7 Answers

আল্লাহকে ভয় করুন,আখিরাতকে ভয় করুন।দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে আখিরাতের প্রতি চিন্তা করুন,নামাজ হলো বেহেস্তের চাবি,নামাজ হলো পরকালের প্রশংসা পত্র।এই চাবি প্রশংসা পত্র ছাড়া আপনি জান্নাতে যেতে পারবেন না,দুনিয়ার সকল মানুষেই চায় মৃত্যর পর জান্নাতে যাওয়ার জন্য।কিন্তু তার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়া উপায় নেই।আল্লাহকে ভালোবাসুন আল্লাহর কথামতো চলুন পরকালে আল্লাহও আপনাকে ভালেবাসবে।আমাদের বিশ্ব নবীর আদেশগুলোকে ভালোবাসুন,আদেশের নিয়মে চলুন।পরকালে তিনিও আপনাকে ভালোবাসবেন।সবসময় মনের মধ্যে স্বরণ রাখুন একদিন আপনাকে মরতেই হবে।এগুলো চিন্তা করুন নামাজের প্রতি মনযোগী বাড়বে।এছাড়াও আপনি ইসলামিক গজল, ইসলামিক বই এবং ওয়াজ শুনতে পারুন নামাজের প্রতি মনযোগী বাড়বে।

3049 views

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া খুবই কঠিন। আপনি যতই অভ্যাস করুন হবেনা। যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনার ভিতর আল্লাহভীতি থাকবে। সবথেকে জরুরী আল্লাহর ভয়। তখনি আপনার ঈমান পরিপোক্ত হবে। তখন আপনাকে অভ্যাস করতে হবেনা। এমনি এমনিই আপনার নামাজের প্রতি টান তৈরি হবে।

3049 views

মনে মনে সংকল্প করুন| মনের ইচ্ছাশক্তিই বড়| ইসলামি বই পড়ুন, কুরআন পড়ুন| হাদীস পড়ুন|| পারলে তিন দিনের জন্য তাবলীগ এ যান|

3049 views

একেবারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরা খুব কঠিন। তাই অল্প অল্প করে অভ্যস গড়তে হবে।প্রথম কিছু দিন 1/2 ওয়াক্ত - এ ভাবে পরতে পরতে একদিন পাঁচ ওয়াক্তই পরতে পারবেন।

3049 views

কোনো বন্ধুর সাথে নামায পড়ার প্রতিযোগিতা করুন। (সহীহ নিয়তে) তাহলে নামায এর আগ্রহ বাড়বে।  ৩০×৫ এর চার্ট তৈরি করে নামাযের পড়লে টিক চিহ্ন দিন।  এভাবে প্রতিদিন করুন। 

3049 views
  • আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করুন।
  • কোন কবরের পাশে বসে সময় কাটান ও কবরবাসীর অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করুন। এটি দিলকে নরম করে।
  • গুনাহ, প্রেম, মাস্টারবেশন, ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।
  • সৎ বন্ধুবান্ধব এর সাথে চলাফেরা করুন।
  • অসৎ বন্ধু বান্ধব ত্যাগ করুন।
  • আলেম/ওলামার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখুন।
  • ইসলামী কিতাব, সংগীত দেখার অভ্যাস করুন। 
  • পশ্চিমা সংস্কৃতি পরিত্যাগ করুন।
  • আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দোয়া করুন।
  • তাবলীগ জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
মোটকথা, দৃঢ় সংকল্প এ অটুট থাকুন। আপনি পারবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন।
3049 views

প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে আমি অন্য একটি উদাহরণ টানছি৷ এটা নামাজের উদাহরণ  নয়,কিন্তু সম্পর্ক আছে৷ 

এক ছাত্র এসেছেন শিক্ষকের কাছে।ছাত্র: হুজুর অনেক চেষ্টা করেছি বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত কিছুতেই বন্ধ করতে পারছিনা। হুজুর: আল্লাহকে ভয়কর। ছাত্র: তাতো করিই কিন্তু তবুও পারছি না। হুজুর ছাত্রকে উদ্দেশ্য করে,এখানে গ্লাস ভর্তি এক গ্লাস দুধ আছে। এ দুধ যথা সময়ে ওমুক জায়গায় পৌছায়ে দিতে হবে। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট। হুজুর সাথে করে একজন মানুষ পাটালেন। আর বলে দিলেন, এ গ্লাসের এক ফোঁটা দুধ যদি নিছে পড়ে তাহলে তাকে একশ বেটাঘাত করবে। বেটাঘাতের ভয়ে ছাত্র খুবই স্বযত্নে সঠিক স্থানে দুধ গুলা পৌছায়ে দিলেন কিন্তু এক ফোঁটা দুধো নিছে পড়েনি। শিক্ষক: কোনো দুধ কি মাটিতে পড়েছে(ছাত্রকে উদ্দেশ্য করে) ছাত্র: কিভাবে পড়বে। আমিতো সারাক্ষন আপনার বেতাঘাতের ভয়ে খুবই যত্নসহ কারে নিয়েছি। সর্বক্ষন ভয়ে ছিলাম কখন না জানি আপনার একশ বেতাঘাত আমার পিটের উপর পড়ে। শিক্ষক: কোনো বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়েছে ? ছাত্র: প্রশ্নই আসেনা। বেতের ভয়ে আমিতো ভুলেই গেছি রাস্তায় আর কোনো লোক ছিলো কিনা। শিক্ষক: এভার একটু চিন্তা কর, যেমনি করে তুমি বেতাঘাতকে ভয় করেছো, তেমনি করে যদি তুমি আল্লাহকে ভয় করতে তাহলে তোমার দৃষ্টিতে কোনো বেগানা নারী পড়তো? আল্লাহ ও পরকালের ভয় যতটুকু আমাদের অন্তরে থাকা উচিত ততটুকু আমরা করিনা। তার চেয়েও বেশি ভয় পাই আমরা তাঁর চেয়েও অতি নগণ্য কিছুকে, যা পরকালের ভয়াভহ আযাবের কাছে তুচ্ছ।

