আমার বয়স ১৭। ওজন ৪৭?

আমার বয়স ১৭।  ওজন ৪৭।  কম ওজনের কারনে আমি অনেক সমস্যায় আছি।  অন্যদিকে আমি ২ বছর যাবত হস্তমৈথুন করছি। এর থেকে আমি কিছুতেই মুক্তি পাচ্ছি না। অাগে প্রতিদিনই করতাম। কিন্তু এখন ২ থেকে৩ দিন হলে আর সামলাতে পারি না। এটির ফলে আমার শরীর দূর্বল হয়ে পড়ে এবং লেখাপড়ায়ও অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অমি হস্তমৈুন বাদ দিতে চাই এবং আমার ওজন  ১০-১২ কেজি কিভাবে বাড়িয়ে নিতে পারব কেউ বলবেন প্লিজ। খুব সমস্যায় আছি, কেউ সাহায্য করলে উপকৃত হবো।
2944 views

2 Answers

সাধারণভাবে মনে করা হয় মেদহীন হালকা-পাতলা গড়নের নারী-পুরুষদের সবাই পছন্দ করেন। এরা যা ইচ্ছে তা-ই খেতে পারেন, যা ইচ্ছা তা-ই পড়তে পারেন! কিন্তু এরা কি নিজেদের শরীর নিয়ে সন্তুষ্ট? এরা কি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী? বাস্তবতা হলো এমন মানুষদের অনেকেই নিজেদের হালকা-পাতলা শরীরটা নিয়ে দুর্ভাবনায় থাকেন। আবার কেউ কেউ তো দিনমান ‘রোগা-পটকা’, ‘তালপাতার সেপাই’ ইত্যাদি শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ।

যে যা-ই বলুক, শরীরটা ঠিকঠাক আছে কিনা সেটা বোঝার একটা ভালো উপায় হলো ‘বডি মাস ইনডেক্স’ বা উচ্চতা ও ওজনের অনুপাতের হিসাব। সে অনুযায়ী ওজন কম হলে বিষয়টা ভাবা প্রয়োজন। কেননা অতিরিক্ত ওজন যেমন স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক তেমনি অতিরিক্ত ওজনহীনতাও বিপদ ডেকে আনতে পারে। হালকা-পাতলা শরীরটায় বাসা বেঁধে থাকতে পারে রক্তশূন্যতা, ঝামেলা থাকতে পারে পরিপাকের। এ ছাড়া মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের ঝুঁকি ও হাড়ের দুর্বলতাও চিন্তার বিষয়। ফলে ওজন বাড়ানোর প্রয়োজন হলে এই ছয় পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করতে পারেন।

পুষ্টিকর খাবারদাবার

ওজন বাড়াতে হলে খেতে হবে। যা খুশি তা-ই খেলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি। ভারসাম্যপূর্ণ পুষ্টিকর খাবার। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের যথাযথ সমন্বয় থাকতে হবে খাবারে। মাংসপেশি গঠন আর ওজন বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিনের চাহিদা মেটানো গুরুত্বপূর্ণ। নানা ধরনের বাদাম, দুধ ও দুধজাত খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাবে।

পানীয়ের পরিমাণ

ওজন বাড়াতে হলে আগে ক্ষুধা বাড়াতে হবে। ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য হজমে সহায়ক পানীয় পান করুন। সারা দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি খান। তবে, খেতে বসার ঠিক আগে পানি খাবেন না বা খাওয়ার মাঝখানেও পানি খাবেন না। এতে ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়।

হাবিজাবি কম খান

সকাল-দুপর-রাতের ভারী খাবারের মাঝে বারবার এটা-সেটা খাবেন না। কেউ কেউ বলেন দিনে তিন থেকে পাঁচ বেলা ভারী খাবার খাওয়াটাই ভালো। বেছে বেছে পুষ্টিকর খাবারে পেট ভরাতে হবে। হালকা-পাতলা শরীরে বারবার হাবিজাবি ভাজাপোড়া বা ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার খেয়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।

