ওয়াখতিলা-ফিল্লাইলি ওয়া ন্নাহা-রি ওয়ামাআনঝালাল্লা-হু মিনাছ ছামাই মির রিঝকিন ফাআহইয়া- বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ওয়া তাসরীফির রিয়া-হি আ-য়া-তুল লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।
আর রাত ও দিনের বিবর্তনে, আর আল্লাহ্ আকাশ থেকে জীবনোপকরণের মধ্যের যা-কিছু পাঠান ও যার দ্বারা পৃথিবীকে সঞ্জীবিত করেন তার মৃত্যুর পরে, আর বায়ু প্রবাহের পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা জ্ঞান-বুদ্ধি রাখে।
তিলকা আ-য়া-তুল্লা-হি নাতলূহা-‘আলাইকা বিলহাক্কিফাবিআইয়ি হাদীছিম বা‘দাল্লা-হি ওয়া আ-য়া-তিহী ইউ’মিনূন।
এইসব হচ্ছে আল্লাহ্র নির্দেশাবলী যা আমরা তোমার কাছে আবৃত্তি করছি যথাযথভাবে, সুতরাং আল্লাহ্ ও তাঁর নির্দেশাবলীর পরে কোন ধর্মোপদেশে তারা বিশ্বাস করবে?
ইয়াছমা‘উ আ-য়া-তিল্লা-হি তুতলা-‘আলাইহি ছুম্মা ইউসিররু মুছতাকবিরন কাআল্লাম ইয়াছমা‘হা- ফাবাশশিরহু বি‘আযা-বিন আলীম।
যে আল্লাহ্র বাণীসমূহ তার কাছে পঠিত হতে শোনে, তারপর সে অহংকারের মধ্যে অটল থাকে যেন সে সে-সব শোনেই নি। সেজন্য তাকে সুসংবাদ দাও মর্মন্তুদ শাস্তির।
ওয়া ইযা-‘আলিমা মিন আ-য়া-তিনা-শাইআনিত্তাখাযাহা-হুঝুওয়া- উলাইকা লাহুম ‘আযা-বুম মুহীন।
আর যখন সে আমাদের বাণীগুলো থেকে কোনো কিছু জানতে পারে সে সে-সবকে তামাশা ব’লে গ্রহণ করে। এরাই -- এদেরই জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
মিওঁ ওয়ারইহিম জাহান্নামু ওয়ালা-ইউগনী ‘আনহুম মা-কাছাবূশাইআওঁ ওয়ালামাত্তাখাযূমিন দূ নিল্লা-হি আওলিয়াআ ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন ‘আজীম।
তাদের সামনের দিকে রয়েছে জাহান্নাম, আর তারা যা অর্জন করেছে তা তাদেরকে কোনোভাবেই লাভবান করবে না, আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে যাদের তারা অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছিল তারাও না, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
আল্লা-হুল্লাযী ছাখখার লাকুমুল বাহর লিতাজরিয়াল ফুলকুফীহি বিআমরিহী ওয়ালিতাবতাগূ মিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।
আল্লাহ্ই তিনি যিনি সমুদ্রকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তাঁর বিধান অনুযায়ী জাহাজগুলো তাতে চলতে পারে, আর যেন তোমরা তাঁর করুণাভান্ডার থেকে অনুসন্ধান করতে পার, আর তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।
ওয়া ছাখখার লাকুম মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিজামী‘আম মিনহু ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিলিলকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।
আর তিনি তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন মহাকাশমন্ডলীতে যা-কিছু আছে আর যা-কিছু রয়েছে পৃথিবীতে, -- এ সমস্ত তাঁর কাছ থেকে। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা চিন্তা করে।
কুল লিল্লাযীনা আ-মানূইয়াগফিরূলিল্লাযীনা লা-ইয়ারজূনা আইয়া-মাল্লা-হি লিইয়াজঝিয়া কাওমাম বিমা-ক-নূইয়াকছিবূন।
যারা বিশ্বাস করে তাদের তুমি বলো যে তারা ক্ষমা করুক তাদের যারা আল্লাহ্র দিনগুলোর প্রত্যাশা করে না, এই জন্য যে তিনি লোকদের যেন প্রতিদান দিতে পারেন যা তারা অর্জন করছিল সেজন্য।
মান ‘আমিলা সা-লিহান ফালিনাফছিহী ওয়ামান আছাআ ফা‘আলাইহা- ছু ম্মা ইলা-রব্বিকুম তুর জা‘ঊন।
