3 Answers

 ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করা যেমন বাধ্যতামূলক নয়, তেমনি এটি বিদ'আতও নয়। বরং এটি একটি মুসতাহসান বা উত্তম কাজ। কেউ যদি স্বেচ্ছায় করে ভালো, না করলে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। কোরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে এটি একটি সুন্নাত আমল। এটিকে বিদ'আত বলার কোনো অবকাশ নেই। ফরজ নামাজের পর দোয়া করা হাদিসের ছয়টি নির্ভরযোগ্য কিতাব অর্থাৎ সিহাহ সিত্তার মাধ্যমে প্রমাণিত। অন্যদিকে দোয়ার সময় হাত তোলার কথাও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু এমন কোনো প্রমাণ নেই, যাতে ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করাকে হারাম কিংবা নিষেধ করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের জামানা থেকে আজ পর্যন্ত হাজার বছর ধরে ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করার নিয়ম চলে আসছে। এতে কেউ আপত্তি করেনি। ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম মালেক (রহ.), ইমাম শাফেয়ি (রহ.) এবং ইমাম আহমেদ (রহ.)-এর মতো অগণিত ফকিহ ও মুহাদ্দিস চলে গেছেন। কোনো একজন ইমামও এ বিষয়ে আপত্তি করেননি। শুধু ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ও ইবনে কাইয়্যিম (রহ.) আপত্তি জানিয়েছেন। তথাকথিত আহলে হাদিসের আলেম নাসিরুদ্দীন আলবানীর অনুকরণে বর্তমানে কিছু লা-মাজহাবি আলেম ফরজ নামাজের পর হাত তুলে মোনাজাত সম্পর্কে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যা শরিয়তের যুক্তিতে কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। হ্যাঁ, যাঁরা ফরজ নামাজের পর হাত তুলে মোনাজাত করাকে বাধ্যতামূলক মনে করতেন, তাঁরাও ভুলের মধ্যে আছেন। জায়েজ কাজকে বাধ্যতামূলক মনে করাও শরিয়তের দৃষ্টিতে গর্হিত কাজ। এতে সন্দেহ নেই।

হাদিস শরিফে এসেছে- রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই লজ্জাশীল এবং সম্মানী। বান্দা যখন তাঁর কাছে দুই হাত তুলে দোয়া করে, তখন তিনি খালি হাত ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করেন।' ইমাম হাকেম হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। লা-মাজহাবিদের আলেম আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় এটিকে সহিহ বলে মেনে নিয়েছেন। অন্যদিকে ইমাম আবু দাউদ (রহ.) এই হাদিসটি বর্ণনা করে কোনো মন্তব্য করেননি। এতে বোঝা গেল, হাদিসটি নিঃসন্দেহে সহিহ।

2972 views Answered

আপনি একা হাত তুলে মোনাজাত করতে পারবেন। কোনো সমস্যা নেই।

2972 views Answered

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। (আল-মুমিনুন: ৬০) অর্থাৎ, আমার কাছে চাও আমি তোমাদের চাওয়া পূরন করব, আমার কাছে সমস্যার কথা বলো আমি সমাধান করব। আমার কাছে বিপদ হতে মুক্তি চাও আমি বিপদ দূর করে দিব। তিনি এমন কোন নির্দিষ্ট নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে চাওয়ার শর্ত ও দেন নি, বরং যখনি হোক যেভাবেই হোক তার কাছে চাইতে বলেছেন, তাকে ডাকতে বলেছেন। এখন আমি আপনি কেন ভাববো যে হাত তুলে দোয়া করলেই উনি তা কবুল করবেন না! আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করিও না, নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না। (সূরা কাসাস : ৭৭)। 

2972 views Answered

Related Questions

Next steps