা অপছন্দ করেন। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, “তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাক; নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” [সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫] যদি এ শর্তাবলী সহ দোয়া করে থাকেন, এরপরও আপনি আপনার কাংখিত মনোবাসনায় পৌঁছতে পারেননি,তাহলে আমি বলবো যে, আল্লাহ পাক আপনার জন্য এর চেয়ে উত্তম কিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন,সেটা দুনিয়ায় হোক বা পরকালেই হোক। কারণ দোয়া কবুলের কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে;এর মধ্যে একটি হল,কেউ কিছু দোয়া করলো কিন্তু এর চেয়ে উত্তম যেটা সেটা তার জন্য নির্ধারিত করা হল। অনুরুপ দোয়া করা হল কিন্তু তা কবুল না করে তার কোন বিপদ দূর করার ফয়সালা করা হল।অথবা তা দুনিয়ায় না দিয়ে আখিরাতের জন্য গচ্ছিত রাখা হল।এ সবগুলোই দোয়া কবুলের পদ্ধতি। এগুলোর কোনটা আপনার জন্য বেশি মঙ্গলময় তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। এদিকে ইঙ্গিত করে কোরআনে বলা হয়েছে,তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।[সূরা বাকারা, আয়াত ২১৬] আপনার প্রথম বিষয়ের কিছুটা ধারণা দিতে পেরেছি।এবার দ্বিতীয় বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। আপনার দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ অবস্থার পরিবর্তন কিন্তু অকৃতজ্ঞতার গন্ধ ছড়াচ্ছে।কেননা মানুষের কোন একটি আকাংখার নাম কিন্তু পুরো জিবন নয়।পুরো জিবনের অনেক দিক রয়েছে।সেই দিকগুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন! আর ভাবুন! আপনি সেই দিকগুলো নিয়ে কত ভালো আছেন,কত শান্তিতে আছেন, যেগুলো অন্যরা পায়নি। আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে, কিছু পাওয়া না পাওয়ার উপর কিন্তু আনুগত্য ও নাফরমানির ভিত্তি নয়।বান্দারা যেন অকৃতজ্ঞ না হয় এজন্য কোরআনের অনেক স্থানে অকৃতজ্ঞতার মন্দত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।কিছু আয়াতের মাধ্যমে আমার লেখার ইতি টানবো। আল্লাহ বললেনঃ নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যাক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।[সূরা আল মায়েদা, আয়াত ১১৫] যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।[সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ৭] যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ।[সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ৩৪]