ঠিক তেমনি,আপনি যদি আল্লাহকে ও পরকালের ভয়াবহতাকে যথাযতভাবে ভয় করেন,তবে আপনার কাছে এই দুনিয়ায় নামাজ না পড়ে খেলাধুলায়/গানবাজনায় /আড্ডায় মজে থাকা পরকালের আযাবের কাছে তুচ্ছ মনে হবে৷ তখন আপনি নামাজে মনোযোগী হতে পারবেন৷  

প্রবৃত্তির/শয়তানের অনুসরণ থেকে বিরত থাকুন৷ প্রবৃত্তির অনুসরণ করা, মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর, প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা একজন মানুষের উপর ফরয এবং তাকে প্রতিহত করা একজন মানুষের সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আবু হাযেম রহ. বলেন, তুমি তোমার দুশমনের সাথে যেভাবে যুদ্ধ কর, তার চেয়ে আরও বেশি যুদ্ধ কর তোমার প্রবৃত্তির সাথে। হুলিয়্যাতুল আওলিয়াহ ২৩১/৩ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অক্ষম সে ব্যক্তি যে তার নফসকে তার প্রবৃত্তির অনুসারী বানায়” ইবনে মাযাহ: ৪২৬০ হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন। এ হাদিসে যে ব্যক্তি নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তাকে অক্ষম বলা হয়েছে। বাস্তবে সে যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সে যখন তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না তার চেয়ে দূর্বল ব্যক্তি দুনিয়াতে আর কেউ হতেই পারে না। আজ আমরা অনেকেই নিজেদের এই অবস্থানে দূর্বলতার পরিচয় দিচ্ছি। ফলে অধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে থাকি। আমাদের মন শতদিকে শতভাবে বিচরন করতেই থাকে। এই মনকে একান্তে প্রশ্ন করে করে যদি এগুনো যায়, তাহলে নিজের কাছেই প্রবৃত্তির আসল রুপ ধরা পরে যাবে, ফলে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে কোন পথে যাবো। ঈমান একটি কাল্পনিক অবস্থা যা ধরে দেখানো যায় না। তবে অন্তরে এর অবস্থান থাকলে বাস্তব কাজ ও ব্যবহারের সাথে ঈমানের সম্পর্ক টের পাওয়া যায়। এই কাল্পনিক অবস্থার মাধ্যমে বুঝ শক্তিরও প্রকাশ ঘটে। এর কারন হচ্ছে জীবন্ত সত্তা অর্থাৎ মানুষের বিবেকের মাঝে ঈমানের অবস্থান। আর এই অবস্থাকে দিয়েই মুমিন ব্যক্তি পথ চলাকে সিরাতুল মুস্তাকীমের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। আল্লামা ইব্ন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, মানবজাতিকে শুধু তার নফস বা প্রবৃত্তির উপর ভিত্তি করে কখনোই শাস্তি দেয়া হবে না, তাকে শাস্তি দেয়া হবে, প্রবৃত্তি ও নফসের অনুকরণ ও অনুসরণ করার উপর। যখন মানবাত্মা কোন কিছুর আকাঙ্ক্ষা করে, কিন্তু সে তা না করে মানবাত্মাকে তা থেকে বিরত রাখে, তাহলে তাকে কোন প্রকার শাস্তি পেতে হবে না, বরং তার জন্য এ বিরত থাকা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদত ও ইসলামী শরীয়তের নেক আমল বলে পরিগণিত হবে। মাজমুয়ায়ে ফাতওয়া ৬৩৫/১০ এ হল একজন সত্যিকার মুসলিমের অবস্থা। 

সুতরাং -দৃঢ় সংকল্প, পরকালের ভয়,আল্লাহর ভয়ও বিশ্বাস আপনাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি করতে পারে৷

শুনা/পড়া বড় নয়,বিশ্বাস বড় কিছু৷আল্লাহ ও তার রাসুলের কথা বিশ্বাস করা ঈমানের অঙ্গ,সুতরাং -গোনাহের ভয়াবহ আযাবকে ভয় করুন,আর নামজ পড়ুন৷ 


3049 views

Related Questions