কোন মেয়ের পেটে থেকেই তো কন্যা সন্তানটি হয়েছে তাহলে সেই মেয়ে কিভাবে জীবিত থাকত।

আমার প্রশ্নটি হলোঃ কন্যা সন্তানটি তো কোনো মেয়ের পেট থেকেই হয়েছে। তাহলে সেই মেয়েটি কিভাবে বাঁচলো।

1697 views

1 Answers

ইসলামের পূর্বে নারী জাতি ছিল পুরুষদের ভোগের সামগ্রী। পুরুষরা তাদের বিয়ে মেলামেশা ঠিকই করত। শুধু কন্যা সন্তান হলেই মুখ কালো হয়ে যেত।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে না, তাকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট। (সুরা নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)।

ইসলামের পূর্বে কোন ধর্মে মেয়ে সন্তান লালন পালনের জন্য ধর্মের পক্ষ থেকে উৎসাহিত করা হত না। বরং কোন পরিবারে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে, লজ্জায় ঘৃণায় পিতা কাউকে চেহারা দেখাত না। অনেকেই জন্মের পর পরই কন্যা সন্তানকে হত্যা করত। কেউ কেউ কন্যা সন্তানকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে কবর দিত। যদি কেউ অপমান সহ্য করে কন্যাসন্তানকে জীবিত রাখার ইচ্ছা পোষণ করত, তাহলে একটি পশমি জামা পরিয়ে তাকে পশু চরানোর জন্য চারণভূমিতে পাঠিয়ে দিত।

যার প্রতিরোধে আল্লাহ তাআলা কোরআন পাকে ইরশাদ করেছেন, যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যা সন্তানকে জিজ্ঞেসা করা হবে, কী অপরাধে তোমাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল? (সুরা আততাকভির, আয়াত : ৮-৯)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কন্যা সন্তানটি তো কোনো মেয়ের পেট থেকেই হয়েছে তাহলে সেই মেয়েটি কিভাবে কিভাবে জীবিত থাকত?

☞ প্রথমত জাহিলিয়াতের যুগে সবাই কন্যা সন্তান হত্যা করত না। সে সময়েও কিছু ভাল লোক ছিল।

☞ যারা কন্যা সন্তান হত্যা করত তাদের মধ্যেও অনেক লোক ছিল যারা অপমান সহ্য করে কন্যা সন্তানকে জীবিত রাখত।

আর এভাবে বেঁচে যাওয়া কন্যা সন্তানগুলি কারো স্ত্রী, কারো, মা, কারো বোন হয়ে জীবিত থাকত।


1697 views

Related Questions