যে কেউ সৎকর্ম করে তা তবে তার নিজের জন্যে, আর যে মন্দ করে তা তবে তারই বিরুদ্ধে, তারপর তোমাদের প্রভুর তরফেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-বানীইছরঈলাল কিতা-বা ওয়াল হুকমা ওয়ান নুবুওওয়াতা ওয়া রঝাকনা-হুম মিনাত্তাইয়িবা-তি ওয়া ফাদ্দালনা-হুম ‘আলাল ‘আ-লামীন।
আর আমরা অবশ্য ইসরাইলের বংশধরদের দিয়েইছিলাম গ্রন্থ ও জ্ঞান-বিজ্ঞান ও পয়গন্বরত্ব, আর আমরা তাদের জীবিকা দিয়েছিলাম উত্তম জিনিস থেকে, আর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম জনগণের উপরে।
ওয়া আ-তাইনা-হুম বাইয়িনা-তিম মিনাল আমরি ফামাখ তালাফূইল্লা-মিম বা‘দি মাজাআহুমুল ‘ইলমু বাগইয়াম বাইনাহুম ইন্না রব্বাকা ইয়াকদী বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা-ক-নূফীহি ইয়াখতালিফূন।
আর আমরা তাদের দিয়েছিলাম বিষয়টি সন্বন্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী, কিন্ত তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরেও তারা মতভেদ করে নি নিজেদের মধ্যে ঈর্ষা বিদ্বেষ ব্যতীত। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু তাদের মধ্যে কিয়ামতের দিনে বিচার-মীমাংসা করে দেবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত সে-সন্বন্ধে।
ছু ম্মা জা‘আল না-কা ‘আলা- শারী‘আতিম মিনাল আমরি ফাত্তাবি‘হা- ওয়ালা-তাত্তাবি‘ আহওয়াআল্লাযীনা লা-ইয়া‘লামূন।
এরপর আমরা তোমাকে ব্যাপারটিতে এক সংবিধানের উপরে প্রতিষ্ঠিত করেছি, কাজেই তুমি তা অনুসরণ করো, আর তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ কর না যারা জানে না।
ইন্নাহুম লাইঁ ইউগনূ‘আনকা মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া ইন্নাজ্জা-লিমীনা বা‘দুহুম আওলিয়াউ বা‘দিওঁ ওয়াল্লা-হু ওয়ালিইয়ুল মুত্তাকীন।
নিঃসন্দেহ তারা আল্লাহ্র কাছ থেকে কোনো কিছুতেই তোমাকে আদৌ লাভবান করবে না। আর আলবৎ অন্যায়াচারীরা -- তাদের কেউ-কেউ অপর কারোর বন্ধু, আর আল্লাহ্ হচ্ছেন ধর্মভীরু-দের বান্ধব।
আম হাছিবাল্লাযীনাজ তারহুছ ছাইয়িআ-তি আন নাজ‘আলাহুম কাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ছাওয়াআম মাহইয়া-হুম ওয়া মামা-তুহুম ছাআমাইয়াহকুমূন।
যারা দুস্কর্ম করেছে তারা কি ভাবে যে আমরা তাদের বানিয়ে দেব তাদের মতো যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে -- তাদের জীবন ও তাদের মরণ কি এক সমান? কত নিকৃষ্ট যা তারা সিদ্ধান্ত করে!
ওয়া খালাকাল্লা-হুছ ছামা-ওয়াতি ওয়াল আরদাবিলহাক্কি ওয়া লিতুজঝা-কুল্লুনাফছিম বিমা-কাছাবাত ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।
আর আল্লাহ্ মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন সত্যের সাথে, আর যাতে প্রত্যেক সত্ত্বাকে প্রতিফল দেওয়া হয় সে যা অর্জন করেছে তাই দিয়ে, আর তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।
আফারআইতা মানিত্তাখাযা ইলা-হাহূহাওয়া-হু ওয়া আদাল্লাহুল্লা-হু ‘আলা-‘ইলমিওঁ ওয়াখাতামা ‘আলা-ছাম‘ইহী ওয়া কালবিহী ওয়া জা‘আলা ‘আলা-বাসারিহী গিশা-ওয়াতান ফামাইঁ ইয়াহদীহি মিম বা‘দিল্লা-হি আফালা-তাযাক্কারূন।
তুমি কি তবে তাকে লক্ষ্য করেছ যে তার খেয়াল-খুশিকে তার উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে? আর আল্লাহ্ জেনে-শুনেই তাকে পথভ্রষ্ট হতে দিয়েছেন, আর তিনি মোহর মেরে দিয়েছেন তার শ্রবণেন্দ্রিয়ে ও তার হৃদয়ে, আর তার দর্শনেন্দ্রিয়ের উপরে তিনি বানিয়ে দিয়েছেন একটি পর্দা। কাজেই আল্লাহ্র পরে আর কে তাকে পথ দেখাবে? তবুও কি তোমরা মনোযোগ দেবে না?
