আমার বয়ষ ২৫ ও উচ্চতা ৫.৫ কিন্তু আমার ওজন মাত্র ৪৩ কেজি ওজন বাড়ানো এবং মোটা হওয়ার জন্য কি করব, দয়া করে জানাবেন ! 

কি করলে খাবারের রুচি বাড়বে !

2960 views

1 Answers

আপনার উচ্চতা যেহেতু ৫’৫” তাহলে আপনার ওজন হওয়া উচিত ৫৫-৬৮ কেজি তাহলে আপনাকে ফিট দেখাবে।ওজন বাড়াতে সহায়ক কিছু ঘরোয়া উপায় : কিশমিশ ও শুকনো ডুমুর ফল কিশমিশ ও শুকনো ডুমুর ফল উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন। ৬টি শুকনো ডুমুর ফল এবং ৩০ গ্রাম কিশমিশ পানি বা দুধে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সেই পানিসহ ফল গুলো দুইবারে খাবেন। ২০-৩০ দিনের মাঝে ভালো উপকার পাবেন। ঘি আর চিনির মিশ্রণ ১ টেবিল চামচ ঘি এবং ১ টেবিল চামচ চিনি মিশিয়ে প্রতিবেলা খাবার আধা ঘণ্টা আগে খালি পেটে খান। এক মাস খাবার পরেই লক্ষণীয় পরিবর্তন চোখে পড়বে। পিনাট বাটার পিনাট বাটারে রয়েছে অনেক বেশি ক্যালরি। তাই এটাও হতে পারে ওজন বাড়ানোর চমৎকার একটি উপায়। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পিনাট বাটার রাখুন। আলু প্রচুর শর্করাতে ভরপুর আলু। তাই নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় নিয়মিত আলু খেলে ওজন বাড়বেই। আলু তরকারিতে দিয়ে, ভাজি করে, গ্রীল করে বাটার মিশিয়ে বা ভালো মানের তেল দিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই করে নিয়মিত খান। তাজা ও শুকনো ফল এবং বাদাম – দুধের সাথে খেজুর, বাদাম, বাঙ্গি, আম ইত্যাদি খাওয়ার পরিমান বাড়াতে পারে। এগুলো দুধ ছাড়া শুধু শুধুও খেতে পারেন। – দিনে ২-৩ বার বাঙ্গি খান ৩০-৪০ দিন একটানা – ২ টি কাঠবাদাম, ২টি খেজুর, ১টি শুকনো ডুমুর ফল দুধের মাঝে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে দুধসহ সেইগুলো একটানা ৩০-৪০ খেলে বেশ ভালো উপকার পাবেন। – খাবার তালিকায় নিয়মিত বিভিন্ন ডেজার্ট যেমন কিশমিশ ও শুকনো ফল দেয়া গাজরের হালুয়া, ক্ষীর, সেমাই রাখুন। ফলের জুস প্রতিদিনের খাবার তালিকায় উচ্চ কালরিযুক্ত ফলের জুস রাখুন যেমন আম, আঙ্গুর ইত্যাদি। এসব ফলের জুস দেহের ওজন বাড়াতে স্বাস্থ্যকর ক্যালরি প্রদান করবে। কলা ও দুধ কলা ওজন বাড়ানোর জন্য চমৎকার একটি খাবার। প্রতিদিন ১-২টি পাকা কলা ও সাথে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন নাস্তায়। এছাড়া প্রতিবার ভারী খাবার খাওয়ার পর একটি কলা খেতে পারেন যা হজমক্রিয়াকে উন্নত করে। এছাড়া কলা আর দুধ দিয়ে কলার শেক বানিয়েও খেতে পারেন। দুগ্ধ জাতীয় খাবার দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার যেমন দুধ, মিষ্টি দই, পনির ইত্যাদি খাওয়ার পরিমান বাড়িয়ে দিন। তবে অবশ্যই কোনো কিছু অতিরিক্ত মাত্রায় খাবেন না। কারন আর ফলে বদজমের, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদির ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাটার এবং ঘি নিয়মিত খান। পানি প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন। দেহের কোনো পরিবর্তন চাইলে দেহকে আর্দ্র রাখা খুবই জরুরি। মাছ এবং মুরগিসহ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান যেসব খাবার উচ্চ ক্যালরি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ সেসব খাবার খান। মাছ, মুরগি এগুলো প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখুন। খেতে পেরেন টুনা মাছও। নুডুলস ও পাস্তা আজকাল অনেকেরই নুডুলস ও পাস্তা খুব পছন্দের। সহজে রান্না করার পাশা পাশি রান্নার সময় ও বাঁচায়। তাই বেশি করে সবজি