1 Answers
কম্পিউটার ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশের সমষ্টি যা বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যমে ও সফটওয়্যার এর সহায়তা নিয়ে সচল করা হয় এবং চাহিদা অনুসারে ব্যবহার করা হয়।
কম্পিউটার বর্তমান অবস্থায় একবারে আসেনি। এটি বিভিন্ন ধাপ বা পর্যায়ে অতিক্রম করে এসেছে। এই এক একটি ধাপ বা পর্যায়কে এক একটি প্রজন্ম বা জেনারেশন বলে। প্রতিটি প্রজন্ম পরিবর্তনের সময় কিছু নতুন বৈশিষ্ট সংযোজিত হয় এবং পুরনো বৈশিষ্ট্যগুলোর বিলুপ্তি ঘটে। কম্পিউটারকে প্রজন্ম হিসেবে ভাগ করার প্রথা চালু হয় IBM কোম্পানির একটি বিজ্ঞাপন থেকে। এ প্রজন্ম বিন্যাস নিয়ে মতান্তর আছে। তবে ভালব, আসি-সি, ট্রানজিস্টর, মাইক্রোপ্রসেসর ইত্যাদি এক একটি প্রজন্ম নির্দেশ করে।
আধুনিক কম্পিউটারের ধারণা উপস্থাপন করেন কেমব্রিজ বিশ্বদ্যালয়েয়র স্নাতক এবং পরবর্তীতে গণিতের লুকাসিয়ান অধ্যাপক স্যার র্চালস ব্যাবেজ ১৮৩৮ সালে। এজন্য তাকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়। কিন্তু তার সময়ে উপযুক্ত অন্যান প্রযুক্তি না থাকায় তিনি তার প্রস্তাবিত গণনাযন্ত্র পরিপূর্ণভাবে প্রদর্শন করতে পারেনি।
র্চালস ব্যাবেজের ধারণার প্রতিফলন ঘটিয়ে ১৯৪৪ সালে হাওয়ার্ড একিনের নেতৃত্বে মার্ক-১ Mark-1 নামের ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার আবিষ্কার হয়। এই কম্পিউটারটি তৈরিতে কাজ করেছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বিখ্যাত আইবিএম কোম্পনির একদল বিজ্ঞানী।
কম্পিউটারের যে ভাবে কাজ করে থাকে-
সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য ব্যবহারকারী কর্তৃক তৈরি প্রোগ্রাম (Programs) কম্পিউটার গ্রহণ করে মেমোরিতে সংরক্ষণ করে এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশে কম্পিউটার প্রোগ্রাম নির্বাহ (Execute) করে।
কী-বোর্ড, মাউস, জয়স্টিক, ডিস্ক ইত্যাদির মাধ্যমে কম্পিউটার ডেটা (Data) গ্রহণ করে।
ডেটা প্রসেস (Processor) করে
মনিটর, প্রিন্টার, ডিস্ক ইত্যাদির মাধ্যমে কম্পিউটার ফলাফল প্রকাশ করে ।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার-
১. ওয়ার্ড প্রসেসিং বা লেখা-লেখির কাজে(আমাদের দেশেই মুলত) টাইপ রাইটারের বিকল্প হিসেবে অফিস আদালতে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
২. অফিসের যাবতীয় ব্যবস্থাপনার কাজে আজকাল কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজে।
৪. চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে।
৫. একস্থান থেকে অন্যস্থানে সংবাদ প্রেরণের ক্ষেত্রে।
৬. বিনোদনের ক্ষেত্রে যেমন টিভি দেখা, ভিডিও দেখা ও গান বাজানো, উপস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
৭. যোগাযোগ ব্যবস্থার টিকিট বিক্রি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ট্রন্সপোর্টের ডিরেকশন ও গতি নির্ণয়ের কাজে।
৮. শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের কাজেও কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।
৯. মুদ্রণশিল্পে প্রকাশনামূলক যে কোন কাজে।
১০. আধুনিক সামরিক বাহিনীতে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে ইত্যাদি
মূল কথা হলো আমাদের জীবনের প্রতিক্ষেত্রে আমরা এই প্রযুক্তির সাথে জড়িয়ে পড়েছি।
বর্তমান যুগ কম্পিউটাররের যুগ। আধুনিক সভ্যতায় কম্পিউটারের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমানে কম্পিউটার দিয়ে চিত্ত বিনোদন হতে মহাকাশযান নিয়ন্ত্রন পর্যন্ত সব কিছু করা হচ্ছে। নিম্নে কম্পিউটারের কিছু ব্যবহার উল্লেখ করা হলোঃ
১. অফিসের কাজ : অফিসের যাবতীয় কাজ দ্রুত ও নির্ভূলভাবে কম্পিউটার দ্বারা করা যায়। অফিসের কাজ বন্টন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, চিঠিপত্র লেখা, রেকর্ড সংরক্ষণ, ফাইল রক্ষণাবেক্ষণ, দৈনিক আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ ইত্যাদি কাজ কম্পিউটার দ্বারা করা যায়।
২. ব্যাংকিংয়ের কাজে : আধুনিক উন্নত বিশ্বে প্রতিটি ব্যাংক কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, চেকের হিসাব , ক্রেডিট ও ডেবিটের হিসাব কম্পিউটার দ্বারা করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের চেক জমা দিয়ে অপেক্ষায় থাকার বিরক্তি দূর হচ্ছে। ব্যাংকে কম্পিউটার ব্যবহরের ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকগণ দ্রুত সেবা পাচ্ছেন তেমনি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাজের চাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে। বর্তমানে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দ্রুত জানানো সম্ভব হচ্ছে।
৩. ব্যবসায়-বাণিজ্যের কাজে : ফান্ড ট্রান্সফার, ব্যালেন্স সীট, হিসাবরক্ষণ, পে-রোল, আয়-ব্যয় হিসাব, ইত্যাদি কম্পিউটার দ্বারা দ্রুত সম্ভব।
৪. কল-কারখানার কাজে : কল-কারখানার যাবতীয় কাঁচামাল আমদানির হিসাব, রপ্তানি দ্রব্যের হিসাব, কর্মকর্তা ও শ্রমিক সংখ্যার হিসাব, শ্রমিক কর্মচারীদের মাসিক বেতনের হিসাব, বার্ষিক রিপোর্ট তৈরি ও বার্ষিক বাজেট তৈরি প্রভৃতি কাজ কম্পিউটার দ্বারা করা যায়।
৫. প্রকাশনার কাজে : কম্পিউটার দিয়ে দ্রুত গ্রফিক্স ডিজাইন, মুদ্রণ, গবেষণা রিপোর্ট, বই, চিঠিপত্র ইত্যাদি প্রকাশিত হচ্ছে। যখন কম্পিউটারের ব্যবহার ছিল না, তখন বই প্রকাশ করা ছিল কঠিন, এতে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় হতো।
৬. সংবাদপত্র : কম্পিউটারের মাধ্যমে খুব দ্রুত সংবাদপত্র প্রকাশের বিভিন্ন কাজ করা যায়। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে একটি দেশের প্রতিটি শহর থেকে একই সময় সংবাদপত্র বের করা হচ্ছে।