ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সার্ভিস ‘ইন্টারনেট’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ বিভিন্ন নেটওয়ার্ক একত্র হয়ে পৃথিবীব্যাপী যে নেটওয়ার্ক সিস্টেম তৈরি হয়, তাকেই ‘ইন্টারনেট’ বলে। ব্যবহারকারীরা দুইভাবে ইন্টারনেটের গ্রাহক হতে পারেন। প্রথমটি হলো অনলাইন ইন্টারনেট। টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে সরাসরি কম্পিউটারের ইন্টারনেটের অন্য যেকোনো সার্ভিস প্রভাইডারের সঙ্গে যুক্ত করার পদ্ধতিকে অনলাইন ইন্টারনেট বলা হয়। এতে ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় অন্য যেকোনো প্রভাইডারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। এ ছাড়া IPACCES পদ্ধতিতে সরাসরি অনলাইন ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া যায়। কিন্তু এই পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে সাধারণ গ্রাহক তাতে আগ্রহবোধ করে না। দ্বিতীয় হলো, অফ-লাইন ইন্টারনেট, যা ইমেইল নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকরা নিকটবর্তী কোনো সার্ভারকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে বলেই এটাকে অফ-লাইন ইন্টারনেট বা ইমেইল বলা হয়। এই পদ্ধতিতে গ্রাহকরা কম খরচে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান করতে পারেন। ইন্টারনেট উদ্ভাবনের প্রধান কারণ ছিল সামরিক। মার্কিন সামরিক সংস্থা বিশ্বব্যাপী নিজেদের অবস্থানগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক গোপন যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য ১৯৬৯ সালে প্রথম ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু করে। তখন এটি পরিচিত ছিল MILNET নামে। ১৯৮৪ সালে যু্ক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ‘নেস্ফেনেট’ নামে সর্বসাধারণের জন্য অন্য রকম একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করে। তখন তা ছিল শুধু গবেষণার কাজে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যম। তিন বছরের মধ্যে ‘নেস্ফেনেট’ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৩ সালে ইন্টারনেটকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বর্তমানে সারা বিশ্বে কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে ২০ হাজারেরও বেশি নেটওয়ার্ক যুক্ত হয়েছে। আর এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটিরও বেশি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে নানা রকম সুবিধা পাওয়া যায়। ইন্টারনেটে নিউজগ্রুপ ব্যবহার করে বিশ্বের খবরাখবর জানা যায়। লেখা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো যথার্থ বই। শুধু ইন্টারনেটের মাধ্যমেই বিশ্বের যেকোনো লাইব্রেরির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে দুষ্প্রাপ্য তথ্যাদি জানা যায়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক লেনদেন, জটিল মামলাবিষয়ক পরামর্শ পেতে বিদেশের আইনজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য বিদেশে না গিয়ে ঘরে বসেই পরামর্শ লাভ করা যায়। অফিসের হাজারো ফাইলের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় ফাইলটি অঐঈও পদ্ধতির মাধ্যমে খুঁজে বের করা যায়। এর সুবাদে ঘরে বসেই উন্নত চিকিৎসা, রান্না শেখা, ফ্যাশন সম্পর্কে জানা, এমনকি বিয়ের সম্পর্কও করা যায়। বাংলাদেশও এ তথ্য- প্রযুক্তির জিয়নকাঠির স্পর্শে ধীরে ধীরে জেগে উঠেছে। বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর পথে তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিপ্লব সাধিত হবে বলে আশা করা যায়। তার পরও ইন্টারনেটের কিছু খারাপ দিক রয়েছে। এর মাধ্যমে অসাধু ব্যবহারকারী বা ভোক্তা মিথ্যা তথ্য প্রদান, পর্নোগ্রাফির চিত্র আদান-প্রদান, কিংবা জুয়াখেলার মতো অনুচিত কাজ করে থাকে। কেউ কেউ কম্পিউটারে ভাইরাস তৈরি করে তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের লাখ লাখ কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই নেতিবাচক দিক বাদ দিলে ইন্টারনেট সারা বিশ্বে সেতুবন্ধন রচনা করে তথ্য- প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে নতুন দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে, তা মানুষের সময় ও দূরত্বকে কমিয়ে এনেছে। তথ্যসূত্র :কালের কন্ঠ