শর্করায় সতর্কতা

আপনার হালকা-পাতলা শরীর দেখে কাছের মানুষেরা হয়তো কেক-পেস্ট্রিসহ নানা অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার খেতে উৎসাহিত করবেন। কিন্তু অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবারের বিষয়ে সাবধান। ভিসেরাল ফ্যাট বা স্কিনি ফ্যাটের খপ্পরে পড়ে যেতে পারেন আপনি। এটা এমন চর্বিযুক্ত উপাদান যা হঠাৎ মেদ বাড়িয়ে না দিলেও দেহের ভেতরে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গে বাসা বাঁধতে পারে। তাই শর্করা খেতে হবে বেছে বেছে।

শরীরচর্চা শুরু করুন

সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। আপনি যত হালকা-পাতলাই হন না কেন ব্যায়ামে আপনিও দারুণ উপকৃত হবেন। রাতে ঠিকঠাক ঘুমিয়ে পড়া আর সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার মতো অভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। তেমনি শরীরচর্চাটাও জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার ক্ষুধা বাড়বে। ফলে সাধারণ ক্ষুধা মন্দা কাটিয়ে উঠে আপনি খেতে পারবেন। নিয়মিত শরীরচর্চায় আপনার পেশি সুগঠিত হবে এবং শারীরিক শক্তি বাড়বে। যোগব্যায়ামের অনেক আসন চর্চা করেও আপনি উপকৃত হতে পারেন।

ছেড়ে দিন ধূমপান

যত বেশি ধূমপান করবেন আপনার ক্ষুধা না লাগার সমস্যা তত বাড়তেই থাকবে। অবশ্য জগতে অতিরিক্ত ওজনের মোটাসোটা ধূমপায়ীও প্রচুর আছেন এবং হাড় জিরজিরে রোগা-পটকা ধূমপায়ীও প্রচুর আছেন। কিন্তু কথাটা হলো ধূমপান কারও স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো না। আর ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর সবারই প্রথম যে উপকার হয় তা হলো ক্ষুধা বাড়তে থাকা।


তথ্যসূত্র :- প্রথম আলো

2944 views Answered

আসল কথাটাই তো বাদ গেল - উচ্চতা। তারপরেও আমি ধরে নিচ্ছি আপনি যেহেতু 10/12 কেজি ওজন বাড়াতে চাচ্ছেন সেহেতু আপনি কিছুটা রোগা। 

প্রথম কথা হল উচ্চতা বাড়ানোর জন্য কোন ওষুধ সেবন করার কথা ভাববেন না। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে আগানোই better. 

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম 
  • যথেষ্ট পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি 
  • ভাল খাবার - সম্ভব হলে বেশি করে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এবং অবশ্যই শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে
এগুলোর সাথে সাথে আপনি ব্যায়াম করবেন নিয়মিত। সকাল বিকাল যখনই সময় পাবেন ব্যায়াম করবেন 15/ 20/ 30 মিনিট। 
আর যেই বাজে অভ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন সেটা থেকে বের হওয়া খুব মুশকিল। হাস্যকর আর অসম্ভব হলেও এর উপযুক্ত ওষুধ হল বিয়ে করে ফেলা। যদিও 17 বছর বয়সে আমাদের আইন আর সমাজ দুটোই এর বিপক্ষে। যাই হোক অসম্ভব কথা বলাতে আমার উপর অনেকেই নারাজ হতে পারে। 
তবে যেসব কাজ করলে আপনি মানসিক ভাবে ঐ বাজে অভ্যাসের দিকে ধাবিত হন সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করুন। আমি জানি এটা কঠিন। সে জন্যই বিয়ের কথা বলেছি। 
যাই হোক যে ব্যাপারগুলো করতে বললাম সেগুলো করতে পারলে 2/3 মাসের মধ্যেই আশা করি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। অথবা আপনি ভাল ডাক্তার দেখাবেন। ধন্যবাদ। 
2944 views Answered

Related Questions

Next steps