ওয়া ক-লূমা-হিয়া ইল্লা-হায়া-তুনাদ্দুনইয়া-নামূতুওয়া নাহইয়া-ওয়ামা-ইউহলিকুনা ইল্লাদ্দাহরু ওয়ামা-লাহুম বিযা-লিকা মিন ‘ইলমিন ইনহুম ইল্লা-ইয়াজু ন্নূন।
আর তারা বলে -- "আমাদের দুনিয়ার জীবন ছাড়া এইটি আর কিছুই নয়, আমরা মরি আর আমরা বেঁচে থাকি, আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না সময় ব্যতীত।" আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তারা অনুমান করছে বৈ তো নয়।
ওয়া ইযা-তুতলা ‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিম মা-ক-না হুজ্জাতাহুম ইল্লা আন ক-লু’তূবিআ-বাইনাইন কুনতুম সা-দিকীন।
আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পাঠ করা হয় তখন তাদের বিতর্ক আর কিছু নয় এ ভিন্ন যে তারা বলে, "আমাদের পূর্বপুরুষদের নিয়ে এস যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"
কুল্লিলা-হু ইউহঈকুম ছু ম্মা ইয়াজমা‘উকুম ইলা-ইয়াওমিল কিয়া-মাতি লা-রইবা ফীহি ওয়ালা-কিন্না আকছারন্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।
তুমি বলো -- "আল্লাহ্ই তোমাদের জীবন দান করেন, তারপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান, তারপর তিনি তোমাদের একত্রিত করবেন কিয়ামতের দিনে -- তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্ত অধিকাংশ লোকেই জানে না।"
ওয়া লিল্লা-হি মুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছছা-‘আতু ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াখছারুল মুবতিলূন।
আর আল্লাহ্রই হচ্ছে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব। আর যেদিন ঘড়িঘন্টা দাঁড়িয়ে যাবে, সেইদিন বাতিল- আখ্যাদানকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ওয়া তার-কুল্লা উম্মাতিন জা-ছিয়াতান কুল্লুউম্মাতিন তুদ ‘আইলা-কিতা-বিহা- আলইয়াওমা তুজঝাওনা মা-কুন তুম তা‘লামূন।
আর তুমি দেখতে পাবে প্রত্যেক সম্প্রদায় নতজানু হতে, প্রত্যেক সম্প্রদায়কে ডাকা হবে তার কিতাবের প্রতি। "আজকের দিনে তোমাদের প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে তোমরা যা করতে তাই দিয়ে।
হা-যা-কিতা-বুনা-ইয়ানতিকু‘আলাইকুম বিলহাক্কি ইন্না-কুন্না-নাছতানছিখুমাকুনতুম তা‘মালূন।
এইটি আমাদের কিতাব যা তোমাদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে বর্ণনা করে। নিঃসন্দেহ আমরা লিপিবদ্ধ করে যাচ্ছি যা তোমরা করে চলেছ।
ফাআম্মাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফাইউদখিলুহুম রব্বুহুম ফী রহমাতিহী যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল মুবীন।
সুতরাং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের প্রভু তাদের প্রবেশ করাবেন তাঁর করুণায়। এইটিই হচ্ছে প্রকাশ্য সাফল্য।
ওয়া আম্মাল্লাযীনা কাফারূ আফালাম তাকুন আ-য়া-তী তুতলা-‘আলাইকুম ফাছতাকবারতুম ওয়া কুনতুম কাওমাম মুজরিমীন।
পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে -- "এমনটা কি নয় যে আমার বাণীসমূহ তোমাদের কাছে পঠিত হয়েছে? কিন্ত তোমরা গর্ববোধ করছিলে, আর তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়।
ওয়া ইযা-কীলা ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়াছছা-‘আতুলা-রইবা ফীহা-কুলতুম মানাদরী মাছ ছা-‘আতু ইন নাজুন্নুইল্লা-জান্নাওঁ ওয়ামা-নাহনুবিমুছতাইকিনীন।
আর যখন বলা হয় -- 'নিঃসন্দেহ আল্লাহ্র ওয়াদা সত্য, আর ঘড়িঘন্টা -- এতে কোনো সন্দেহ নেই’, তোমরা তখন বলে থাক -- 'আমরা জানি না কী সেই ঘড়ি, আমরা বিবেচনা করি কাল্পনিক বৈ তো নয়, আর আমরা আদে সুনিশ্চিত নই’ ।
ওয়া কীলাল ইয়াওমা নানছা-কুম কামা-নাছীতুম লিকাআ ইয়াওমিকুম হা-যা-ওয়ামা’ ওয়া-কুমুন্না-রু ওয়া মা-লাকুম মিন না-সিরীন।
আর বলা হবে -- "আজ আমরা তোমাদের ভুলে থাকব যেমন তোমরা তোমাদের এই দিনটির সাক্ষাৎ পাওয়াকে ভুলে থাকতে, ফলত তোমাদের আশ্রয়স্থল হচ্ছে আগুন, আর তোমাদের জন্য সাহায্যকারীদের কেউ থাকবে না।
যা-লিকুম বিআন্নাকুমুত্তাখাযতুম আ-য়া-তিল্লা-হি হুঝুওয়াওঁ ওয়াগাররতকুমুল হা-য়াতুদ্দুনইয়া- ফালইয়াওমা লা-ইউখরজূনা মিনহা-ওয়ালা-হুম ইউছতা‘তাবূন।
"এইটিই! কেননা তোমরা আল্লাহ্র বাণীসমূহকে তামাশা বলে গণ্য করেছিলে, ফলস্বরূপে এই দুনিয়ার জীবন তোমাদের প্রতারিত করেছিল।" সেজন্য আজকের দিনটায় সেখান থেকে তাদের বের করা হবে না, আর তাদের প্রতি সদয়তাও দেখানো হবে না।