ও মুরগির মাংস দিয়ে রান্না করুন নুডুলস ও পাস্তা যা হবে উচ্চ ক্যালরির এবং সেই সাথে পুষ্টিকর খাবার। কারন নুডুলস ও পাস্তাতে রয়েছে অনেক শর্করা এবং এর সাথে সবজি ও মুরগির মাংস দিলে তা থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ, পুষ্টি উপাদান এবং প্রোটিন পাওয়া যায়। একসাথে বেশি খাবার নয় যাদের ওজন কম তাদের মাঝে অনেকেই আছেন বেশি খেতে পারেন না। তাই একসাথে বেশি খাবার প্রয়োজন ও নেই। তাই কম কম করে খান ২-৩ ঘণ্টা পর পর। ফল, জুস, সালাদ ইত্যাদিও খান। অনেকেই ভেবে থাকেন ওজন বাড়াতে তেল মশলার ভারী খাবার খেতে হবে। সেই ধারনা ঠিক না। চিপস, তৈলাক্ত নাস্তা, জাঙ্ক ফুড, গ্যাস ড্রিঙ্কস ও না খাওয়াই ভালো। খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার স্বাস্থ্যকর উপায়ে। পর্যাপ্ত ঘুম যদি সম্ভব হয় দুপুরে ৩০মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ঘুমান। রাতে দেরি না করে আগে ঘুমিয়ে পড়ুন। এবং দিনে কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। নিয়মিত ব্যায়াম করুন ক্ষুধা বাড়াতে এবং শরীরকে ফিট রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করুন। অনেকেই হয়তো ভাবেন ওজন বাড়াতে হয়তো কোন ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ব্যায়াম আসলে প্রয়োজন শরীরকে ফিট রাখতে। হাঁটতে পারেন বা জগিং বা ওয়েট নিয়ে ব্যায়াম করতে পারেন। এছাড়া সাঁতার কাটতে পারেন, ইয়োগা করতে পারেন বা যেকোনো আউটডোর খেলায় অংশগ্রহন করতে পারেন। দেহের ওজন বাড়াতে খাবার তালিকায় এমন খাবার রাখতে হবে যেগুলো উচ্চ ক্যালরিযুক্ত। কিন্তু এই বাড়তি ক্যালরিগুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে নিতে হবে।যে খাবার গুলো প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ সেই খাবার গুলোই খাবার তালিকায় রাখতে হবে।এই খাবারগুলো আপনার দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে এবং ওজন বৃদ্ধির জন্য আপনার দেহকে তৈরি করবে এবং শারীরিক ব্যায়াম আপনার শরীরের সুস্থতা নিশ্চিত করবে। ##রুচি বাড়ানোর কিছু উপযোগী উপায়: আদা: আদার নির্যাস খাবারে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক তেল হজম প্রক্রিয়ার সময় উৎপন্ন গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। গরম পানিতে আধা চামচ আদার রস মিশিয়ে পান করুন দিনে দুবার। এছাড়া রান্নায় আদার ব্যবহারও সমানভাবে উপকারী। ফল ও সবজি: আপেল, পেয়ারা, কমলা, আঙুর ইত্যাদি ফল ক্ষুদা বাড়াতে সহায়ক। অন্যদিকে টমেটো, ধনেপাতা, ব্রোকোলি ইত্যাদি সবজি হজমে সহায়ক। এই ফল ও সবজিগুলো হজমে সহায়ক এনজাইম নিঃসরণে সহায়তা করে। তাই ক্ষুদা মন্দা দূর করতে খাদ্যতালিকায় প্রচুর সবজি ও ফল রাখা উচিত। পানীয় গ্রহণ কমান: যারা ক্ষুদা মন্দায় ভুগছেন তাদের উচিত খাবার খাওয়ার সময় পানি, চা, কফি বা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা। কারণ অতিরিক্ত পানীয় গ্রহণের ফলে পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে। ফলে খাবারে অরুচি আসতে পারে। নিয়মমাফিক খান: নিয়ম মেনে চললে শরীরকে কার্যক্ষম রাখতে সাহায্য করে। সময় মতো ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠা, ব্যায়াম করা, সময় মেনে খাওয়া এবং সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীর স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। আর এভাবে নিয়ম মেনে চললে অরুচি হওয়ার সমস্যাও কমে আসবে।

2960 views

Related Questions