ওজন বাড়াতে কি করণীয়?
আমার বয়স 19 বছর, উচ্চতা পাচ ফুট আট ইঞ্চি+ কিন্তু ওজন পঞ্চাশ কেজি বা তার কিছু কম। আমি মোটামুটি রেগুলার এবং স্বাভাবিক পরিমাণ খাবার গ্রহণ করার পরও ওজন বাড়াতে পারছি না।আমি একজন স্বাভাবিক মানুষের থেকেও অনেক কম পরিশ্রম করি(পড়াশোনা আর টুকটাক ব্যায়াম বা খেলাধুলা) । আমি ছয় সাত মাস পর আর্মি তে জয়েন করার চেষ্টা করবো যার জন্য আমার আরো প্রায় 10 কেজি ওজন বাড়াতে হবে।এখন আমি কি করতে পারি? (আমি যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমায়, প্লাস মাইনাস ৮ ঘন্টা)
1 Answers
ওজন বাড়ানোর জন্য সঠিক কিছু নিয়ম মেনে চলুন। নাস্তা করণীয়: দুই বেলার খাবারের মাঝে নাস্তা হিসেবে পুষ্টিকর খাবার যেমন ওটস, পাঁচমিশালি বাদাম, তাজা ফল যেমন- কলা আনারস ইত্যাদি নাস্তা হিসেবে খান। এতে ক্ষুধা মিটবে এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে। যা বাদ দিতে হবে: সবধরনের ‘জাঙ্ক ফুড’ বা চটকদার খাবার যেমন- বার্গার, ভাজাপোড়া ইত্যাদি। এসব খাবারে উচ্চ চর্বি, লবণ, চিনি এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি হয় বলে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি করে পাশাপাশি শরীরে মেদও জমাতে সাহায্য করে। যা শরীরের জন্য ভালো নয়। খাবার খাওয়া করণীয়: শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালরি একবারে গ্রহণ না করে পাঁচ-ছয়বারে খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। দুতিন ঘণ্টা পর পর অল্প পরিমাণে খাবার খান। এতে শরীর তার প্রয়োজনীয় খাবার ও পুষ্টি ঠিক পাবে ও স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। বাদ দিতে হবে যা: কোনো বেলার খাবারই বাদ দেওয়া যাবে না। এটা মৌলবিপাকের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এক বেলায় খাবার বাদ দিয়ে পরের বেলায় খেলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের সম্ভাবনা থাকে। অতিরিক্ত খাবার থেকে প্রাপ্ত ক্যালরি শরীরে জমা থেকে মেদ সৃষ্টি করে। খাবারের ধরণ করণীয়: লাল চাল, ছোলা, অপ্রক্রিয়াজাত শষ্যের রুটি, আলু, ডিম এবং দুধের তৈরি খাবার- এগুলো উচ্চ কার্বোহাইড্রেইট এবং প্রোটিন সম্পন্ন খাবার। এসব খাবার খেলে শরীরে খাদ্য ও পুষ্টির পূরণ হওয়ার পাশাপাশি শরীরের সার্বিক চাহিদা পূরণ হয়। ফলে স্বাস্থ্য স্বাভাবিকভাবেই সুন্দর হবে। যা করা যাবে না: ডায়েট খাবারের উপর খুব বেশি নির্ভর করা যাবে না। 'ডায়েট খাবার'য়ে ব্যবহৃত মিষ্টি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। পানি করণীয়: শরীর আর্দ্র ও বিষাক্ত পদার্থ মুক্ত রাখতে নির্দিষ্ট সময় পর পর পানি পান করুন। যা করা যাবে না: খাবার খাওয়ার আগে অতিরিক্ত পানি পান করা ঠিক নয়। খাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বেশি পরিমাণে পানি পান করলে পেট ভরা মনে হয় ফলে দেহের প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। ব্যায়াম করণীয়: নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। উচ্চ ক্যালরি এবং প্রোটিনজাতীয় খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে হবে। যা করা যাবে না: হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে এমন ব্যায়াম কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। শরীর সুস্থ ও সুন্দর রাখতে ব্যায়াম করা জরুরি।