4792 views

1 Answers

মানুষের মৃত্যুর পিছনে রয়েছে খুবই জটিল একটি পক্রিয়া।
সংক্ষেপে বলতে গেলে দেহের অত্যাবশ্যক কোষগুলোর মৃত্যু হলেই মানুষ মারা যায়। আর কোষের মৃত্যুর প্রধান কারণ অক্সিজেনের অভাব। কোনো কারণে শ্বাসপ্রশ্বাস বা হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলেই এই অভাব দেখা দেয়। অক্সিজেনের অভাবে ব্রেইন সেল সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্রেইন সেল মারা গেলে দেহের অন্যান্য অঙ্গের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। আর তখনই আমরা কাউকে মৃত বলে ঘোষণা করি।
অক্সিজেনের অভাব ছাড়াও ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ,  টক্সিকেশন (বিষক্রিয়া), ডিহাইড্রেশন (পানির অভাব), হাইপোথার্মিয়া (অতিরিক্ত ঠাণ্ডা) ইত্যাদি কারণে কোষের মৃত্যু হতে পারে।



প্রতিদিন স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের দেহে লক্ষ লক্ষ কোষ মারা যায় এবং একই সাথে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়। কিন্তু পক্রিয়াটি ধীরে ধীরে আমাদের দেহের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কাছে হার মানে। এর কারণ প্রতিবার নতুন কোষ সৃষ্টির সময় আমাদের DNA সূত্রকের প্রান্তে অবস্থিত টেলোমিয়ার ক্যাপ ক্ষয় হয়। এই ক্যাপ অনেকটা হাতে তৈরি দড়ির প্রান্তে দেয়া গিঁটের মতো, এটি না থাকলে পুরো DNA-ই ভেঙ্গে যাবে।
এছাড়াও আমাদের হাত ও পায়ের পেশিকোষ নিজেরা নিজেদের প্রতিরুপ সৃষ্টি করতে পারেনা, ফলে দেহের অন্যান্য স্থানের কোষ এদের ক্ষয় পূরণ করে। 
এরকম আরও কিছু কারণে ধীরেধীরে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দূর্বল হতে থাকে, সম্পূর্ণ এই পক্রিয়াকে বলা হয় Aging. আর এটিই প্রাকৃতিক মৃত্যুর একমাত্র কারণ।


উল্লেখ্য যে, জীনগতভাবে একজন মানুষের জীবনকাল নির্দিষ্ট।জীবনযাপনের ধরণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাভেদে এই সময়সীমা বাড়তেও পারে কমতেও পারে, কিন্তু স্থায়ী হতে পারেনা।
4792 views

Related Questions