২০ রাকাত তারাবীর নামাযের সহীহ দলিল সমূহ পেশ করুন।যারা ৮রাকাত তারাবীর কথা বলে আমার মতে তারা মিথ্যাবাদী।আমার ধারনা কি ভুল?? ৮রাকাত তারাবীর দলিলগুলোও দিবেন।
3099 views

3 Answers

8 রাকাত তারাবী এটাই চুড়ান্ত ...যদি রাসুল কে মানতে চান. 8 রাকাতি সহীহ কিয়ামত পর্যন্ত উলটাতে পারবে না?যারা 4G গতিতে তারাবী পরে?কি আশ্চর্য মানুষ?আমি তাদের অবগ্যা করি না তারা আমাদের দিনি ভাই?এটাই বলবো আল্লাহ আপনি তাদের সহীহ পদ দেখান?তারাবী দলিল ::: হযরত আবূ সালামা র. হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞেস করলেন, রমযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর নামায কিরূপ হতো? তিনি বললেন, রমযান ও গায়র রমযানে তিনি এগানো রাকাতের বেশী পড়তেন না। তিনি চার রাকাত পড়তেন। এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে তুমি জিজ্ঞেস করো না। এরপর চার রাকাত পড়তেন। এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে তুমি জিজ্ঞেস করো না। এর পর তিন রাকাত পড়তেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি যে বেতের পড়ার আগেই ঘুমিয়ে পড়েন? তিনি বললেন, আয়েশা! আমার চোখ ঘুমায় বটে, তবে আমার কল্ব জাগ্রত থাকে। (বুখারী, মুসলিম)

3099 views
১. সাহাবায়ে কেরামের ইজমা বা ঐক্যমত
ইমাম ইবনে আব্দুল বার র. লিখেছেন,
অর্থাৎ বিশ রাকাত তারাবীই হযরত উবাই ইবনে কাব রা. থেকে বিশুদ্ধরূপে প্রমাণিত। সাহাবীগণের এক্ষেত্রে কোন দ্বিমত ছিল না। (আল ইসতিযকার , ৫খ, ১৫৭পৃ)
ইমাম ইবনে কুদামা র. আল মুগনী গ্রন্থে বিশ রাকাতকে দলিল দ্বারা সুপ্রমাণিত করে বলেছেন,

অর্থাৎ উমর রা. যা করেছেন এবং তাঁর আমলে সাহাবীগণ যে বিষয়ে একমত হয়েছেন সেটাই অনুসরণের অধিক উপযুক্ত। (দ্র, ২খ, ৬০৪পৃ)
আল্লামা ইবনে তায়মিয়া র. বলেছেন, 
অর্থাৎ একথা প্রমাণিত যে, উবাই ইবনে কাব রা. রমযানে তারাবীতে লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত পড়তেন। এবং তিন রাকাত বেতের পড়তেন। তাই বহু আলেমের সিদ্ধান্ত এটাই সুন্নত। কেননা তিনি মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের উপস্থিতিতেই তা আদায় করেছিলেন। কেউ তাতে আপত্তি করেননি। (মাজমূউল ফাতাওয়া, ২৩খ, ১১২-১৩পৃ)
আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী র. তার ‘আলমিনহাজ’ গ্রন্থে লিখেছেন,
অর্থাৎ তারাবী রমযানের প্রত্যেক রাতেই বিশ রাকাত করে। বিশ রাকাতের নির্ণয়ণ একটি দুর্বল হাদীসে আসলেও সাহাবীগণ এর উপর সকলে একমত হয়েছিলেন। ( দ্র, পৃ ২৪০)
3099 views

২০ রাক‘আত তারাবীহ সালাতের পক্ষে দলীল

(ক) বিতর ছাড়া ২০ রাক‘আত তারাবীহ সালাতের পক্ষে দলীল হল মুসান্নাফে আঃ রায্যাক হতে বর্ণিত ৭৭৩০ নং হাদীস, যেখানে বর্ণিত হয়েছে :

أَنَّ عُمَرَ جَمَعَ النَّاسَ فِي رَمَضَانَ عَلَى أُبَي بنِ كَعَبٍ وَعَلَى تَمِيْمِ الدَّارِيْ عَلَى إِحْدى وَعِشْرِيْنَ مِنْ رَكْعَةِ يَقْرَؤُنَ بِالْمَئِيين

