وَتَرَىٰ كُلَّ أُمَّةٖ جَاثِيَةٗۚ كُلُّ أُمَّةٖ تُدۡعَىٰٓ إِلَىٰ كِتَٰبِهَا ٱلۡيَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ مَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ

ওয়া তার-কুল্লা উম্মাতিন জা-ছিয়াতান কুল্লুউম্মাতিন তুদ ‘আইলা-কিতা-বিহা- আলইয়াওমা তুজঝাওনা মা-কুন তুম তা‘লামূন।উচ্চারণ

সে সময় তোমরা প্রত্যেক গোষ্ঠীকে নতজানু দেখতে পাবে। ৪১ প্রত্যেক গোষ্ঠীকে এসে তার আমলনামা দেখার জন্য আহবান জানানো হবে। তাদের বলা হবে, তোমরা যেসব কাজ করে এসেছো তোমাদেরকে তার প্রতিদান দেয়া হবে। তাফহীমুল কুরআন

আর তুমি প্রত্যেক দলকে দেখবে হাঁটু ভেঙ্গে পড়ে আছে #%১১%# এবং প্রত্যেক দলকে তাদের আমলনামার দিকে ডাকা হবে (এবং বলা হবে,) আজ তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্মের বদলা দেওয়া হবে।মুফতী তাকী উসমানী

এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দেখবে ভয়ে নতজানু; প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তার আমলনামার প্রতি আহবান করা হবে, আজ তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে যা তোমরা করতে।মুজিবুর রহমান

আপনি প্রত্যেক উম্মতকে দেখবেন নতজানু অবস্থায়। প্রত্যেক উম্মতকে তাদের আমলনামা দেখতে বলা হবে। তোমরা যা করতে, অদ্য তোমারদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং তুমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দেখবে ভয়ে নতজানু, প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তার আমলনামার প্রতি আহ্বান করা হবে ও বলা হবে, ‘আজ তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেওয়া হবে যা তোমরা করতে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তুমি প্রতিটি জাতিকে দেখবে ভয়ে নতজানু; প্রত্যেক জাতিকে স্বীয় আমলনামার দিকে আহবান করা হবে। (এবং বলা হবে) ‘তোমরা যে আমল করতে আজ তার প্রতিদান দেয়া হবে’।আল-বায়ান

আর প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দেখবে নতজানু হয়ে আছে। প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তার ‘আমালনামার পানে আহবান করা হবে। (আর বলা হবে) তোমরা যা করতে আজ তার প্রতিফল দেয়া হবে।তাইসিরুল

আর তুমি দেখতে পাবে প্রত্যেক সম্প্রদায় নতজানু হতে, প্রত্যেক সম্প্রদায়কে ডাকা হবে তার কিতাবের প্রতি। "আজকের দিনে তোমাদের প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে তোমরা যা করতে তাই দিয়ে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪১

অর্থাৎ সেখানে হাশরের ময়দানের এবং আল্লাহর আদালতের এমন ভীতি সৃষ্টি হবে যে, বড় বড় অহংকারীদের অহংকারও উবে যাবে। সেখানে সবাই অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নতজানু হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কিয়ামতের বিভিন্ন ধাপের মধ্যে একটা ধাপ এমনও আসবে যে, তার বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখে মানুষ অবচেতনভাবে হাঁটু ভেঙ্গে পড়ে যাবে বা বসে পড়বে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৮. আর আপনি প্রত্যেক জাতিকে দেখবেন ভয়ে নতজানু(১), প্রত্যেক জাতিকে তার কিতাবের(২) প্রতি ডাকা হবে, (এবং বলা হবে) আজ তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে যা তোমরা আমল করতে।

(১) جَاثِيَة এর অর্থ নতজানু হয়ে বসা। ভয়ের কারণে এভাবে বসবে। (كُلَّ أُمَّةٍ) (প্ৰত্যেক দল) শব্দ থেকে বাহ্যতঃ বোঝা যায় যে, মুমিন, কাফের, সৎ ও অসৎ নির্বিশেষে সকলেই হাশরের ময়দানে ভয়ে নতজানু হয়ে বসবে। সেখানে হাশরের ময়দানের এবং আল্লাহর আদালতের এমন ভীতি সৃষ্টি হবে যে, বড় বড় অহংকারীদের অহংকারও উবে যাবে। সেখানে সবাই অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নতজানু হবে। কোন কোন আয়াত ও বর্ণনায় রয়েছে যে, হাশরের ময়দানে নবী-রাসূল ও সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ ভীত হবেন না। এটা আলোচ্য আয়াতের পরিপন্থী নয়; কেননা, অল্প কিছুক্ষণের জন্যে এই ভয় ও ত্রাস নবী-রাসূল ও সৎ লোকদের মধ্যেও দেখা দেয়া সম্ভবপর। কিন্তু যেহেতু খুব অল্প সময়ের জন্যে এই ভয় দেখা দেবে, তাই একে না হওয়ার পর্যায়ে রেখে দেয়া হয়েছে। আবার এটাও সম্ভবপর যে, প্রত্যেক দল বলে অধিকাংশ হাশরবাসী বোঝানো হয়েছে। তাছাড়া كل শব্দটি মাঝে মাঝে অধিকাংশের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। (দেখুন: ইবনে কাসীর, কুরতুবী সা’দী)

(২) অধিকাংশ তফসীরবিদের মতে এখানে কিতাব অর্থ দুনিয়াতে ফেরেশতাগণের লিখিত আমলনামা। হাশরের ময়দানে এসব আমলনামা উড়ানো হবে এবং প্রত্যেকের আমলনামা তার হাতে পৌঁছে যাবে। তাকে বলা হবে, তুমি তোমার আমলনামা পাঠ কর এবং নিজেই হিসাব কর কি প্রতিফল তোমার পাওয়া উচিত। আমলনামার দিকে আহবান করার অর্থ আমলের হিসাবের দিকে আহবান করা। (দেখুন: ইবনে কাসীর সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৮) আর প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দেখবে ভয়ে নতজানু(1) অবস্থায়, প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তার আমলনামা দেখতে আহবান করা হবে এবং বলা হবে, ‘তোমরা যা করতে, আজ তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেওয়া হবে।

(1) جَاثية এই শব্দ থেকে সূরাটির নামকরণ হয়েছে। আয়াতের বাহ্যিক অর্থ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কিয়ামতে প্রত্যেক সম্প্রদায় (চাহে তারা আম্বিয়াগণের অনুসারী হোক অথবা তাঁদের বিরোধী সকলেই) ভয় ও আতঙ্কে নতজানু অবস্থায় বসে থাকবে। (ফাতহুল ক্বাদীর) তারপর তাদেরকে হিসাব-নিকাশের জন্য ডাকা হবে। যেমন, আয়াতের অবশিষ্ট অংশ থেকে তা স্পষ্ট হয়।