একটা মেয়েকে একতরফা ভাবে ভালোবাসতাম,তার পিছে অনেক ঘুরেছি,সে এখন অন্য এক ছেলের সাথে প্রেম করে,সে আমার মন ভেঙে দিছে,আমার মন ভাঙার জন্য মেয়েটি কি আল্লাহর কাছে শাস্তি পাবে?
2656 views

1 Answers

ইসলামী শরীয়তে  দুজন গাইরে মাহরাম পুরুষ-নারীর কথা বার্তা, উঠা-বসা ইত্যাদি (যা শরীয়ত বিদিত নয়) সম্পূর্ণ হারাম। এ আলোকে আপনাদের অতীত কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে হারাম হিসেবে গণ্য হবে। আর মন ভাঙ্গার ক্ষেত্রে বৈধ দৃষ্টিকোণ থাকতে হবে। যেখানে আপনাদের কাজগুলোই গর্হিত হয়েছে। সেখানে মন ভাঙ্গার কারণে গোনাহ তো হয়ই নাই বরং দুজন হারাম কাজ অব্যাহত রাখার গোনাহ থেকে বেঁচে গেছেন।

মহান আল্লাহ তাআলা- এসো, তোমাদের উপর তোমাদের রব যা হারাম করেছেন, তা তিলাওয়াত করি যে, তোমরা তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না এবং মা-বাবার প্রতি ইহসান করবে আর দারিদ্র্যের কারণে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না। আমিই তোমাদেরকে রিয্ক দেই এবং তাদেরকেও। আর অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হবে না- তা থেকে যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে...।  সূরা আনআম : আয়াত নং ১৫১

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেমিক-প্রেমিকাদের মাঝে যেসব দেখা সাক্ষাত, ঘুরাফিরা সংঘটিত হয়ে থাকে সেগুলোকেও যিনা-ব্যভিচার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাদীসে এসেছে- দুই চক্ষুর যিনা হচ্ছে- দেখা, দুই কানের যিনা হচ্ছে- শুনা, জিহ্বার যিনা হচ্ছে- কথা, হাতের যিনা হচ্ছে- ধরা, পায়ের যিনা হচ্ছে- হাঁটা, অন্তর কামনা-বাসনা করে; আর যৌনাঙ্গ সেটাকে বাস্তবায়ন করে অথবা করে না।” -সহিহ মুসলিম :  হা.নং ২৬৫৭

অন্য হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ইরশাদ করেন-
কোন পুরুষ যদি কোন নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত হয় সেখানে শয়তান থাকে তৃতীয় ব্যক্তি। -সুনানে তিরমিজি : হা. নং ২১৬৫

সুতরাং প্রেম-ভালবাসার নামে যুবক-যুবতীদের মাঝে যা কিছু ঘটে শরিয়তের ভাষায় সেগুলোও ব্যভিচারের পর্যায়ভুক্ত; জঘন্য গুনাহর কাজ। তাই মন ভাঙ্গার কারণে মেয়েটি গোনাহগার হবে না।

 

 


2656 views

Related Questions