উমার (রাযি.) রমযানে উবাই ইবনে কাব ও তামীম আদদারীকে ইমামতিতে লোকদেরকে একুশ রাকআত সালাতের প্রতি জামাআতবদ্ধ করেছিলেন। (অর্থাৎ তারাবীহ ২০ ও বিতর ১ রাকআত)

(খ) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেছেন যে,

كَانَتْ صَلاَةُ النَّبِيِّ -صلى الله عليه وسلم- ثَلاَثَ عَشَرَةَ رَكْعَةً يَعْنِيْ مِنَ اللَّيْلِ

‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র রাতের সালাত ছিল ১৩ রাক‘আত।’’ (বুখারী : ১১৩৮; মুসলিম : ৭৬৪)

(গ) মা আয়িশাহ  (রাঃ) বলেন,

مَا كَانَ يَزِيْدُ فِيْ رَمَضَانَ وَلاَ غَيْرِهِ عَلَى إِحْدى عَشَرَةَ رَكْعَةً

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ও অন্য সময়ে (রাতে) ১১ রাকআতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। (বুখারী : ২০১৩; মুসলিম : ৭৩৮) অর্থাৎ তারাবীহ ৮ রাকাআত এবং বিতর ৩ রাকাআত।

(ঘ) ইবনে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

أَمَرَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أُبَيْ بْنِ كَعَبٍ وَتَمِيْمَا الدَّارِيِّ أَن يَّقُوْمَ لِلنَّاسِ بِإحْدى عَشَرَةَ رَكْعَةٍ

‘উমার ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু (তার দুই সঙ্গী সাহাবী) উবাই ইবনে কাব তামীম আদদারীকে এ মর্মে নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন লোকদেরকে নিয়ে (রমযানের রাতে) ১১ রাকআত কিয়ামুল্লাইল (অর্থাৎ তারাবীহর সালাত) আদায় করে। (মুয়াত্তা মালেক : ১/১১৫)

উল্লেখ্য যে, সৌদী আরবের মসজিদগুলোতে তারাবীহ ও বিতর মিলে ১১ বা ১৩ রাকআত পড়লেও মাক্কার হারামে ও মাদ্বীনার মসজিদে নববীতে তারাবীহ ২০ এবং বিতর ৩ মিলিয়ে মোট ২৩ রাকআত পড়ে থাকে।

মূলত তারাবির মূল বিষয় লম্বা কিয়ামে সালাত আদায় করা অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে আদায় করা। রাসুল (সাঃ) এর ৮ রাকাত শেষ করতে প্রায় ফজর হয়ে যেত। বর্তমানে আমাদের উপমহাদেশে এই সালাতের রাকাত সংখ্যা নিয়ে প্রচুর বিরোধ দেখা যায় এমনকি এটা নিয়ে বিভিন্ন দলে উপদলেও মানুষ বিভক্ত হয়ে যায় এবং কোথাও বা বিবাদে লিপ্ত হতে দেখা যায়। মূল বিষয় হচ্ছে আপনি ইমামের সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিয়াম করবেন তা ৮ রাকাত হোক বা ২০ রাকাত হোক। রাকাতের সংখ্যা নিয়ে নিজেদের ভিতরে বিভেদ সৃষ্টির কোন অবকাশ নেই কেননা রাসুল (সাঃ) রাকাতের সংখ্যা ফিক্সড করে দেন নাই বরং তা উন্মুক্ত। আপনি যদি একাকী ঘরে আদায় করেন তো ২ রাকাত ২ রাকাত করে যত রাকাত খুশি আদায় করতে পারেন আর শেষ করতে চাইলে ১ রাকাত বিতর আদায় করে নিবেন (বিতর ১, ৩, ৫ বা ৭, ৯ রাকাত দিয়ে আদায় করা যায়)। তবে আমাদের দেশে দ্রুতবেগে কিরাত করে যেভাবে তারাবী আদায় করা হয় তা কোন ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং সুন্নাতের বরখেলাপ। সূরা কিরাত হতে হবে স্বাভাবিক গতিতে, ১ ঘণ্টায় ২০ রাকাত আদায় করা থেকে ১ ঘণ্টায় ৮ রাকাত উত্তম তেমনি ১ ঘণ্টায় ৮ রাকাত থেকে দেড় ঘণ্টার ২০ রাকাত উত্তম। মূল বিষয় কত সময় এবং কত সুন্দর ভাবে আপনি এই সালাত আদায় করেছেন এটাই মুখ্য, রাকাতের সংখ্যা মুখ্য নয়।

3099 views

Related Questions